পলাশবাড়ীতে ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অর্থ আত্নসাতের অভিযোগ

গাইবান্ধা প্রতিনিধি: গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার পবনাপুর ইউপি চেয়ারম্যান শাহ আলম ছোট বাবা কর্তৃক এলজিএসপি-৩ ও গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার প্রকল্পে ২০২০- ২০২১ অর্থ বছরসহ বিগত অর্থ বছরের প্রকল্পে নাম মাত্র ২০ থেকে ৩০ ভাগ কাজ করে বাকী টাকা আত্নসাতের অভিযোগ এলাকাবাসীর।

যেসব জায়গায় কাজ করা হয়েছে সেগুলো অত‍্যান্ত নিম্নমানের হওয়ায় তা ভেঙ্গে চুরে যাচ্ছে। যেমন, পলাশবাড়ী – ফকিরহাট সড়কের মালিয়ানদহ গ্রামের রাজা মেম্বারের বাড়ী পযর্ন্ত রাস্তাটি ইটের সলিং করার পর তা ভেঙ্গে পড়ে যাচ্ছে।

এদিকে,চেয়ারম‍্যানের বাড়ীতে যাওয়ার রাস্তায় ২০১৮ -২০১৯ অর্থ বছরে এলজিএসপি প্রকল্পে ২ লাখ ৩ হাজার ১ ‘শ ৩৭ টাকার ২০ ভাগ কাজ করে। যা কাজ করার কিছুদিন যেতেই ইট খসে ভেঙ্গে পড়ে যায়।

অপরদিকে ২০২০- ২০২১ ইং অর্থ বছরে এই রাস্তায় পুনরায় এলজিএসপির ৫ লাখ ৬০ হাজার,৩’ শ ৬৭ টাকার প্রকল্প ধরানো হয়। নাম দেওয়া হয় ‘ পবনাপুর মিয়াপাড়া মসজিদ হইতে শুরু করে পবনাপুর তালুকদারের বাড়ীর পার্শ্বে কবরস্থান পযর্ন্ত ইটের সলিং করণ এবং উক্ত রাস্তায় ভাঙ্গা জায়গায় প‍্যালাসাইডিং ও কালভার্ট নির্মাণ করণ।

২০১৮- ২০১৯ এ নাম দেওয়া হয়েছিল পবনাপুর সাহেব মিয়ার বাড়ী হইতে তালুকদারের বাড়ী পযর্ন্ত এইচবিবি হেয়ারিং করণ।

এদুটি প্রকল্পের সভাপতি করা হয়েছে সংরক্ষিত মহিলা সদস‍্য জুঁই বেগম এবং ২ নং ওয়ার্ডের সদস‍্য আব্দুস ছাত্তারকে।

১০ সেপ্টেম্বর শুক্রবার সকালে উক্ত রাস্তায় গিয়ে দেখাযায়, মসজিদের সামনে ডলুর বাড়ী যাওয়ার রাস্তাটির নতুন ইটের সলিংয়ের একপাশ ডেবে গেছে।
চেয়ারম্যানের বাড়ীর মোড়ে গিয়ে দেখাযায়, পুকুরের পাশদিয়ে প‍্যালাসাডিং দেওয়া হয়েছে তা অত‍্যান্ত নিম্নমানের। একারনে প‍্যালাসাইডিংয়ের পিলারের সঙ্গে চিকন রড দিয়ে টানা দেওয়া হয়েছে। সাইড দিয়ে বালুর বস্তা ফেলে পূর্বের প্রকল্পের ভেঙ্গে যাওয়া ইটের সলিং বালু দারা ঢেকে দেওয়া হয়েছে। একটু সামনে চার থেকে পাঁচ হাত পূর্বের ইটের সলিং ভেঙ্গে যাওয়া অংশ পুনরায় নতুন ইটের সলিং করণ করা হয়েছে। এভাবে দুটি প্রকল্পের ৭ লাখ ৬৩ হাজার ৫ ‘শ ৪ টাকার মাত্র ৩০ ভাগ কাজ করে বাকী টাকা প্রকল্পের সভাপতিদের সহযোগিতায় আত্নসাত করেছেন বলে এলাকাবাসীরা জানান। তারা জানান, চেয়ারম্যানের এলজিএসপি, টিআর, কাবিখা, ননওয়েজ,এডিপি প্রকল্পগুলো সঠিকভাবে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবী জানান।

জানা যায়, গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলায় বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে বাস্তবায়নধীন এলজিএসপি-৩ প্রকল্পসহ বিভিন্ন প্রকল্পের ব্যাপক অনিয়ম – দূর্নীতির মধ্যে দিয়ে চলছে বাস্তবায়ন কার্যক্রম।

অভিযোগ উঠেছে বিগত বছরগুলোর মতো ২০১৮ -১৯ এবং ২০২০-২১ অর্থ বছরেও এ উপজেলার পবনাপুর ইউনিয়নে এলজিএসপি-৩ প্রকল্পের বরাদ্দকৃত অর্থ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে। প্রকল্পগুলো সরেজমিনে স্বচক্ষে দেখার নামে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ইউনিয়ন পরিষদে বসে কাগজপত্র দেখে সবকিছুই ওকে করে যাচ্ছেন ।

স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান হিসেবে তৃণমূল পর্যায়ে ইউনিয়ন পরিষদগুলোকে শক্তিশালী করতে তৃতীয় লোকাল গভর্ন্যান্স সাপোর্ট প্রজেক্ট (এলজিএসপি-৩ ) নামে এ প্রকল্পটি কাজ করলে সুষ্ঠু মনিটরিং ব্যবস্থা না থাকায় তার বাড়ীর রাস্তায় দুটি প্রকল্প ধরিয়ে ইউনিয়ন চেয়ারম্যান শাহ আলম সরকার ছোট বাবা লুটেপুটে হরিলুট করছেন এ প্রকল্পের সিংহভাগ বরাদ্দকৃত অর্থ।

ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি প্রকল্প সরেজমিনে দেখা গেছে, কাজে বরাদ্দকৃত অর্থের ২০ থেকে ৩০ ভাগ এর বেশি অর্থ ব্যয় করা হয়নি। এলজিএসপি-৩ নামে এ প্রকল্পের মূল কথাই ছিল উন্নয়ন কর্মকান্ডে
স্থানীয় লোকজনকে সরাসরি সম্পূক্ত করা।

তাদের পরামর্শ ও চাহিদা অনুযায়ী প্রকল্প গ্রহণ করে সচ্ছতার সঙ্গে বাস্তবায়ন করা কিন্তু অত্র ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান তা না করে নিজের ইচ্ছামত প্রকল্প তৈরি করে বরাদ্দে ২০ থেকে ৩০ ভাগ কাজ করে বাদবাকি সবই কাগজপত্রে ঠিকঠাক দেখিয়ে বাস্তবায়ন দেখানো হলেও বাস্তবে বরাদ্দের সাথে মাঠ পর্যায়ের মিল নেই।

সূত্র জানায়, হাতে গোনা কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া কোথাও এলাকার লোকজনকে সম্পৃক্ত করা হয়নি। ফলে এলজিএসপির মাধ্যমে ইউনিয়ন পরিষদকে আরো গণমূখি করা ও এর সক্ষমতা বাড়ানোর সরকারের যে উদ্দেশ্য ছিল তা ভেস্তে গেছে।

বাস্তবে সরেজমিন দেখা গেছে, ইউনিয়নে অনেকগুলো কাচা রাস্তা থাকলেও জনসাধারণের আশা-আকাঙ্খা উপক্ষো করে চেয়ারম্যানের বাড়ির সামনে ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে সাহেব মিয়ার বাড়ী হইতে তালুকদারের বাড়ী পর্যন্ত এইচবিবি হিয়ারিং করণ যাহার বরাদ্দ ২লাখ ৩ হাজার ১শ ৩৭ টাকা।

প্রকল্পের সভাপতি ইউপি সদস‍্যা জুঁই বেগম। আবার ২০২০-২০২১ অর্থ বছরে এলজিএসপি-৩ প্রকল্পে পবনাপুর মিয়াপাড়া জামে মসজিদ হইতে শুরু করে পবনাপুর তালুকদারের বাড়ীর পার্শ্বে কবরস্থান পর্যন্ত ইটের সোলিং করেন এবং উক্ত রাস্তায় ভাঙ্গা জায়গায় প্যালাসাইডিং ও কালভার্ট নির্মাণ করণ যাহার বরাদ্দ ৫ লাখ ৬০ হাজার ৩শ ৬৭ টাকা।

প্রকল্পটির দুই সাইড ভেঙ্গে যাওয়ায় গাইডওয়াল দিয়ে বালুর বস্তা ফেলে তা আটকানোর চেষ্টা করা হলেও তা রক্ষা হচ্ছে না। ইট খসে খসে পড়ে যাচ্ছে। এর সভাপতি ২নং ওয়ার্ড সদস্য আঃ ছাত্তার। শুধুমাত্র বরাদ্দের অর্থ আত্মসাৎ করার উদ্দেশ্যেই একই রাস্তার দুইটি প্রকল্প। এছাড়া ইউনিয়নে টিআর কাবিখা, এডিবি, ননওয়েজ প্রকল্পগুলোতেও ব‍্যাপক অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। যাহা সরেজমিন সঠিক তদন্তকরলে বের হয়ে আসবে।

দেখাযায়, উক্ত ইউনিয়নের ফরিদপুর মৌজায় ননওয়েজের কালভার্টটি নিম্নমানের ইটদিয়ে কাজ করার সময় জন সাধারণের অভিযোগে তা বন্ধ হয়ে যায়। অভিযোগের কারণে পিআইওর নির্দেশে উপ-সহকারি প্রকৌশলী রাসেল আহম্মেদ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে সত্যতা পাওয়ায় কালভার্টটি ভেঙ্গে ফেলার নির্দেশ প্রদান করেন। কিন্তু ইউপি সদস্য আলেফা তা না করে চেয়ারম্যানের যোগসাজসে বরাদ্দের অর্থ উত্তোলন করেন।

এ ব্যাপারে ইউপি চেয়ারম্যান শাহ আলম সরকার ছোট বাবার কাছে বরাদ্দের সাথে কাজের মিল না থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি দম্ভের সাথে কথা বলতে বলেন।

 

+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
আপনার মতামত জানান
%d bloggers like this: