বঙ্গবন্ধু টানেল; টিউবের ভেতর সড়ক, কাজ বাকি মাত্র ২৯ শতাংশ

চট্টগ্রাম ব্যুরো: চীনের সাংহাই শহরের আদলে বন্দরনগর চট্টগ্রাম শহরকে ‘ওয়ান সিটি, টু টাউন’ মডেলে গড়ে তুলতে নগরের পতেঙ্গা ও দক্ষিণ চট্টগ্রামের আনোয়ারার মধ্যে সংযোগ স্থাপনে কর্ণফুলী নদীর তলদেশে টানেল নির্মাণের উদ্যোগ নেয় সরকার। ২০১৯ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধু টানেলের নির্মাণকাজ উদ্বোধন করেন।

৩ দশমিক ৪ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের মূল টানেল ছাড়াও পতেঙ্গা ও আনোয়ারা প্রান্তে ৫ দশমিক ৩৫ কিলোমিটার সংযোগ সড়ক এবং আনোয়ারা প্রান্তে ৭২৭ মিটার একটি ওভারব্রিজ নির্মাণ করা হচ্ছে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত হতে যাওয়া এই প্রকল্পে।

করোনায় অনেক উন্নয়নকাজ থমকে গেলেও অগ্রগতি হয়েছে মেগা এই প্রকল্পের কাজে। এরই মধ্যে শেষ হয়েছে ৭১ শতাংশ কাজ। বাকি ২৯ শতাংশের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার চেষ্টা চলছে বলেও জানান প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা।

জানা গেছে, লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী প্রতি মাসে ১ থেকে দেড় শতাংশের মতো কাজ হওয়ার কথা। কিন্তু বিভিন্ন সময় শ্রমিক ও প্রকৌশলীদের মধ্যে অনেকেই করোনায় আক্রান্ত হওয়ায় কাজের অগ্রগতি ওঠানামা করে। তবে সার্বিক দিক বিবেচনায় এখন পর্যন্ত কাজের অগ্রগতি সন্তোষজনক অবস্থায় রয়েছে। জুলাইয়ে ১ শতাংশের মতো কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়া বর্তমান কাজের গতি অব্যাহত থাকলে চলতি মাস শেষে ২ থেকে আড়াই শতাংশ কাজ সম্পন্ন হবে বলে আশাবাদী প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা।

বঙ্গবন্ধু টানেলের প্রকল্প পরিচালক হারুনুর রশিদ নিউজনাউকে বলেন, আলোচিত মেগা প্রকল্প ‘বঙ্গবন্ধু টানেল’ নির্মাণকাজ ইতিমধ্যে ৭১ শতাংশ শেষ হয়েছে। চট্টগ্রাম নগরের পতেঙ্গা প্রান্ত থেকে কর্ণফুলী নদীর তলদেশ হয়ে নদীর ওপারে আনোয়ারা পর্যন্ত একটি টিউব পরিপূর্ণভাবে স্থাপন করা হয়েছে। দ্বিতীয় টিউব স্থাপনের কাজও প্রায় ৭০ শতাংশ শেষ হয়েছে। এছাড়া প্রথম টিউবের ভেতর ল্যান্ড স্লাবের কাজ চলছে, যার ওপর দিয়ে গাড়ি চলাচল করবে।

প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা জানান, করোনাকালে বিশ্বব্যাপী পণ্য সরবরাহ কার্যক্রম বিঘ্নিত হওয়ায় প্রকল্পটির অগ্রগতি নিয়ে শুরুতে কিছুটা শঙ্কা দেখা দেয়। তবে সেই শঙ্কা কাটিয়ে এখন দ্রুতই কাজ সম্পন্ন হচ্ছে। মূলত নদীর তলদেশে স্বয়ংক্রিয় নির্মাণকাজ ও নদীশাসনের মতো জটিলতা না থাকায় প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পের কাজ দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে।

দুটি টিউবের এই টানেল নির্মাণকাজ শেষ হলে ৪ লেন দিয়ে ঘণ্টায় ৮০ কিলোমিটার গতিতে গাড়ি চলাচল করতে পারবে। একটি টিউবের সড়ক দিয়ে আনোয়ারা থেকে পতেঙ্গা অভিমুখী এবং অপর টিউব দিয়ে পতেঙ্গা থেকে আনোয়ারা অভিমুখী যানবাহন চলাচল করবে। প্রতিটি টিউব চওড়া ১০ দশমিক ৮ মিটার বা ৩৫ ফুট এবং উচ্চতা ৪ দশমিক ৮ মিটার বা প্রায় ১৬ ফুট। একটি টিউব থেকে অপর টিউবের পাশাপাশি দূরত্ব প্রায় ১২ মিটার। টানেলের প্রস্থ ৭০০ মিটার এবং দৈর্ঘ্য তিন হাজার ৪০০ মিটার।

এটি চালু হয়ে গেলে কর্ণফুলী নদীর পূর্বপ্রান্তের প্রস্তাবিত শিল্প এলাকার উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে এবং পশ্চিম প্রান্তে অবস্থিত চট্টগ্রাম শহর, চট্টগ্রাম বন্দর ও বিমানবন্দরের সঙ্গে উন্নত ও সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থাপিত হবে।

নিউজনাউ/পিপিএন/২০২১

+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
আপনার মতামত জানান
%d bloggers like this: