কমে যাচ্ছে টিভি সংবাদের দর্শক

বাংলাদেশের টিভি চ্যানেল কি দেখছেন দর্শকরা! আর দেখলেও কি দেখছেন? নাটক নাকি সংবাদ? কোনটার প্রতি মানুষের আকর্ষণ বা আগ্রহ বেশি? এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, সংবাদের দর্শক দিনকে দিন কমে যাচ্ছে। প্রথম আরোর তারুণ্য জরিপ-২০১৯ অনুযায়ী, অবসরে টেলিভিশন দেখা তরুণদের মধ্যে নাটক দেখেন ৬০ দশমিক ৯ শতাংশ। দুই বছর আগে এই চিত্র ছিল ভিন্ন। ২০১৭ সালের হিসেবে, তরুণেরা টেলিভিশনে বেশি দেখতেন সংবাদ। এখন সবচেয়ে বেশি দেখা অনুষ্ঠানের তালিকায় সংবাদ দ্বিতীয় অবস্থানে। তারপর আছে সিনেমা, গান ও টক শো। ২০১৭ সালের তুলনায় ২০১৯ সালে নাটক দেকার হার ৯ দশমিক ৬ শতাংশ কমেছে। সংবাদ দেখার হার কমে গেছে বেশি। ৮৭ দশমিক ৭ শতাংশ থেকে ৫৯ দশমিক ১ শতাংশ, অর্থাৎ ২৮ দশমিক ৬ শতাংশ কম।
অনেকে এই পরিসংখ্যানের সাথে একমত হতে পারছেন না। বিশেষ করে টেলিভিশনের সাথে সংশ্লিষ্টরা। বিষয়টা নিয়ে বির্তক হচ্ছে। হচ্ছে আলোচনা-নানান সমালোচনা। নাটক ও সংবাদের মান নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন অনেকে। প্রশ্ন উঠছে গতানুগতিক উপস্থাপনা, পরিকল্পনা ও ভিন্নতা নিয়েও। সেদিক থেকে ভারতের বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের বেসরকারি টেলিভিশনগুলো বিশেষ করে, স্টার জলসা, সনি আট, কালারস বাংলা, ২৪ ঘণ্টার মতো টেলিভিশনের দর্শক বাংলাদেশে বেশি। নারীরা সন্ধ্যার পর হুমড়ি খেয়ে বসে থাকেন বউ-শ্বাশুড়ির দ্বন্দ্ব দেখতে। কিংবা স্বামী-স্ত্রীর দ্বন্দ্ব-প্রেম-পরকীয়া-এসব নিয়ে। টিআরপির সাম্প্রতিক রেটিং বিশ্লেষণ দেখলে এই বাস্তবতা দেখা যাবে। দেখা গেছে, বাংলাদেশের ৬০ থেকে ৭০ ভাগ দর্শক দেখেছেন ভারতের বিভিন্ন অনুষ্ঠানভিত্তিক চ্যানেল।
কর্মব্যস্ত মানুষের এখন আর সময় বের করে টেলিভিশনের সামনে বসার সময় নেই বা কমে যাচ্ছে। প্রযুক্তি কল্যাণে হাতের মুঠোয় এখন পুরো পৃথিবী। স্মার্টফোন থেকে নিজের পছন্দ মতো গান, নাটক, সিনেমা, সংবাদ দেখছেন সবাই। অনেকে বলছেন, টেলিভিশনের যুগ প্রায় শেষ। এখন যুগ নিউ মিডিয়ার। অনলাইন ভিত্তিক হয়ে গেছে সারা বিশ্ব। শুধু সংবাদ নয়, নাটক নয়, সিনেমা নয়, ব্যবসা-বাণিজ্য নয়, সরকারও চলছে ডিজিটাল প্রযুক্তির ওপর।
এখন দেখছি তরুণ-তরুণীদের হাতে হাতে স্মার্ট ফোন। বাংলাদেশে এই হিসেবে সব অপারেটরের ১০/১২ কোটির মতো মোবাইল ফোন ইউজার। হাতের মাথায় যা পাচ্ছেন, দেখছেন। প্রথম আলো সম্প্রতি এই বিষয়ে একটা জরীপ চালিয়েছে, সেখানে দেখা গেছে, তরুণ প্রজন্ম সংবাদের চেয়ে নাটক, গান এসব দেখছেন বেশি।
সময় এখন তারুণ্যের। সময় এখন প্রযুক্তির। সময় এখন নিউ মিডিয়ার। এই সুযোগে অনলাইন নিউজ পোর্টাল, ইউটিউব চ্যানেল, আইপিটিভি, অনলাইনভিত্তিক নিউজ সার্ভিস, ব্যবসা-বাণিজ্য দ্রুত প্রসার লাভ করছে। অনলাইন ব্যবসার ওপর ভ্যাট আরোপ করছে সরকার। অনলাইন নিউজ পোর্টালের জন্য আলাদা নীতিমালা করছে সরকার। দেয়া হচ্ছে নিবন্ধন। উদ্যোক্তাদের পাশে সরকার ইতিবাচক মানসিকতা নিয়ে দাঁড়ালে নিউমিডিয়ার জয়যাত্রা ছড়াবে চারদিকে। সারাবিশ্বে। এখন দেখার বিষয়, নিউ মিডিয়া নিরপেক্ষতা, পেশাদারিত্ব নিয়ে অপ্রতিরোধ্য হওয়ার পাশাপাশি ঈর্ষণীয জনপ্রিয়তা ধরে রাখতে পারে কি না?

+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
1
+1
0
+1
0
আপনার মতামত জানান