চট্টগ্রামে জৈবিক পদ্ধতিতে মশা নিধনের পরামর্শ চবি’র গবেষকদের

নিউজনাউ ডেস্ক: রাসায়নিকের পাশাপাশি জৈবিক পদ্ধতিতে মশা নিধনের জন্য চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনকে (চসিক) পরামর্শ দিয়েছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) একদল গবেষক।

মঙ্গলবার (৩ আগস্ট) চসিকের অনুরোধে নগরের মশা নিধনে কার্যকর ওষুধ নিয়ে গবেষণা শেষে প্রতিবেদন দাখিলের সময় এ তথ্য জানান চবি গবেষক দল।

এ সময় গবেষকরা জানান, শহরে এমন একটি জলাশয় পাওয়া গেছে যেখানে দীর্ঘদিন ধরে ময়লা-আবর্জনা জমে ছিল। কিন্তু ওই জলাশয়ে মশার কোনো লার্ভা পাওয়া যায়নি। গবেষণায় দেখা গেছে, জলাশয়টিতে এমন কিছু মাছের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে, যেই মাছগুলো লার্ভা খেয়ে ফেলে। মশার লার্ভাখেকো ওইসব মাছ বিভিন্ন জলাশয়ে ছেড়ে দিলে মশার উৎপাত অনেকাংশে কমে যাবে।

এছাড়াও গবেষণা সংক্রান্ত প্রতিবেদনে একধরনের কার্যকর ওষুধ প্রয়োগের বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছেন চবি গবেষক দল।

জানা গেছে, নগরে মশক নিধনে প্রয়োগ করা ওষুধের কার্যকারিতা যাচাই করতে চবি কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করে চসিক মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা এম রেজাউল করিম। তার আমন্ত্রণে গত ১৪ মার্চ চসিক কার্যালয়ে আসেন চবি শিক্ষকদের একটি প্রতিনিধি দল। প্রতিনিধি দলে ছিলেন চবির প্রক্টর ও সহযোগী অধ্যাপক ড. রবিউল হোসেন ভূঁইয়া, সহযোগী অধ্যাপক ড. ওমর ফারুক রাসেল ও কাজী নুর সোহাত।

এরপর ওষুধের কার্যকারিতা যাচাই করতে চবিতে ছয় সদস্যের একটি কমিটি গঠন হয়। ২৪ মার্চ গঠিত ওই কমিটিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. রবিউল হাসান ভূঁইয়াকে আহ্বায়ক এবং উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মাদ ওমর ফারুককে সদস্য সচিব করা হয়।

কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. তাপসী ঘোষ রায়, ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. শহীদুল ইসলাম, মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. এইচ এম আবদুল্লাহ আল মাসুদ এবং প্রাণীবিদ্যা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ আবদুল ওয়াহেদ চৌধুরী।

গবেষকরা ৫ জুলাই থেকে চট্টগ্রাম নগরের ৯৯টি স্পট পরিদর্শন করে ৫১টি স্পটের মশার লার্ভা সংগ্রহ করেন। তাছাড়া পরীক্ষার সুবিধার্থে চবি ও তার পার্শ্ববর্তী ছয়টি স্পটের লার্ভাও সংগ্রহ করা হয়। পরে পরীক্ষাগারে নগরের ৫১ স্পটের নমুনা পরীক্ষা করে ১৫টি স্পটে এডিসের লার্ভা পাওয়া যায়।

এডিসের লার্ভা পাওয়া এলাকাগুলো হলো- চান্দগাঁও আবাসিক এলাকা মসজিদের পাশে, চান্দগাঁও ফরিদাপাড়া, কল্পলোক আবাসিক এলাকার নম্বর ১ রোড, ডিসি রোডের বাদশা মিয়া সওদাগর বাড়ি, ডিসি রোডের তুশার কলোনি, চাক্তাই প্রাইমারি স্কুলের পাশে, সদরঘাট থানার রেলওয়ে কলোনি, পশ্চিম মাতারবাড়ি মাঝিরঘাট রোড, আমবাগান বাস্তুহারা কলোনি, ১৩ নম্বর রেলওয়ে কলোনি, পাহাড়তলীর দুলালাবাদের সিডিএ মার্কেট, সাগরিকার জেলে পাড়া, সাগরিকার রুপালি আবাসিক এলাকার দক্ষিণ কলোনিতে, হালিশহর এ ব্লকে ও ফইল্লাতলী বাজারের দক্ষিণ কলোনি।

এর আগে, গত বছর ওষুধ ছিটানোর পরও মশার উৎপাত না কমায় পরীক্ষার জন্য ডিসেম্বরে বিসিএসআইআর (বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ) গবেষণাগারে লার্ভিসাইড (মশার ডিম ধ্বংসকারী ওষুধ) এবং এডালটিসাইড (পূর্ণাঙ্গ মশা ধ্বংসকারী) পাঠায় চসিক কর্তৃপক্ষ। তবে সে সময় সংস্থাটি চসিককে জানায়, মশার ওষুধের গুণগত মান তাদের ল্যাবে পরীক্ষা করা হয় না।

নিউজনাউ/এসএ/২০২১

+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
আপনার মতামত জানান
%d bloggers like this: