খুশকি দূর করার উপায়

নিউজনাউ ডেস্ক: খুশকিকে মেডিকেলের ভাষায় বলা হয় স্যাবোরিক ডার্মাটাইটিস। চুলের খুশকি নিয়ন্ত্রণে রাখাটা অনেকের কাছেই কঠিন মনে হয়। চুল পড়ার একটি প্রধান কারণ খুশকি। খুশকি হতে পারে ফাংগাসের কারণে, পাশাপাশি কিছু হরমোনাল কারণে, এছাড়া ঋতু পরিবর্তন, যেমন ধরুন শীতের ঠাণ্ডা আবহাওয়ায় এর প্রকোপ বেড়ে যায়। ব্রণের যে কারণ তার সাথে খুশকির মিল আছে। মাথার ত্বকের অতিরিক্ত তেল নিঃসরণের সাথে ময়লা ও বিভিন্ন ফাংগাস জমে খুশকি হচ্ছে। ছোট বড় সবারই খুশকি সমস্যা হতে পারে। যারা অতিরিক্ত তেল ব্যবহার করেন মাথায় কিংবা বাইরে বেশি ঘোরাঘুরি করেন কিন্তু গোসল ঠিক মতো করছেন না। আবার ধূলাবালির মধ্যে কাজ করছেন নিয়মিত, প্রচুর ঘামছেন,তাদের এই সমস্যা বেশি হয়। আজ জানিয়ে দিবো খুশকি দূর করার কিছু উপায়।

১/ দুই টেবিল-চামচ লেবুর রস নিয়ে পুরো মাথায় চুলের গোড়ায় ঘষে ঘষে মাখুন। পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এবার এক টেবিল-চামচ লেবুর রস নিয়ে এক কাপ পানিতে মেশান। লেবুর রস মেশানো পানি দিয়ে মাথা ধুয়ে ফেলুন। খুশকি না কমা পর্যন্ত প্রতিদিন এভাবে লেবু চিকিৎসা চালিয়ে দেখতে পারেন।

২/ খুশকির সমস্যা দূর করতে অ্যাপল সাইডার ভিনিগার ব্যবহার করতে পারেন। সমপরিমাণ ভিনিগার ও পানি একসঙ্গে মিশিয়ে মাথার ত্বকে মালিশ করুন। ১৫ মিনিট অপেক্ষা করে তা ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে দুবারের বেশি এটা ব্যবহার করা যাবে না।

৩/ দইয়ের মাস্ক চুলের নানান সমস্যার সমাধানে সহায়তা করে। চুলের যত্নে এটা সহজ ঘরোয়া সমাধান। একটা বাটিতে টক দই নিয়ে তা চুলে ব্যবহার করুন। মাস্কটি শুকানোর জন্য এক ঘণ্টা অপেক্ষা করে শ্যাম্পু করে ফেলুন।

৪/ রসুন উচ্চ মাত্রায় ফাঙ্গাস-রোধী উপাদান সমৃদ্ধ। যা জীবাণুর বিরুদ্ধে কাজ করে। দুইটা রসুন পিষে তাতে মধু যোগ করুন। মিশ্রণটি চুলে মেখে ১৫ মিনিট অপেক্ষা করে কুসুম গরম পানিতে শ্যাম্পু করে নিন।

৫/ খুশকির সমস্যা দূর করতে অলিভ অয়েলের ব্যবহার নানা দেশে খুবই জনপ্রিয়। নিয়মিত জলপাই তেল ব্যবহারে খুশকি কমে। কারণ জলপাই তেল প্রাকৃতিকভাবেই ভালো ময়েশ্চারাইজার এবং ক্লিনজার হিসেবে কাজ করে বা ত্বকের আর্দ্রতা ও পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করে।

৬/ গ্রিন টি ব্যাক্টেরিয়া-রোধী উপাদান সমৃদ্ধ এবং এটা মাথার ত্বকের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়তা করে। তাই খুশকি কমাতে গ্রিন টি ব্যবহার করতে পারেন। এক কাপ গরম পানিতে দুইটা টি ব্যাগ ২০ মিনিট ধরে ডুবিয়ে রাখুন। ঠাণ্ডা হয়ে আসলে তা মাথার ত্বকে ব্যবহার করে ৩০ মিনিট অপেক্ষা করুন। এরপর ঠাণ্ডা পানি দিয়ে তা চুল ধুয়ে নিন।

৭/ চুল আচঁড়াতে ‘ব্রাশের’ পরিবর্তে চিরুনি ব্যবহার করুন। মাথার ত্বক পরিষ্কার রাখতে সপ্তাহে দুবার শ্যাম্পু ব্যবহার করা উচিত।

৮/ সাধারণ নারকেল তেলের সঙ্গে মেথি মিশিয়ে কয়েকদিন বোতলে রেখে দিন। নিয়মিত এই মেথি মেশানো তেল মাখুন মাথায়। রাতে মেখে সকালে ধুয়ে ফেলুন। এভাবে নিয়মিত ব্যবহারে মাথার চুল ও ত্বক দুইই ভালো থাকবে। খুশকি থেকেও রেহাই পাবেন।

৯/ হালকা পানিতে মাথা ভিজিয়ে নিয়ে খানিকটা বেকিং সোডা পুরো মাথায় মেখে নিন। ভালো করে ঘষে ঘষে শ্যাম্পু না করে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এটা মাথার খুলিতে থাকা ছত্রাক দমন করে প্রথমদিকে ত্বককে অতিরিক্ত শুষ্ক করে ফেলতে পারে। কিন্তু অল্পদিনেই ত্বকে স্বাভাবিক তৈলাক্ত অবস্থা ফিরে আসবে। কিন্তু এ সময়ে আপনি খুশকি থেকে মুক্তি পাবেন।

১০/ এলোভেরাতে আছে ছত্রাকবিরোধী ও জীবানুনাশক গুণাবলি যা মাথাকে বিভিন্ন জীবানু থেকে রক্ষা করতে পারে ও খুশকি দূরীকরণের সাহায্য করে। এলোভেরার রস নিয়ে সেটা মাথায় ভালভাবে লাগাবেন। তার ৩০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলবেন। এলোভেরার সাথে ক্যাস্টর অয়েল ব্যবহার করতে পারেন। এটা সপ্তাহে ২-৩ দিন ব্যবহার করবেন। আবার এলোভেরা সাথে তেল এর পরিবর্তে লেবুর রস, পিয়াজের রস দিয়ে মিশ্রণ তৈরী করে ব্যবহার করলে মাথায় ত্বক পুষ্টি পাবে, ফলে চুল পড়া ও খুশকি দূর করতে সাহায্য করবে।

+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
আপনার মতামত জানান
%d bloggers like this: