পরিষদে অনুপস্থিত চার বছর, তবু তিনি মেম্বার!

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার দিঘলকান্দি ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য মো. মনিরুজ্জামান মনির চার বছর ধরে ইউনিয়ন পরিষদের সভায় অনুপস্থিত। তবুও টিকে আছে তাঁর ইউপি সদস্যপদ। তবে সভায় না গেলেও প্যানেল চেয়ারম্যান নির্বাচনে দিয়েছেন ভোট। সভায় অনুপস্থিতির বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানিয়ে চিঠি দিলেও স্বপদে বহাল রয়েছেন তিনি। দিঘলকান্দি ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. ছালামত হোসেন বিষয়টি স্বীকার করলেও এ বিষয়ে কোনো সদোত্তর দিতে পারেননি।

দিঘলকান্দি ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের সভায় তিনি দীর্ঘদিন যোগ দেননি। তাঁর বিষয়ে প্রয়াত চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম ২০১৯ সালে লিখিতভাবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানিয়েছিলেন।

জানা যায়, ২০১৭ সালের ৫ জুন মাদকদ্রব্য ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের কিছুদিন পর জামিনে বের হয়েই এলাকা ছাড়েন তিনি। তার পর থেকে তিনি নিখোঁজ। শুরুতে তাঁর স্ত্রী জানিয়েছিলেন যে মনির বিদেশে চলে গেছেন। বর্তমানে তিনি এলাকাতেই আছেন বলে জানা গেছে। জামিন পাওয়ার পর থেকে তিনি ইউনিয়ন পরিষদের কোনো সভায় উপস্থিত হচ্ছেন না।

২০১৭ সালের আগস্ট মাসে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে তিনি সর্বশেষ ভাতা উত্তোলন করেন। তাঁর অনুপস্থিতির বিষয়টি ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ইউনিয়ন পরিষদের প্রয়াত চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম লিখিতভাবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানান। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে সে সময় মনিরের সদস্যপদ শূন্য দেখানোর জন্য জেলা প্রশাসনের স্থানীয় সরকার বিভাগে চিঠি দেওয়া হয়।

স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইনের বিধিমালা অনুযায়ী পরপর তিনটি সভায় উপস্থিত না থাকলে সদস্যপদ বাতিল হয়ে যায়। অথচ দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে পরিষদের সভায় অনুপস্থিত থাকলেও মনিরের সদস্যপদ টিকে আছে। সদস্যপদ যে টিকে আছে তার বড় প্রমাণ হলো গত ২৬ জুলাই প্যানেল চেয়ারম্যান নির্বাচনে তিনি ভোট দিয়েছেন।

ঘাটাইল থানা সূত্রে জানা যায়, মনির একজন মাদক ব্যবসায়ী। তাঁর বিরুদ্ধে ঘাটাইল থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে কমপক্ষে ১২টি মামলা আছে। তাঁর নিজ গ্রাম নাটশালায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, একসময়ের দরিদ্র মনির বর্তমানে প্রচুর অর্থবিত্তের মালিক হয়েছেন। এলাকাবাসী জানান, মাদক ব্যবসা করে মনির বিপুল অর্থের মালিক হয়েছেন।

মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে মনিরুজ্জামান মনির জানান, উপজেলা প্রশাসন তাঁর ভাতা বন্ধ করে দেওয়ার কারণে তিনি ইউনিয়ন পরিষদের সভায় যাচ্ছেন না। পরিষদের সভায় অনুপস্থিত থেকেও কীভাবে তিনি প্যানেল চেয়ারম্যান নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন তার জবাব দেননি।

নিউজনাউ/আরবি/২০২১

+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
আপনার মতামত জানান
%d bloggers like this: