আফগানিস্তানের নতুন সরকার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ

নিউজনাউ ডেস্ক: আফগানিস্তানে নতুন তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে উদ্বেগে আছে যুক্তরাষ্ট্র। কারণ- নতুন সরকারে এমন একাধিক ব্যক্তি আছেন, যারা মার্কিন বাহিনীর ওপর হামলার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত বা নির্দেশদাতা।

মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ‘আফগানিস্তানে নতুন সরকার গঠনের ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র উদ্বিগ্ন। কারণ, এই সরকারের বিভিন্ন পদে যাদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, তারা হয় তালেবান, নয়তো তাদের ঘনিষ্ঠ মিত্র সংগঠনসমূহের প্রতিনিধি এবং মন্ত্রীসভার কোনো পদে নারীদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।’

‘আমাদের উদ্বেগের আর একটি কারণ হলো- আফগানিস্তানে সদ্য গঠিত হওয়া সরকারে এমন কয়েকজন ব্যক্তি আছেন, যারা ইতপূর্বে দেশটিতে মার্কিন বাহিনীর ওপর হামলার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। তাদের নির্দেশেই ওই হামলাগুলো হয়েছিল।’

‘তালেবান বাহিনী এর আগে আমাদের কথা দিয়েছিল, আফগানিস্তানের ভূমি অন্য কোনো দেশে সন্ত্রাসবাদ ছড়ানোর কাজে ব্যবহৃত হবে না। আমরা আগেও বলেছি, আবারও বলছি- যুক্তরাষ্ট্র তালেবানদের কাজ দেখেই তাদের বিচার করবে, তাদের কথা বা মৌখিক প্রতিশ্রুতি দিয়ে নয়।’

‘আর একটি সতর্কবার্তা আমরা তাদের দিতে চাই- বিশ্ব নিবিড়ভাবে আফগানিস্তানের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।’

মঙ্গলবার ৫ সদস্য বিশিষ্ট তত্ত্বাবধায়ক সরকার ঘোষণা করেছে তালেবান। সরকারের প্রধান হিসেবে নেতৃত্ব দিচ্ছেন তালেবান বাহিনীর শীর্ষ ধর্মীয় নেতা হাইবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা। অন্যান্য নির্বাহী সদস্যের মধ্যে রয়েছেন- মোল্লা মোহাম্মদ হাসান আখুন্দ (প্রধানমন্ত্রী), সিরাজউদ্দিন হাক্কানি (স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী), আব্দুল গনি বারাদার (উপ প্রধানমন্ত্রী), এবং মোহাম্মদ ইয়াকুব (প্রতিরক্ষামন্ত্রী)।

এই নির্বাহী সদস্যদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ হাসান আখুন্দ জাতিসংঘের কালো তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী; এবং অপর সদস্য ও নতুন সরকারের বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সিরাজউদ্দিন হাক্কানি মার্কিন গোয়েন্দাসংস্থা ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (এফবিআই) ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ তালিকাভুক্ত আসামি।

হাক্কানির মাথার দাম ৫০ লাখ ডলার ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এফবিআইয়ের মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকায় মঙ্গলবারও তার নাম দেখা গেছে।

২০০১ সালে মার্কিন ন্যাটো অভিযানে ক্ষমতাচ্যুত তালেবান ২০ বছর পর ফের সরকারগঠন করল আফগানিস্তানে। সরকার গঠনের তিন সপ্তাহ আগে, গত ১৫ আগস্ট কাবুল দখল করে তালেবান। তার আগে প্রায় তিন মাসে আফগানিস্তানের ৩৪ টি প্রদেশের ৩৩টিই নিজেদের দখলে আনতে সক্ষম হয়েছিল কট্টর ইসলামপন্থি এই গোষ্ঠী।

তালেবান নেতারা আগে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, আফগানিস্তানে একটি অন্তর্ভু্ক্তিমূলক সরকার গঠন করা হবে এবং তাতে সব শ্রেণী ও সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব থাকবে; কিন্তু তাদের সদ্য গঠিত সরকারে সেই প্রতিশ্রুতির কোনো প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। এমনকি, মন্ত্রিসভায় কোনো নারী সদস্যেরও স্থান হয়নি।

মঙ্গলবার আফগানিস্তানকে ‘ইসলামিক আমিরাত’ নামে ঘোষণা করেছে তালেবান এবং দেশটির বর্তমান সরকারপ্রধান আখুন্দজাদা ঘোষণা করেছেন, এখন থেকে আফগানিস্তানের সরকারি শাসনব্যবস্থা ও জনজীবন সম্পূর্ণভাবে ইসলামি শরিয়া অনুসারে চলবে।

এদিকে, একই দিন আফগানিস্তানের পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর হেরাতে তালেবানবিরোধী এক মিছিলে গুলি চালানো হয়েছে। এতে নিহত হয়েছেন কমপক্ষে তিনজন। স্বাস্থ্যকর্মীরা জানিয়েছেন, গুলিবিদ্ধ হয়েই মৃত্যু হয়েছে তাদের।

তাছাড়া রাজধানী কাবুলে বের হওয়া একটি বিক্ষোভ মিছিল ফাঁকা গুলি ছুড়ে ছত্রভঙ্গ করে দিয়েছে তালেবান সেনারা। শতাধিক বিক্ষোভকারী সেই মিছিলে অংশ নিয়েছিলেন বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে বিবিসি।

সূত্র: বিবিসি

নিউজনাউ/আরবি/২০২১

+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
আপনার মতামত জানান
%d bloggers like this: