পরীমণিকে জিজ্ঞাসাবাদে বের হলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

নিউজনাউ ডেস্ক: আলোচিত চিত্রনায়িকা পরীমণির বিরুদ্ধে রাজধানীর বনানী থানায় মাদকদ্রব্য আইনে একটি মামলা দায়ের করবে এলিট ফোর্স র‌্যাব। গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় বনানীর নিজ বাসা থেকে আটকের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে চাঞ্চল্যকর কিছু তথ্য দিয়েছেন তিনি। বুধবার মধ্যরাত পর্যন্ত জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আজ বৃহস্পতিবার সকাল থেকে আবারও তাকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। র‌্যাবের সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, পরীমণির বিরুদ্ধে একটি মাদক মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। বনানী থানায় এই মামলা দায়ের করা হবে। আজ বিকালে সংবাদ সম্মেলন করে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।

র‌্যাবের কর্মকর্তারা জানান, বুধবার বিকালে অভিযানের সময় পরীমণির বাসায় প্রবেশ করা নিয়েই অনেক জটিলতা তৈরি হয়। তিনি ভেতর থেকে বাসার দরজা খুলছিলেন না। প্রায় আধঘণ্টা পর দরজা খুলে দিলে র‌্যাবের গোয়েন্দা শাখার একটি দল তার বাসায় প্রবেশ করে। পরীমণি প্রথমে র‌্যাবের গোয়েন্দা দলের কাছে উচ্চ পর্যায়ে তার অনেক যোগাযোগের কথা বলেন। পরে তার বাসা থেকে বিদেশি মদ, আইস ও এলএসডি মাদক উদ্ধারের পর চুপসে যান তিনি। এরপর আভিযানিক দলের সদস্যদের সহযোগিতা করেন তিনি।

সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা জানান, আটকের পর পরীমণিকে সোজা উত্তরার র‌্যাব সদর দফতরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে র‌্যাবের গোয়েন্দা শাখার সদস্যরা তাকে মধ্যরাত পর্যন্ত বিভিন্ন বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন। জিজ্ঞাসাবাদে পরীমণি কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন। তার সঙ্গে উচ্চবিত্ত ও ধনাঢ্য ব্যবসায়ী, রাজনীতিবিদ ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর উচ্চ পর্যায়ের কার কার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে- তা অকপটে বলতে শুরু করেন তিনি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে র‌্যাবের কর্মকর্তারা তার উচ্ছৃঙ্খল জীবন-যাপন, বিপুল পরিমাণ অর্থের উৎস এবং কিছুদিন আগে বোট ক্লাবে ঘটে যাওয়া ধর্ষণের অভিযোগ সম্পর্কেও জানতে চাওয়া হয়। কোনও কোনও প্রশ্নের জবাবে নিশ্চুপ ছিলেন পরী। তবে বেশিরভাগ সময়ই কান্নাকাটি করেছেন। পরী বলেছেন, তিনি ভাবতেও পারেননি তার বাসায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান চালাতে পারে কিংবা তাকে এভাবে মাদকদ্রব্যসহ আটক করা হতে পারে।

সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা জানান, অভিযানের সময় পরীমণি জনৈক সম্পদ (ব্যক্তির নাম) ও পুলিশের একজন কর্মকর্তাসহ বেশ কয়েকজনকে ফোন করেছিলেন। তাদের সঙ্গে পরীমণির কী সম্পর্ক সেটাও জানার চেষ্টা করছে। এছাড়া তার কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই কথিত প্রযোজক ও রাজ মাল্টিমিডিয়ার কর্ণধার নজরুল ইসলাম রাজের বাসায় অভিযান চালানো হয়।

র‌্যাব সূত্র জানায়, বুধবার গ্রেফতার হওয়া মিশু নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল পরীমণির। মিশু মূলত বিভিন্ন পার্টির আয়োজন করে পরীমণিকে নিয়ে যেতো। এছাড়া রাজও প্রথমদিকে পরীমণিকে উচ্চবিত্ত বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে বিশেষ উদ্দেশ্যে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন। সেসব ব্যক্তির সঙ্গে ‘বিশেষ সঙ্গ’ ও পার্টিতে অংশ নিয়ে অর্থ আয় করতেন পরী। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি এরকম ঘনিষ্ঠ কিছু ব্যক্তির নামও প্রকাশ করেছেন।

র‌্যাব কর্মকর্তারা জানান, বুধবার মধ্যরাত পর্যন্ত জিজ্ঞাসাবাদ শেষে পরীমণিকে সদর দফতরের গোয়েন্দা শাখার একটি কক্ষে রাখা হয়। সেখানে তার সঙ্গে একাধিক নারী র‌্যাব সদস্যরা পাহারায় ছিলেন। সারারাত ঘুমাননি পরীমণি। রাতভর কান্নাকাটি করেছেন তিনি।

এদিকে র‌্যাবের একজন কর্মকর্তা জানান, পরীমণির সহযোগী নজরুল রাজের বাসা থেকে সিসা খাওয়ার উপকরণসহ বিকৃত যৌনাচারের বিভিন্ন সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে মাদক ও পর্নোগ্রাফি আইনে পৃথক মামলা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনেও একটি মামলা হতে পারে বলে জানিয়েছেন র‌্যাবের একজন কর্মকর্তা।

+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
আপনার মতামত জানান
%d bloggers like this: