ডিমেনশিয়া রোগের প্রাথমিক লক্ষণ

নিউজনাউ ডেস্ক: কিছু কিছু রোগ আমাদের মস্তিষ্ককে ঠিকমত কাজ করা থেকে বিরত রাখে। ডিমেনশিয়া এখন একটি রোগ। এ রোগে আক্রান্ত হলে ব্যক্তির বুদ্ধি, স্মৃতি ও ব্যক্তিত্ব লোপ পায়। সাধারণত, প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিরা এ রোগে আক্রান্ত হয় । এই রোগীরা হঠাৎ করেই অনেক কিছুই মনে করতে পারেন না। যখন কারো ডিমেনশিয়া হয়ে থাকে, তাদের কোন কিছু মনে রাখা, চিন্তা করা ও সঠিক কথা বলা নিয়ে সমস্যা দেখা দেয়।

ভুলে যাওয়ার সমস্যা দেখা দিলে তা আমাদের দৈনন্দিন জীবনযাপনে প্রভাব ফেলতে শুরু করে। বয়স বাড়ার সাথে সাথে সবার ডিমেনশিয়া হয়ে থাকে এমনটা কিন্তু নয়। এটি বিভিন্ন রোগের কারণেও হয়ে থাকে।। গবেষণায় দেখা গেছে যে, ডিমেনশিয়া শুরু হওয়ার আগে কিছু সূক্ষ্ম লক্ষণ দেখা দেয়। ডিমেনশিয়ার প্রাথমিক লক্ষণ জেনে নিন।

১/ ডিমেনশিয়ার প্রাথমিক বিস্তার খুবই ধীরে হয়, এমনকি মাস কিংবা বছর ধরেও হতে পারে। ভুলে যাওয়ার কারণে রোগী হতাশা, নিদ্রাহীনতা ও অন্যান্য সমস্যায় ভোগে।

২/ অক্সফোর্ড গবেষকদের গবেষণায় দেখা গেছে, চারপাশের কোলাহলে নির্দিষ্ট কারও বক্তব্য বুঝতে না পারাও ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি বোঝাতে পারে। এ ধরনের অক্ষমতা সাধারণত শ্রবণশক্তির সমস্যা হিসেবে মনে হতে পারে, কিন্তু অক্সফোর্ড গবেষকরা এটিকে ডিমেনশিয়ার লক্ষণ হিসেবেও উল্লেখ করেছেন। গবেষকদের মতে, যারা উচ্চ শব্দযুক্ত পরিবেশে শোনার জন্য চেষ্টা করে তাদের ডিমেনশিয়া হওয়ার সম্ভাবনা দ্বিগুণ হয়।

৩/ স্মৃতিশক্তি হ্রাস ডিমেনশিয়ার প্রাথমিক লক্ষণগুলির মধ্যে একটি। এই সমস্যার শুরুর দিকে আক্রান্ত ব্যক্তি বিভিন্ন জরুরি কথা বা স্মৃতি মনে করতে পারেন না। তারা এই ধরনের বিশদ বিবরণ মনে রাখার জন্য পরিবার এবং বন্ধুদের ওপর নির্ভর করে। তবে যদি কেউ মাঝে মাঝে কোনো ঘটনা ভুলে যান এবং পরে স্মরণ করেন সেটি স্মৃতিভ্রংশ হিসেবে চিহ্নিত করা হয় না। এটি কেবল একটি বয়স-সম্পর্কিত সমস্যা।

৪/ ডিমেনশিয়ার লক্ষণ দেখা দিলে এককাপ চা তৈরি করা কিংবা কম্পিউটার চালানো এমন পরিচিত কাজগুলোও করা কঠিন হয়ে পড়ে। এগুলো এমন কাজ যা আপনি বেশ কয়েক বছর ধরে করেছেন কিন্তু এই পর্যায়ে এসে তা সম্পন্ন করা চ্যালেঞ্জিং বলে মনে হতে পারে। আপনি কর্মক্ষেত্রে বা বাড়িতে এই সমস্যার সম্মুখীন হতে পারেন।

৫/ ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তি কথোপকথনে বা তার চিন্তাভাবনাকে কথায় প্রকাশ করাও কঠিন মনে করতে পারেন। তারা ভুলে যেতে পারেন যে তারা কী কথা বলছিলেন বা অপরজন কী বলছিলেন। এই অবস্থায় কথোপকথন চালিয়ে যাওয়া কঠিন হতে পারে এবং শেষ করতে আরও বেশি সময় লাগতে পারে। এমনকি অনেকে ভুল বানান শুরু করে বা ব্যাকরণগত ভুল করে, তাদের হাতের লেখা বোঝাও কঠিন হয়ে পড়ে।

৬/ ঘন ঘন মেজাজ পরিবর্তন হলে তা সহজেই ডিমেনশিয়ার লক্ষণ হিসেবে সনাক্ত করা যেতে পারে। কখনও কখনও আপনি হাসিখুশি এবং জীবন পূর্ণ অনুভব করতে পারেন। কখনো আবার সবকিছু বিষাদ লাগতে শুরু করতে পারে। ব্যক্তিত্বের মধ্যে ধীরে ধীরে পরিবর্তন আসবে, যা বেশ স্পষ্ট হবে। হতাশায় আক্রান্ত ব্যক্তিরাও এই ঝুঁকিতে থাকেন।

৭/ ধীরে ধীরে অন্যের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। পরিবার এবং বন্ধুদের ওপর নির্ভর হয়ে পড়ে পুরোপুরি।

ডিমেনশিয়ার এখন পর্যন্ত কোন নিরাময় পাওয়া যায়নি। কারো ডিমেনশিয়া হলে সেটি তার জীবনের বাকি সময় পর্যন্ত বিদ্যমান থাকবে। অল্প সময়ের জন্য কিছু ওষুধ রোগীর দৈনন্দিন জীবনকে সহজতর করার ক্ষেত্রে সাহায্য করতে পারে। কিছু গ্রুপ অ্যাক্টিভিটিও রয়েছে যেগুলোতে রোগীরা অংশ নিতে পারে যা তাদের লক্ষণগুলো নিয়ে তাদের বেঁচে থাকতে সাহায্য করতে পারে। এবং প্রতিনিয়ত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

 

নিউজনাউ/শাজা/২০২১

+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
আপনার মতামত জানান
%d bloggers like this: