আগামী মাসে চালু হচ্ছে লেবুখালী ঝুলন্ত সেতু

বরিশাল ব্যুরো: সেপ্টেম্বরে প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের পর গাড়ি চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে বিশেষ বৈশিষ্ট্যে নির্মিত ঢাকা-ফরিদপুর-বরিশাল-পটুয়াখালী-কুয়াকাটা মহাসড়কের লেবুখালী সেতু। প্রায় দেড় কিলোমিটার (এক হাজার ৪৭০ মিটার) দৈর্ঘ্যের এই সেতুর মাত্র দুই-তিন শতাংশ কাজ বাকি রয়েছে। দেশে দ্বিতীয়বারের মতো নির্মিত হচ্ছে ‘এক্সট্রা ডোজ প্রি-স্ট্রেসড বক্স গার্ডার’ টাইপের এ সেতুটি।

সেতুর প্রকল্প পরিচালক আবদুল হালিম জানান, ‘কর্নফুলী দ্বিতীয় সেতুর আদলেই নির্মাণ করা হয়েছে ফোর লেন লেবুখালী সেতু। পায়রা নদীর মূল অংশে ৬৩০ মিটার বক্স গার্ডার চারটি স্প্যানের ওপর এটি নির্মিত হয়েছে। পায়রা সমুদ্র বন্দরে উপকূলীয় পণ্য ও জ্বালানিবাহী নৌযান চলাচলের জন্য মূল অংশে ২শ’ মিটার করে দুটি স্প্যান ১৮.৩০ মিটার ভার্টিক্যাল ক্লিয়ারেন্স রাখা হয়েছে। নদীর তলদেশে বসানো হয়েছে ১৩০ মিটার দীর্ঘ পাইল। যা দেশে সর্ববৃহৎ। এছাড়া সেতুর মূল অংশের দুই প্রান্তে ৮৪০ মিটার ভায়াডাক্টে ৩০ মিটার করে ২৮টি স্প্যান বর্ধিত অংশের ভার বহন করছে। লেবুখালী সেতুর ৩২টি স্প্যান এখন দাঁড়িয়ে আছে ৩১টি পিয়ারের ওপর। সেতুটির ২৮টি স্প্যানের ১২টি বরিশাল প্রান্তে এবং ১৬টি পটুয়াখালী প্রান্তে।’

তিনি আরও বলেন, ‘মূল সেতুটি বিভিন্ন মাপের ৫৫টি টেস্ট পাইলসহ দশটি পিয়ার, পাইল ও পিয়ার ক্যাপের ওপর নির্মিত হয়েছে। এছাড়া ১৬৭টি বক্স গার্ডার সেগমেন্ট রয়েছে সেতুতে। যার ফলে দূর থেকে সেতুটিকে মনে হবে ঝুলে আছে। এছাড়া জোয়ারের সময় নদী থেকে সেতুটি ১৮.৩০ মিটার উঁচু থাকবে। এতে নদীতে বড় বড় জাহাজ চলাচলে কোনও সমস্যা হবে না।’

নির্মাণকাজের গুণগত মান প্রসঙ্গে প্রধান প্রকৌশলী আব্দুস সবুর বলেন, ‘গুণগতমান রক্ষার্থে কনসালটেন্ট ও ঠিকাদারসহ সব পর্যায়ের কর্মকর্তারা সজাগ রয়েছেন। এখানে নিম্নমানের কাজের কোনও সুযোগ ছিল না।’

লেবুখালীর পায়রা নদীর ওপর এই সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হয় ২০১৬ সালের ২৪ জুলাই। কার্যাদেশে সেতু নির্মাণে ৩৩ মাস সময় বেঁধে দেওয়া হলেও দুই দফায় প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে ২০২২ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত।

নিউজনাউ/আরবি/২০২১

+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
আপনার মতামত জানান
%d bloggers like this: