চাঁদাবাজির প্রতিবাদ; বৈঠা হাতে নৌকা-নদী ছেড়ে সড়কে কর্ণফুলীর মাঝিরা

চট্টগ্রাম ব্যুরো: ঘাট ইজারা নিয়ে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সঙ্গে বিরোধের জেরে টানা ধমর্ঘটের পঞ্চম দিনে বৈঠা নিয়ে নদী ছেড়ে সড়কে এসেছে কর্ণফুলী নদীর সাম্পান মাঝিরা।

বৃহস্পতিবার (১৬ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে কর্ণফুলী নদী গবেষক অধ্যাপক ইদ্রিস আলী, সাংবাদিক আলীউর রহমান, বাংলাবাজার সাম্পান সমিতির সভাপতি লোকমান বয়াল, চর পাথরঘাটা ব্রিজঘাট সাম্পান চালক কল্যাণ সমিতির সভাপতি জাফর আহম্মদ, বাংলাবাজার সাম্পান সমিতির সাবেক সভাপতি এনামুল হক, সাধারণ সম্পাদক মো. ইউছুফ, অর্থ-সম্পাদক জসিম উদ্দীন উপস্থিত ছিলেন।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, চট্টগ্রামের আড়াই হাজার বছরের ঐতিহ্যবাহী সাম্পান কর্ণফুলী থেকে চিরতরে বিলুপ্ত করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন। গত পাঁচ দিন ধরে নিজেদের ন্যায্য দাবিতে ইছানগর-বাংলাবাজার ঘাটে ধর্মঘট করছেন তিনশতাধিক সম্পানমাঝি। মাঝিদের ন্যায্য দাবির তোয়াক্কা না করে কর্ণফুলী ছাড়ার পরামর্শ দিয়েছেন ভূসম্পদ কর্মকর্তা জসীম উদ্দিন। যে কারণে মাঝিরা বৈঠাহাতে ঘাট ছেড়ে রাস্তায় নামতে বাধ্য হয়েছে।

বক্তারা আরো বলেন, পাটনিজীবী নীতিমালা ২০০৩ ও উচ্চ আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী একজন সাম্পান মাঝি ঘাটে থাকলেও তাকে ঘাঁট ইযারা দিতে হবে। কিন্তু সিটি কর্পোরেশন মাঝিদের ঘাট ইজারা না দিয়ে স্থানীয় প্রভাবশালী কিছু ব্যক্তির মাধ্যমে গত পাঁচ মাস ধরে দুই টাকার পরিবর্তে পাঁচ টাকা টোল আদায় ও চাঁদাবাজি করে আসছে।’

এর আগে গত ১২ সেপ্টেম্বর থেকে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট পালন করে আসছেন মাঝিরা।

উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম নগরীতে কর্ণফুলী নদীর ৮টি ঘাট দিয়ে নৌকা-সাম্পানের মাধ্যমে নিয়মিত কর্ণফুলী উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের লোকজন, জাহাজ ও কলকারখানার শ্রমিক পারাপার করা হয়। মাঝিদের অভিযোগ, সিটি করপোরেশন ইছানগর-বাংলাবাজার ঘাট ইজারা না দিয়ে স্থানীয় প্রভাবশালী কিছু ব্যক্তিকে গত পাঁচ মাস ধরে প্রত্যেক যাত্রী পারাপার বাবদ দুই টাকার পরিবর্তে পাঁচ টাকা টোল আদায় ও চাঁদাবাজির সুযোগ করে দিয়েছে।

অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের কারণে যাত্রীরা কর্ণফুলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে অভিযোগ করলে গত ১২ আগস্ট উপজেলা প্রশাসন মাঝিদের পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করে। বাড়তি ভাড়া নিলে ফের অভিযান চালিয়ে জরিমানা ও কারাদণ্ড দেওয়া হবে বলে উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে। এ অবস্থায় ১২ সেপ্টেম্বর থেকে সাম্পান মাঝিরা ঘাট বন্ধ করে লাগাতার ধর্মঘট শুরু করেন।

নিউজনাউ/পিপিএন/২০২১

+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
আপনার মতামত জানান
%d bloggers like this: