পিয়াসা কোটি টাকার গাড়িতে চড়েন, থাকেন লাখ টাকার ফ্ল্যাটে

নিউজনাউ ডেস্ক: বিতর্কিত মডেল ফারিয়া মাহবুব পিয়াসা। আন্ডারওয়ার্ল্ড কানেকশনে অস্ত্র কারবার থেকে শুরু করে মাদকের জমজমাট বাণিজ্যের অভিযোগ আছে তার বিরুদ্ধে। ধনাঢ্য পরিবারের সদস্যদের নিজের মাদকের আসরে ডেকে গোপন ছবি তুলে ব্ল্যাকমেইল করত সে। তার আসরে যাতায়াত করতেন দেশের বেশ কয়েকটি শিল্প প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার। এমন তথ্য-প্রমাণ আছে গোয়েন্দা পুলিশের হাতে।

অভিযোগ আছে, দিনে ঘুমান আর রাতে রাণী হন নানা বিত্তবানের। রাত হলে বিলাশ বহুল বিএমডব্লিউটি মার্সিডিজ ব্রান্ডের গাড়ি হাঁকিয়ে ছুটে চলতেন রাজধানীর বার ও নাইট ক্লাবের উদ্দেশে। অনেকটা খোলামেলা পোষাকে ঢুকে পড়তেন সেখানে। প্রভাবশালী আর ধনীর দুলালদের সঙ্গে চলতো ডিসকো ড্যান্স। গ্রুপ বেধে সেবন করতো মাদক। পরে চলে যেতো রাজকীয় ফ্ল্যাটে।

পিয়াসার সঙ্গে বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যবসায়ীর অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ছবি এখন বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভেসে বেড়াচ্ছে। আর মরিয়ম আক্তার মৌ ছিল তার সাম্রাজ্যের অন্যতম সহযোগী। অপরাধ সাম্রাজ্যের ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করতে মডেল পিয়াসা ও মৌকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পৃথক মাদক মামলায় তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।

চট্টগ্রামের একটি প্রত্যন্ত এলাকা থেকে উঠে আসা একটা মেয়ে ঢাকা শহরে কেমন করে এমন লাক্সারিয়াস জীবনযাপন করে আসছিলেন? তার বারিধারার ফ্ল্যাটে কার কার যাতায়াত ছিল? এমন নানা প্রশ্নের উত্তর মিলছে না।

পিয়াসার বাসার ফ্ল্যাটের গ্যারেজে গিয়ে দেখা মেলে দুটি বিলাসবহুল গাড়ির। একটি বিএমডব্লিউ এস-২০৯ মডেলের সিলভার রঙের অপরটি মাজদা এক্সেলা ব্রান্ডের নীল রঙের গাড়ি।

বৈধ কোনও আয় না থাকলেও এসব দামী গাড়ি পিয়াসারে নিত্য সঙ্গী।

এক প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা ১ কোটি ৬০ লাখ টাকা দিয়ে কিনে বিএমডব্লিউ গাড়িটি পিয়াসাকে উপহার দিয়েছেন। জানা গেছে, ক্যাসিনোর সঙ্গে জড়িত থাকা ও অবৈধ অর্থ লেনদেনের অভিযোগে ২০১৯ সালের শেষের দিকে ওই নেতার ব্যাংক হিসাব তলব ও জব্দের নির্দেশ দিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক।

এছাড়া এক সুপরিচিত শিল্পগ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক পিয়াসাকে বডিগার্ডসহ রাজধানীর বারিধারা আবাসিক এলাকায় একটি ফ্লাট ভাড়া করে দেন। ৯ নম্বর রোডের ১৩ নম্বর ভবনের দ্বিতীয় তলার আলিশান ওই ফ্ল্যাটটির মাসিক ভাড়া প্রায় দুই লাখ টাকা বলে জানা গেছে। সেখানে প্রায়ই ওই শিল্পপতির যাতায়াত ছিল।

ভবনের সুপারভাইজার ও ইলেক্ট্রিশিয়ান হিসেব দায়িত্বে পালনকারী বিলাস গোমেজ একটি বেসরকারি টেলিভিশনকে বলেন, মাসিক ২ লাখ টাকা ভাড়ায় পিয়াসার থাকার ফ্ল্যাটটি ভাড়া করে দিয়েছেন এক শিল্পপতি।

গোয়েন্দা সূত্র জানায়, আলিশান জীবনযাপন ছিল মডেল পিয়াসা ও মৌয়ের। নামিদামি ব্র্যান্ডের প্রসাধনী, দেশি-বিদেশি দামি পোশাক, শেলফের তাকে তাকে সাজানো জুতাসহ বাহারি সব পণ্যের সমাহার ছিল তাদের বাসায়। বাসার ভেতরে প্রবেশ করলে চোখ চড়কগাছ হওয়ার উপক্রম। কারণ তাদের দৃশ্যমান আয়ের উৎসের সঙ্গে জীবনযাপনের ব্যয়ের ছিল আকাশ-পাতাল ব্যবধান। গোয়েন্দাদের ভাষায়, পিয়াসার বাসা ছিল অনেকটা ‘রাজরানি’র ঘরের মতো।

যেখানে বিলাসী জীবনযাপনের জন্য সবই ছিল। ব্যবস্থা ছিল মনোরঞ্জনের। তারা বাসার মধ্যেই গড়ে তুলেছিলেন ‘মিনিবার’। যেখানে আনাগোনা ছিল ধনাঢ্য ব্যক্তিদের। সবচেয়ে বেশি যাতায়াত ছিল ধনীর দুলালদের। তাদের বাসায় এনে ছবি তুলে ব্ল্যাকমেইল করত দুই মডেল। নামিদামি বিভিন্ন ক্লাবের সদস্যপদ থাকার সুবাদে সেখানেও টার্গেট ঠিক করত তারা।

অভিযান সংশ্লিষ্টরা জানান, পিয়াসা নিজেকে অত্যন্ত প্রভাবশালী মনে করত। ফলে বাসায় ডিবি পুলিশ ঢোকার পর সে অনেকটা হতভম্ব হয়ে যায়। কারণ সে এটা ভাবতেও পারেনি যে, তার বাসায় পুলিশ যেতে পারে। এটা তার চিন্তার বাইরে ছিল। ফলে হতচকিত হয়ে কী করবে-বুঝে উঠতে পারছিল না সে। পরে গোয়েন্দাদের পক্ষ থেকে তাকে বলা হয়, ‘আমরা ডিবি থেকে আসছি, সহযোগিতা করুন।

নিউজনাউ/আরবি/২০২১

+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
আপনার মতামত জানান
%d bloggers like this: