টাঙ্গাইলে অর্ধশতাধিক স্কুল মাঠে বর্ষার পানি!

পাঠদান অনিশ্চিত

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলে যমুনা ও অভ্যন্তরীণ নদীগুলোর পানি কমতে থাকায় জেলার সাতটি উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতির ধীরে ধীরে উন্নতি হচ্ছে। বর্তমানে জেলার ৩৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ২৭টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণীকক্ষ, মাঠ ও বিদ্যালয়ে যাওয়ার রাস্তায় বন্যার পানি রয়েছে। এ ছাড়া পাঁচটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়কে আশ্রয় কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে এসব বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর ক্লাসে ফেরায় অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

জেলা শিক্ষা বিভাগ সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের বন্যায় জেলার এক হাজার ৬২৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৩৬৬টি বিদ্যালয়ে পানি প্রবেশ করে। ৩৪টি বিদ্যালয়ের শ্রেণীকক্ষ ও মাঠে এখনো পানি রয়েছে। ৬৯৬টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৮৭টি বন্যা কবলিত হয়েছে। ২৭টি বিদ্যালয়ের শ্রেণীকক্ষে এখনো রয়েছে বন্যার পানি। এ ছাড়া পাঁচটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়কে আশ্রয় কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করায় পাঠদান যোগ্য নয়।

সরেজমিনে জানা যায়, করোনার কারণে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর স্কুল খোলার আনন্দে ভাসছে শিক্ষার্থীরা। এখনো জেলার প্লাবিত স্কুলগুলো পাঠদানের পরিস্থিতি না থাকলেও কর্তৃপক্ষ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ সেরে রাখছেন। তারা ১২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ক্লাসরুম থেকে পানি নেমে যাওয়ার আশা করছেন।

সরেজমিনে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার মগড়া ইউনিয়নের অয়নাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে এখনো বন্যার পানি প্রবাহিত হচ্ছে। স্কুলে যাতায়াতের রাস্তাটি পানির নিচে। বিদ্যালয়ের তিনটি ভবনের মধ্যে দুটির শ্রেণীকক্ষে পানি রয়েছে। বেঞ্চগুলোও পানির নিচে। একই উপজেলার গালারচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েরও একই অবস্থা। এ বিদ্যালয়ের মাঠে এখনো হাঁটু পানি। পশ্চিম দিকে একটি ভবনের প্রায় অর্ধাংশ পানির নিচে।

স্থানীয়রা জানায়, বন্যার পানি নেমে না গেলে ছোট ছোট শিশুদের স্কুলে পাঠানো ঠিক হবে না। মাঠে এখনো পানি রয়েছে। আগামী ১২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে পানি নেমে যাবে কি-না তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। সদর উপজেলার মগড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠেও পানি জমে রয়েছে। মগড়া ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ের মূল ভবনের সামনে জাল দিয়ে মাছ ধরছে স্থানীয়রা। বিদ্যালয়ের পুরো মাঠ পানির নিচে।

কালিহাতী উপজেলার দশকিয়া ইউনিয়নের হাতিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠ থেকে পানি নেমে গেলেও কাঁদায় পরিপূর্ণ। এই স্কুলের প্রধান শিক্ষক শাহনাজ পারভীন জানান, স্কুলের মাঠ থেকে বন্যার পানি নেমে গেছে। তবে, বেশির ভাগ শিক্ষার্থীরা নদী পাড় হয়ে স্কুলে আসে। এ ছাড়া স্কুলে আসার রাস্তাটি এখনো পানি নিচে রয়েছে। তারপরও স্কুল খোলার সকল প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি শতভাগ নিশ্চিত করতে অভিভাবকদের সঙ্গে বৈঠকও করছেন তারা।

টাঙ্গাইল জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী আহসান জানান, সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার সকল প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। বন্যা কবলিত স্কুলগুলো নিয়েও কাজ করা হচ্ছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন ও স্থানীয় ব্যক্তিদের নিয়ে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে। যে কোনো উপায়ে ১২ সেপ্টেম্বর শতভাগ স্কুল খোলা নিশ্চিতে চেষ্টা করা হচ্ছে।

টাঙ্গাইল জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা লায়লা খানম নিউজনাউকে জানান, বন্যা কবলিত স্কুলগুলো খোলা নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। এ ছাড়া যেসব এলাকার স্কুলগুলো থেকে বন্যার পানি নেমে গেছে সেগুলোতে নির্দেশনা অনুযায়ী ক্লাস চলবে।

আগামীকাল ১২ সেপ্টেম্বর জেলার সবগুলো বিদ্যালয়ে পাঠদান কার্যক্রম শুরু করা যাবে বলে আশা ব্যক্ত করেন তিনি।

নিউজনাউ/আরবি/২০২১

+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
আপনার মতামত জানান
%d bloggers like this: