মিনুর তিন ‘বৈধ’ স্বামী, অবশেষে স্বামীর মামলাতেই হলেন আসামী

চট্টগ্রাম ব্যুরোঃ তার নাম মিনু আক্তার হলেও কখনো হয়েছেন সুমি কখনো বা রোমানা। সাপের চামড়া পালটানোর মতো করে নাম পরিবর্তন করে মিনু মূলত টার্গেট করতেন ধনীদের। এরপর করতেন বিয়ে। কিন্তু বিয়ের পর পাল্টে যান বহুরূপী মিনু। নানা বাহানা, হুমকি-ধমকি ও মামলার ভয়-ভীতি দেখিয়ে আদায় করেন অর্থ-সম্পদ। তার তিনটি বৈধ বিয়ের খবর জানা গেছে।

তিনজন বৈধ স্বামীর পরিচয় পাওয়া গেলেও রয়েছে আরও অনেক স্বামী। একাধিক প্রতিষ্ঠানে ছদ্দনাম এবং ভিন্ন ভিন্ন নামের সার্টিফিকেট ব্যবহার করে একাধিক চাকরিও করেছেন তিনি অনায়াসে। বহুরূপী প্রতারক এই নারীর বাড়ি খাগড়াছড়ির বাঘাইছড়ি উপজেলার মারিশ্যা গ্রামে। তবে বর্তমানে থাকছেন গাজীপুরে।

বুধবার (৮ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মেহনাজ রহমানের আদালতে এই বহুরূপী প্রতারক নারীর বিরুদ্ধে মামলা করেন প্রবাসী স্বামী ইমাম হোসেন। কাতার প্রবাসী এই যুবক জোরারগঞ্জের দূর্গাপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা পেশায় একজন গাড়ি চালক। মামলায় মিনু আক্তারের সাথে মোস্তফা জামিল (৩৭) ও  রাশেদ (৩৯) নামে আরও দুইজনকে আসামি করা হয়েছে।

জানা গেছে, কাতারপ্রবাসী জোরারগঞ্জ থানার ৮ নম্বর দুর্গাপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের নুর আলমের ছেলে ইমাম হোসেনের সঙ্গে ফেসুবকে পরিচয় হয় মিনু আক্তারের (৩৬)। পরে মেসেঞ্জারে গড়ে উঠে প্রেমের সম্পর্ক। অবশেষে সেই প্রেম গড়ায় বিয়েতে।

মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি ইমাম হোসেন ১০ লাখ টাকা দেনমোহরে মিনুকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর ইমাম জানতে পারেন তাঁর স্ত্রী মিনু বিভিন্ন নামে একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থসম্পদ হাতিয়ে নিয়েছেন। এসব জেনেও ইমাম তাঁর স্ত্রীকে বারবার সংসারে ফেরানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন।

এরপর ২৬ ফেব্রুয়ারি ইমাম কাতার চলে যাওয়ার পর মিনু বিভিন্ন সিম ব্যবহার করে একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করে প্রতারণা করতে থাকেন। অনেকের কাছ থেকে হাতিয়ে নেন টাকা।

২০২০ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি ইমাম হোসেনকে না জানিয়ে ঢাকা গাজীপুর টঙ্গী আলম মার্কেটের দত্তপাড়া এলাকার এসএমএ আউয়ালের ছেলে মোস্তফা জামিলকে (৩৭) বিয়ে করেন মিনু।

দেশের ফেরার পর ২০২১ সালে ২০ আগস্ট ইমাম হোসেন স্ত্রী মিনু আক্তারকে বিয়ের কথা জিজ্ঞেস করলে তাঁকে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়। পরে ইমাম হোসেন নিরুপায় হয়ে চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মিনু আক্তার, মোস্তাফা জামিল, রাশেদসহ তিনজনকে আসামী করে প্রতারণা করেন।

মাম হোসেনের আইনজীবী গোলাম মাওলা মুরাদ বলেন, ‘মিনু আক্তারের প্রতারণায় আমার মক্কেল আজ সর্বশান্ত। ওই নারীর চার চারটি ভিন্ন নামের পরিচয়পত্র, তিনটি কাবিননামা এবং অন্যান্য পুরুষের সাথে বিয়ে ছাড়া সম্পর্কের প্রমাণ আছে। এমন প্রতাকের কঠিন শাস্তি চাই আমরা।’

আদালতে মিনু আক্তারসহ এ চক্রের তিন সদস্যের নামে মামলা করা হয়েছে। মামলাটি এজাহার হিসেবে গ্রহণ করার জন্য বায়েজিদ বোস্তামি থানাকে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন বলেও জানান আইনজীবী গোলাম মাওলা মুরাদ।

নিউজনাউ/পিপিএন/২০২১

+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
আপনার মতামত জানান
%d bloggers like this: