প্রীতিলতার আপোষহীন চেতনা সিআরবি রক্ষা আন্দোলনের শক্তি

চট্টগ্রাম ব্যুরোঃ ব্রিটিশবিরোধী লড়াইয়ে শহীদ বীরকন্যা প্রীতিলতার আপোষহীন চেতনা সিআরবি রক্ষা আন্দোলনের হাতিয়ার বলেছেন সিআরবি রক্ষা মঞ্চের নেতারা। তারা বলেন, প্রাণ প্রকৃতি ধ্বংস করে শহীদদের কবর গুড়িয়ে হাসপাতাল চট্টগ্রামবাসী হতে দেবে না।

শুক্রবার (২৪ সেপ্টেম্বর) পাহাড়তলী আঞ্চলিক কমিটির উদ্যোগে সাংস্কৃতিক সমাবেশ পাহাড়তলী বাংলাদেশ রেলওয়ে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ রেলওয়ে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক এ কে এম জিয়াউল করিম। এতে আরো বক্তব্য রাখেন সিআরবি রক্ষা মঞ্চ এর সমন্বয়ক ডা. মাহফুজুর রহমান, রিজুওয়ানুর রহমান, রাজা মিয়া, এডভোকেট ভোলন ভৌমিক, সিআরবি রক্ষা মঞ্চ পাহাড়তলী আঞ্চলিক কমিটির আহবায়ক মহিন উদ্দিন,হাসান মারুফ রুমী, শফিউদ্দিন কবির আবিদ, বাংলাদেশ রেলওয়ে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র সমিতির সদস্য মাসুদ রেজা,রেল পোষ্য সোসাইটির সদস্য মোঃ সাগর।

সাংস্কৃতিক সমাবেশ পরিচালনা করেন সিআরবি রক্ষা মঞ্চ পাহাড়তলী আঞ্চলিক কমিটির সদস্য সচিব মুরাদ হাসান।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, মিথ্যা তথ্য দিয়ে সরকারকে বিভ্রান্ত করে সি আর বি এলাকা দখলের পায়তারা চলছে। রেলওয়ে হাসপাতালকে পিপিপি’র নামে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দিয়ে রপল কর্মচারীদের বিনামূল্যে চিকিৎসার সুযোগ থেকে বঞ্চিত কারার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।রেলওয়ে কর্মচারিদের উচ্ছেদ করে, শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের কবর গুড়িয়ে দিয়ে তার উপর বেসরকারি ইউনাইটেড হাসপাতাল কারার প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে।

বক্তারা বলেন, চট্টগ্রামের অন্য সব প্রাকৃতিক আধার গুলো একে একে ধ্বংস করে বাণিজ্যিক স্থাপনা গড়ে উঠেছে। সিআরবি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আধার যা এখনো অবশিষ্ট আছে। এটিকে বলা হয় চট্টগ্রামের ফুসফুস। বাংলাদেশের সংবিধান পরিবেশ আইন, সিডিএ আইন, রেলওয়ে মাস্টার প্ল্যান কোন কিছুই সিআরবিতে বাণিজ্যিক স্থাপনার অনুমতি দেয় না।

বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, রেল কর্মকর্তারা রেলওয়ে হাসপাতাল ও তৎসংলগ্ন এলাকাকে চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনের পাশে অবস্থিত বলে সরকারকে জানিয়েছেন। এভাবেই সরকারকে অন্ধকারে রাখা হয়েছে। বক্তারা অবিলম্বে ইউনাইটেড গ্রুপের সাথে সম্পাদিত চুক্তি বাতিল করে সিআরবির প্রকৃতি পরিবেশ রক্ষার দাবি জানান।

সমাবেশ শেষে একটি মিছিল শহীদ শাজাহান মাঠ হয়ে প্রীতিলতা ভাস্কর্য প্রাঙ্গণে শেষ হয়।

১৯৩২ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর বিপ্লবী প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার চট্টগ্রামের পাহাড়তলীতে ইউরোপিয়ান ক্লাব আক্রমণে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তাৎক্ষণিকভাবে পটাশিয়াম সায়ানাইড খেয়ে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

নিউজনাউ/পিপিএন/২০২১

+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
আপনার মতামত জানান