২১ আগস্টের সত্যটা আমাকে বলতেই হবে: ক্যাপ্টেন শামস

নিউজনাউ ডেস্ক: ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে আলামত সংরক্ষণের প্রস্তাব দেন সেনাবাহিনীর বোম ডিসপোজাল ইউনিটের তৎকালীন অধিনায়ক ক্যাপ্টেন শামসুদ্দিন আহমদ শামস। কিন্তু বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরের নির্দেশেই আলামত নষ্ট করে রেখে যায় বোম ডিসপোজাল ইউনিট। এর তিন দিন পর শামসুদ্দিন আহমদ শামসের চট্টগ্রামের বাসায় ও তার এলাকায় খোঁজ নিতে যায় রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআই।

ঘটনার পাঁচ মাস পর পদোন্নতির বদলে তাকে বদলি করা হলো নাটোরের ইঞ্জিনিয়ারিং কোরের একটি সেন্টারে। কোন কারণ দর্শানো ছাড়া তাকে চাকরিচ্যুত করা হলো। ঘটনার ১৪ বছর পর এই মামলার রায়ে সন্তুষ্টি জানান ক্যাপ্টেন শামস।

নিউজনাউয়ের সাথে একান্ত আলাপে ক্যাপ্টেন শামস জানান, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় ব্যবহার করা হয়েছিল আরজেস গ্রেনেড। বিএনপি ও হরকাতুল জিহাদ নেতাদের সহযোগিতায় গ্রেনেডগুলো পাকিস্তান থেকে আনা হয়েছিল বাংলাদেশে। আরজেস গ্রেনেডের ভয়াবহতার কথাও জানান তিনি।

শামসুদ্দিন আহমদ শামস বলেন, আরজেস গ্রেনেডে কমপক্ষে চার হাজার স্প্লিন্টার থাকে আর তার ধ্বংসাত্বক রেঞ্জের মাঝে যদি কাউকে আঘাত করে এই আঘাতে একজন মানুষ মারা যেতে পারে।

তিনি বলেন, ওই দিন রাতে আমি দুটি গ্রেনেড পেয়েছি একটি বঙ্গবন্ধু এ্যাভিনিউয়ে অফিসের সামনে একবারে রাস্তার উপরে ফুটপাতের কাছাকাছি অপরটি গোলাপ শাহ মাঝারের কাছে টিনশেড হকার মার্কেটের সামনে।

রাষ্ট্রযন্ত্র যেভাবে এরকম একটা আলামত না রাখার পক্ষে দাঁড়িয়ে গেলো, এখন যদি আগের কথা চিন্তা করি তাহলে স্পষ্ট বুঝি কেন কেউ এই আলামত রাখতে চায়নি, কেন চায়নি?

এটা রাখা যাবে এবং এটা ধ্বংস না করে আনা যাবে আমি প্রথমে এইটুকু চিন্তা করেছি। ২৫ আগস্ট আমার মা ফোনে জানিয়েছে, ‍“বাবা ডিজিএফআই থেকে লোক আসছে তোমার কথা জানতে চায়। আর ২৮ আগস্ট আমার পোস্টিং হয়ে গেলো।”

জানুয়ারিতে আমাকে প্রি-ম্যাচিউর কম্পোসরে রিটায়ারম্যান্ট দিয়ে দেয়া হলো কোনো কারণ জানালো না, কোন কোড ওপেন করা ছিল না। স্রোতের বিপরীতে যেতে হলো আমাকে। অনুকূলে থাকলে হয়তো আমার প্রমোশন হতো। অনেক কিছু হতো এটা আমার দায়িত্ব। আমাকে সত্যটা বলতেই হবে।

নিউজনাউ/এসএ/২০২১

+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
আপনার মতামত জানান