জনতার হাতে আটক সহকারী পুলিশ সুপারসহ চার জন

রংপুর ব্যুরো: মুক্তিপনের টাকা আনতে গিয়ে দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে সহকারী পুলিশ সুপারসহ চারজনকে আটক করে পুলিশে দিয়েছেন জনতা।পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের রংপুর অফিসের সহকারী পুলিশ সুপার, একজন সাবইন্সপেক্টর, একজন কনস্টেবল ও অপরজন মাইক্রোবাস চালক । তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, দিনাজপুরের চিরির বন্দর উপজেলার নান্দেরাই গ্রামের বাসিন্দা লুৎফর রহমানের স্ত্রী জোহরা বেগম ও ছেলে আজাহাঙ্গীর আলমকে আটক করে মুক্তিপণ দাবি করেন।

জোহরা, জাহাঙ্গীরসহ তাদেও স্বজনরা জানিয়েছেন, সোমবার রাতে সিআইডির সদস্য পরিচয়ে লুৎফর রহমানকে আটক করতে আসেন কয়েকজন। পরে লুৎফর রহমানকে না পেয়ে তাঁর স্ত্রী জহরা বেগম ও তাঁর ছেলে জাহাঙ্গীর আলমকে আটক করে নিয়ে যান তারা। মঙ্গলবার সকালে মা-ছেলেকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য জাহাঙ্গীরের ফোন থেকে তাঁর পরিবারের সদস্যদের কাছে মুক্তিপনের ৪০ লাখ টাকা চাওয়া হয়। পরে সর্বশেষ ৮ লাখ টাকা দাবি করা হয়।

জাহাঙ্গীরের স্বজনরা বিষয়টি চিরিরবন্দর থানায় অবগত করেন।

দাবিকৃত টাকা নিয়ে জাহাঙ্গীরের স্বজন মামুন ও আফতাবুর জামান এবং চিরিরবন্দর থানা-পুলিশ সদস্য তাজুল ইসলামসহ কয়েকজন ঠিকানা অনুযায়ী রানীরবন্দর এলাকায় যান। সেখানে প্রায় দেড় ঘণ্টা অবস্থান করলে তাদের কাহারোল উপজেলার দশমাইল এলাকার পেট্টোল পাম্পের কাছে যেতে বলেন। এভাবে কয়েকবার জায়গা বদল করে হাজী দানেশ বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন বাঁশ হাট এলাকায় যেতে বলা হয় সন্ধ্যায়। স্থানীয় লোকজন তখন সিআইডির সদস্যদের ধরে ফেলেন। নিয়ে যাওয়া হয় চিরিরবন্দর থানায়।

এনিয়ে চিরিরবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুব্রত কুমার সরকার জানিয়েছেন, আটককৃতদের দিনাজপুর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে, সিআইডির রংপুর অফিসের পুলিশ সুপার আতাউর রহমান জানিয়েছেন, ২১ আগষ্ট থেকে ১০ দিনের নৈমিত্তিক ছুটিতে গেছেন সহকারী পুলিশ সুপার সারোয়ার কবির ও এএসআই হাসিনুর রহমান। গত ২১ মে লুৎফর রহমানকে অভিযুক্ত করে তার অফিসে কষ্টি পাথরের একটি মূর্তি পাচারের অভিযোগ আসে। সে সময় ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপারের দায়িত্ব পালন করছিলেন সারোয়ার কবির। আর ২১ আগষ্ট নয়া পুলিশ সুপার হিসাবে যোগদান করেন তিনি। সেমাবার একটি প্রাইভেট মাইক্রোবাসে সেই কষ্টি পাথরের মূর্তি পাচারের অভিযোগ তদন্তে যান ছুটিতে থাকা এএসপি সারোয়ার কবির, এএসআই হাসিনুর রহমান। সাথে ছিলেন কনস্টেবল আহসানুল হক ও মাইক্রোবাস চালক। এই অভিযোগ তদন্তে পুলিশ সুপারের কোন আদেশ ছিলোনা তাদের কাছে।

বুধবার সকাল থেকে বিষয়টি দিনাজপুর জেলা পুলিশ দেখছেন। আটককৃতদের নেয়া হয়েছে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে।

 

+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
আপনার মতামত জানান
%d bloggers like this: