১৫ বন্ধ পাটকল ইজারা দিচ্ছে সরকার

নিউজনাউ ডেস্ক: বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় বন্ধ পাটকল সচল করতে ভাড়া ভিত্তিক ইজারা দিচ্ছে সরকার। বাংলাদেশ জুট মিল করপোরেশনের তত্ত্বাবধানে থাকা ২৫টি পাটকলের মধ্যে ১৫টি পাটকল ইজারা দেওয়া হবে।

এজন্য আন্তজার্তিক দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে যাতে দেশি-বিদেশি বা যৌথভাবে উভয়েই দরপত্রে অংশ নিতে পারবে। ইজারার মেয়াদ পরবর্তীতে বাড়ানো যাবে এমন শর্তে প্রথমে ৫-২০ বছরের জন্য ইজারা দেওয়া হবে।

ইজারা পেলে পাটকলের জমিতে কেবলমাত্র পাট ও পাটজাত পণ্য এবং বহুমুখী পাটজাত পণ্যের জন্যই ব্যবহার করা যাবে।

কিন্তু ইজারা দেওয়া কোনো সম্পত্তি বা এর কোনো অংশ কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান কিংবা মধ্যস্থতাকারীসহ কোনো পক্ষের কাছে বন্ধক রাখা যাবে না, সাব-লিজ বা ভাড়া দেওয়াও যাবে না।

মাসিক সমন্বয় সভায় দরপত্র আহ্বানের বিষয়ে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী, বীরপ্রতীক, বলেন, আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে দেশি-বিদেশি উদ্যোক্তারা বিজেএমসির বন্ধ মিলসমূহ দ্রুত ভাড়াভিত্তিক পদ্ধতিতে লিজ গ্রহণের সুযোগ পাবে। এইক্ষেত্রে সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগকে (এফডিআই) অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করা হবে।”

মিলগুলো বন্ধ থাকায় গত সেপ্টেম্বর থেকে স্বেচ্ছায় অবসর বা গোল্ডেন হ্যান্ডশেকে শ্রমিকদের পাওনা নগদ ও সঞ্চয়পত্রের মাধ্যমে পরিশোধ করা হচ্ছে।

মন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী বলেন, ২৫টি মিলের মধ্যে ৪টি মিলের (জাতীয়, খালিশপুর, দৌলতপুর ও কেএফডি) শ্রমিকদের বকেয়া মজুরি পরিশোধ করা হয়েছে। ৩৪,৭৫৭ স্থায়ী শ্রমিকদের ২ লাখ টাকার উর্ধ্বে পাওনার ক্ষেত্রে অর্ধেক নগদে ও অর্ধেক তিন মাস অন্তর মুনাফা ভিত্তিক সঞ্চয়পত্র ইস্যুর মাধ্যমে পরিশোধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”

বন্ধ থাকা এসব জুটমিলের মধ্যে ১৭টি ইজারা দিবে সরকার। এসব মিলগুলোর ৫টি চট্টগ্রাম অঞ্চলের, ঢাকা অঞ্চলের ৪টি ও খুলনা অঞ্চলের ৮টি।

 

বিজেএমসির তথ্যানুযায়ী, ঢাকা জোনে পাটকল ৭টি। যার মধ্যে চারটি ইজারা দেওয়া হবে। মিলগুলো হচ্ছে: ইউএমসি জুট মিলস, নরসিংদী; বাংলাদেশ জুট মিলস, ঘোড়াশাল’ রাজশাহী জুট মিলস এবং জাতীয় জুট মিলস, সিরাজগঞ্জ।

চট্টগ্রাম জোনে মিল ১০টি, যার মধ্যে পাঁচটি ইজারা দেওয়া হবে।মিলগুলো হচ্ছে- হাফিজ জুট মিলস, এম.এম জুট মিলস, সীতাকুণ্ডের আর.আর জুট মিলস; গুল আহমেদ জুট মিলস, কুমিরা; কেএফডি জুট মিলস, রাঙ্গুনিয়া।

খুলনা অঞ্চলের আটটি মিলই ইজারা দেওয়া হবে। মিলগুলো হলো: প্লাটিনাম জুবিলি জুট মিলস, ক্রিসেন্ট জুট মিলস, ইস্টার্ন জুট মিলস, দৌলতপুর জুট মিলস, স্টার জুট মিলস, যশোর জুট ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড এবং কারপেটিং জুট মিলস লিমিটেড।

রাষ্ট্রায়াত্ত্ব পাটকলসমূহে কাঁচাপাট প্রক্রিয়াজাত করণের মাধ্যমে পাটজাত দ্রব্য উৎপাদিত হয়। বর্তমানে হেসিয়ান, স্যাকিং, সিবিসি, ব্লাংকেট, এবিসি (জিওজুট), পাটের সূতা, ডাইভারসিফাইড জুট ব্যাগ ও কাপড় উৎপাদিত হয়।

পাটের বহুমুখী পণ্য যেমন- ফাইল কভার, ফ্যাশন ব্যাগ, স্কুল ব্যাগ, লেডিস হ্যান্ড ব্যাগ,সেভিং কিটস, নার্সারি পট, নার্সারি সিট, জুট টেপ, কুশন কাভার, পর্দা ও কাপড়, রঙ্গীন কাপড় ছাড়াও রটপ্রুফ পাটের কাপড় এবং কাপড় দ্বারা রটপ্রুফ পাটের কাপড়ের ব্যাগ ইত্যাদি উৎপাদিত হয়।

বিজেএমসির সচিব এ, এফ, এম, এহতেশামূল হক বলেন, “পাট কলগুলোর উন্নয়নের জন্যই মূলত ইজারা দেওয়া হচ্ছে। বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তারা যারা বিনিয়োগ করবে, তারা নতুন নতুন পণ্য আনবে। পাটজাত পণ্যে বৈচিত্র্যায়ন করবে। প্রতিযোগিতা বাড়বে।”

অনিরীক্ষিত হিসাব অনুযায়ী, ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে বিজেএমসির পরিচালিত পাটকলে লোকসান ৫৭৩.৫৮ কোটি টাকা। আগের বছর বা ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরে লোকসান ছিল ৪৯৭.১৮ কোটি টাকা। সর্বশেষ ২০১৯-২০২০ অর্থবছরের আয়-ব্যয়ের হিসাব পাওয়া যায়নি।২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে হিসাব অনুযায়ী, সরকারি পাট কলগুলোতে মোট সম্পদ ২৫,৩৫২.৪৬ কোটি টাকা। সবচেয়ে বেশি সম্পদ রয়েছে চট্টগ্রাম অঞ্চলের জুট মিলগুলোতে।

পাটকলে স্থায়ী সম্পদের মূল্য ১৪,৩২৯.৯৮ কোটি টাকা। স্থায়ী সম্পদ হচ্ছে- ভূমি, ভূমি উন্নয়ন, দালান কোঠা ও অন্যান্য, স্থাপনা ও যন্ত্রপাতি, আসবাবপত্র ও সরঞ্জামাদি, পরিবহন ও মোটরযান এবং অন্যান্য সম্পদ।পুঞ্জীভূত অবচয় বাদ দিয়ে নিট স্থায়ী সম্পদের পরিমাণ ১২,২৮২.৮২ কোটি টাকা। নিট স্থায়ী সম্পদ বেশি ঢাকা অঞ্চলের জুট মিলে।মিলগুলোর দীর্ঘমেয়াদী ঋণ রয়েছে ৮৩৫৬.৩৬ কোটি টাকা, যাতে সবচেয়ে বেশি ঋণ খুলনা অঞ্চলের মিলগুলোতে। মোট চলতি দেনা ২৩৮৭.৮৯ কোটি টাকা, যাতে সবচেয়ে বেশি চলতি দেনায় রয়েছে খুলনা অঞ্চলের মিলে।

পাট কলগুলো লিজ পাওয়ার ক্ষেত্রে কিছু শর্ত দিয়েছে বিজেএমসি। শতভাগ দেশী ও বিদেশি মালিকানা এবং দেশি-বিদেশি উদ্যোক্তারা যৌথভাবে পাটকল ইজারায় এক্সপ্রেস অব ইন্টারেস্ট (ইওআই) দেখাতে পারবে।

১/একজন ব্যক্তি একের অধিক মিল লিজ পাওয়ার জন্য দরপত্র জমা দিতে পারবে। আগ্রহীরা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দাখিলের পর ১০০ পয়েন্টে চূড়ান্ত মূল্যায়ন হবে।

২/ ইজারা পাওয়ার পর তাদের নিজস্ব নামে কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। সেইসঙ্গে লিজের পুরো মেয়াদেই মাসিক ভাড়া দিতে হবে।

৩/ চুক্তি স্বাক্ষরের তারিখের দশম মাস থেকে মাসিক ভাড়া দিতে হবে। পাঁচ বছর পর থেকে ভাড়া ১০ শতাংশ বাড়বে।

৪/ ইজারাদার বা সরকার লিজের অধীনে থাকা মিলগুলির কোনো কার্যক্রমে অংশে নেবে না। পাশাপাশি কোনো লাভ বা ক্ষতির অংশীদারও হবে না।

+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
আপনার মতামত জানান
%d bloggers like this: