না চাইলে চাপিয়ে দেওয়া হবে না- সিআরবিতে হাসপাতাল প্রসঙ্গে রেলমন্ত্রী

চট্টগ্রাম ব্যুরোঃ চট্টগ্রামের ফুসফুস খ্যাত সিআরবিতে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বে (পিপিপি) হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজ নির্মাণের বিরোধীতায় কিছুটা অসন্তুষ্ট রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন। তিনি বলেছেন, ‘আপনারা চট্টগ্রামের মানুষ যদি কোন স্থাপনা না চান তাহলে সেটা জোর করে চাপিয়ে দেওয়ার কোন প্রয়োজন নেই।’

শুক্রবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেললাইন পরিদর্শনে এসে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে পৌঁছানোর পর রেলমন্ত্রী উপস্থিত সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে একথা বলেন।

সিআরবিতে ‘সবুজ ধ্বংস’ করে হাসপাতাল নির্মাণের বিরুদ্ধে বিগত দুইমাসের বেশি সময় ধরেই চলছে আন্দোলন। চট্টগ্রামে এসে মন্ত্রী জানালেন, হাসপাতাল ইস্যুতে আন্দোলনকারীরা যেসব অভিযোগ তুলেছেন তার ভিত্তি খতিয়ে দেখা হবে।

আন্দোলনের মুখে সিআরবিতে হাসপাতাল হবে কি’না- এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘যেভাবে আপনারা তুলে ধরছেন কিংবা হচ্ছে, আমার মনে হয় এতোটা বলার কোন কারণ নেই। আপানারা জানেন যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সবসময় জনগণের কল্যাণের জন্য কাজ করে আসছেন এবং আপনারা চট্টগ্রামের মানুষ যদি কোন স্থাপনা না চান তাহলে সেটা জোর করে চাপিয়ে দেওয়ার কোন প্রয়োজন নেই।’

সিআরবিতে হাসপাতাল নির্মাণ ইস্যুতে আন্দোলনকারীদের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘তথ্যগত কোন ভুল হচ্ছে কি’না সেটা খতিয়ে দেখার দরকার আছে। যে কথাগুলো বলে, অভিযোগ দিয়ে যে আন্দোলন করা হচ্ছে তার ভিত্তি কতটুকু তা যাচাই বাছাই করার জন্য আমাদের সময় দিতে হবে।’

আন্দোলনকারীদের অভিযোগ নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে রেলপথ মন্ত্রী বলেন, কয়েকদিন আগে আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। কিন্তু তার আগে আন্দোলন শুরু হয়ে গেছে। কি নিয়ে আন্দোলন তা নিয়ে কারও কাছে দরখাস্ত (লিখিত অভিযোগ) করা হয়নি। এখন তারা একটি অভিযোগ দিয়েছে সেটা আমরা খতিয়ে দেখবো।

চলমান আন্দোলন বিষয়ে রেলপথ মন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন বলেন, ‘চুক্তি হচ্ছে, প্রকল্প তৈরি হচ্ছে, যাচাই বাছাই হচ্ছে। ২০১৩ -১৪ সাল থেকে এটার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে তখন কেউ আপত্তি তুলেনি। এখন এটা যখন বাস্তবায়ন হচ্ছে তখনই আপত্তি তোলা হয়। আপত্তিগুলোর কারণ আমাদের জানা প্রয়োজন। একশ্রেণির মানুষ আছে, যাদের কোনো কাজই ভালো লাগে না। বিদ্যুৎ নিয়ে কত আন্দোলন হয়েছে, এখন হাসপাতাল নিয়ে হচ্ছে। তারপরও আমরা বলছি যে, আমরা খতিয়ে দেখব। এরপর আমাদের সর্বোচ্চ অভিভাবক প্রধানমন্ত্রী তো আছেন’, যোগ করেন রেলমন্ত্রী।

উল্লেখ্য, সরকারি-বেসরকারি যৌথ অংশীদারিত্বের আওতায় সিআরবিতে হাসপাতাল, মেডিকেল কলেজ ও নার্সিং ইনস্টিটিউট বাস্তবায়ন ও পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ইউনাইটেড এন্টারপ্রাইজ কোম্পানি লিমিটেড। ৪০০ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে এই প্রকল্পের জন্য। প্রকল্পের মেয়াদ ১২ বছর।

দুই বছর আগে প্রকল্পটি অনুমোদনের বিষয়টি প্রকাশ পেলে চট্টগ্রামে বিভিন্ন নাগরিক ও পেশাজীবী সংগঠন আন্দোলনে নেমেছিল। গত জুলাইয়ে গণমাধ্যমে ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হাসপাতাল নির্মাণের প্রক্রিয়া শুরুর বিষয়টি উঠে এলে আবারও সোচ্চার হন চট্টগ্রামের বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ।

নিউজনাউ/পিপিএন/২০২১

+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
আপনার মতামত জানান