ইয়েমেনে সরকারি বাহিনী ও হুতি বিদ্রোহীদের সংঘর্ষে নিহত ৬৫

নিউজনাউ ডেস্ক: ইয়েমেনের উত্তরাঞ্চলে সরকারের শেষ ঘাঁটি মারিব শহরে হুতি বিদ্রোহী এবং সরকারি বাহিনীর লড়াইয়ে উভয়পক্ষের ৬৫ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও অনেকে। বৃহস্পতিবার দেশটির এক সামরিক কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন।

এএফপি জানিয়েছে, ইরান সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা কৌশলগত এই শহরটির দক্ষিণে সরকারপন্থী অবস্থান লক্ষ্য করে প্রথমে হামলা চালায়। এরপর বিমান হামলা চালায় সরকার সমর্থিত জোট বাহিনী। তারপরও বিদ্রোহীরা অগ্রগতি করতে সমর্থ হয়েছে।

ওই অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার জন্য শহরটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়া সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। গত জুনের পর মারিবে এটিই বিদ্রোহী হুতিদের প্রথম বড় ধরনের কোনো আক্রমণ। জুনে মারিবে টানা তিন দিনের এক সংঘর্ষে উভয়পক্ষের মোট ১১১ জন যোদ্ধা নিহত হয়েছিলেন।

ইয়েমেন সরকারের এক সামরিক কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেছেন, ‌‘গত দুই দিনের সংঘর্ষে সরকার সমর্থিত বাহিনীর ২২ জন নিহত এবং ৫০ জন আহত হয়েছেন। অপরদিকে ওই সংঘর্ষে বিদ্রোহীগোষ্ঠী হুতির ৪৩ জন নিহত হয়েছেন।’

গত রবিবার দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত আল-আনাদ নামে ইয়েমেনের সবচেয়ে বড় বিমানঘাঁটিতে হুতি বিদ্রোহীরা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালালে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের অন্তত ৩০ সেনা নিহত হন। হামলায় আহত হন জোটের আরও ৬০ সেনা।

সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট সমর্থিত ইয়েমেনের সরকার এবং হুতি বিদ্রোহীরা ২০১৪ সাল থেকে যুদ্ধে লিপ্ত। ওই সময়ে হুতি বিদ্রোহীরা রাজধানী সানা দখলে নিলে সরকারপতন হয়। পালিয়ে সৌদি যান প্রেসিডেন্ট আবদ-রাব্বু মানসুর হাদি। শুরু হয় যুদ্ধ।

এই যুদ্ধে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। ইয়েমেনের ৮০ শতাংশ মানুষ এখন সাহায্যের ওপর নির্ভরশীল। দুর্ভিক্ষের শিকার লাখ লাখ মানুষ। জাতিসংঘ ইয়েমেনের এমন পরিস্থিতিকে বিশ্বের সবচেয়ে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় বলে অভিহিত করেছে।

জাতিসংঘ এবং ওয়াশিংটন যুদ্ধ বন্ধের জন্য তাগাদা দিলেও হুতি বিদ্রোহীরা যুদ্ধবিরতি বা আলোচনার আগে ২০১৬ সাল থেকে সৌদি অবরোধের অধীনে বন্ধ সানা বিমানবন্দর পুনরায় চালু করার দাবি করেছে। তবে এ নিয়ে কোনো সমঝোতা এখনো হয়নি।

 

+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
আপনার মতামত জানান