কুষ্টিয়ায় ঠিকাদারকে প্রকাশ্যে হাতুড়িপেটা

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি: কুষ্টিয়ায় দরপত্রে অংশগ্রহণ করায় এক ঠিকাদারকে সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কুষ্টিয়া এলজিইডি অফিসের সামনে একদল সন্ত্রাসী প্রকাশ্যে হাতুড়িপেটা করার ঘটনা ঘটেছে। প্রাণভয়ে মামলা করতে সাহস পাচ্ছেনা নির্যাতনের শিকার ঠিকাদার শাহিদুর রহমান মিন্টু (৪৮)। তাকে মারধরের ঘটনার দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে আলোচনা-সমালোচনা ঝড় উঠেছে দেশব্যাপী। প্রকাশ্যে হাতুড়িপেটা করা সন্ত্রাসীরা সরকারী দল সমর্থক একজন নেতার ক্যাডার হওয়ার কারণে তারা মামলা না করার জন্য ওই ঠিকাদারকে মোবাইলে প্রাণনাশের হুমকি দিলেও পুলিশ প্রশাসন যেন সব দেখে না দেখার ভান করে বসে রয়েছে।

হামলার শিকার ঠিকাদারের নাম শহিদুর রহমান ওরফে মিন্টু। তাঁর বাড়ি জেলার কুমারখালী উপজেলার চাপড়া ইউনিয়নের শানপুকুরিয়া গ্রামে। বর্তমানে তিনি শহরের পুলিশ লাইন্সের সামনে ভাড়া বাসায় থাকেন। এক আওয়ামী লীগ নেতার ইন্ধনে এই হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করেছেন শহিদুর। হামলাকারীদের ভয়ে হাসপাতালে ভর্তি কিংবা থানায় গিয়ে অভিযোগ করতে পারছেন না বলে তিনি দাবি করেছেন।

ঠিকাদার শাহিদুর রহমান মিন্টু জানান, তিনি একজন প্রতিষ্ঠিত ঠিকাদার। দীর্ঘদিন ধরে ঠিকাদারি কাজ করে আসছেন। এলজিইডি, সড়ক ও জনপথ বিভাগ, পানি উন্নয়ন বোর্ড, বিএডিসিসহ প্রায় সব দফতরেরই তার নিজ নামে লাইসেন্স রয়েছে। তিনি আরও জানান, কুষ্টিয়া এলজিইডির অধীনে প্রায় ৭ কোটি টাকার মিরপুর সড়কের ঘোড়ামারা আরএসডি থেকে পোড়াদহ জিসি ভায়া মসেন রোডের দরপত্র দাখিলের শেষ তারিখ ছিল চলতি বছরের ৩ মার্চ। কাজটি তিনি না পেলেও দরপত্র দাখিল করার পর থেকেই কুষ্টিয়ার প্রভাবশালী আওয়ামী লীগের এক নেতা ঠিকাদার তাকে ফোনে দেখে নেয়ার হুমকি দিয়ে আসছিলেন। হুমকির কারণে তিন মাস ধরে মিরপুর উপজেলার কুর্শা মসজিদ থেকে সুতাইল জোড়া ব্রিজ রোড পর্যন্ত এলজিইডির প্রায় এক কোটি টাকার রাস্তার কাজ শুরু করতে পারছেন না বলেও জানান তিনি।

সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে প্রয়োজনীয় কাজ শেষ করে এলজিইডি অফিস থেকে বের হন ঠিকাদার শাহিদুর রহমান মিন্টু। কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ মহাসড়কে এসে দাঁড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে শহরের পূর্ব মজমপুর এলাকার বরকতের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী তাকে ঘিরে ধরে হাতুড়িপেটা শুরু করে। এক পর্যায়ে তিনি দৌড়ে এলজিইডি অফিসের ভেতরে অবস্থান নেন। হামলার এ দৃশ্য কে বা কারা ফোনে ধারণ করে দুপুরে ফেসবুকে ছেড়ে দিলে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।

নির্যাতনের শিকার ঠিকাদার শাহিদুর রহমানের অভিযোগ, ঘটনার পর থেকে তিনি ফোনে একের পর হুমকি পাচ্ছেন। তিনি প্রাণ শঙ্কায় রয়েছেন। হুমকিদাতা এবং হামলাকারীরা প্রভাবশালী হওয়ার কারণে তিনি এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ করার সাহস পাচ্ছেন না।স্থানীয়রা জানিয়েছেন, যারা হামলায় অংশ নেয় তারা মজমপুর এলাকার সন্ত্রাসী। স্থানীয় এক নেতার ক্যাডার এরা। বেশির ভাগের মুখে মাস্ক পরা ছিলো। ভয়ে কেউ তাদের বাঁধা দেয়নি। এলাকার অনেক মানুষ হামলা ঘটনাটি দেখেছেন।

এ ব্যাপারে কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাব্বিরুল আলম জানান, বিষয়টি তার জানা নেই। এ ব্যাপারে এখনো কেউ অভিযোগ করেনি। লিখিত অভিযোগ পেলে অবশ্যই এ ব্যাপারে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

শহিদুর অভিযোগ করেন, যারা হামলায় অংশ নেন তাঁরা মজমপুর এলাকার। স্থানীয় এক যুবলীগ নেতার ক্যাডার। বেশির ভাগের মুখে মাস্ক পরা ছিল। যুবলীগ নেতাসহ ক্যাডাররা মিরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কামারুল আরেফিনের লোক। কামারুলই তাঁকে হুমকি দিয়ে আসছিল। শহিদুর বলেন, ‘তারা আমার লাইফ (জীবন) শেষ করে দিয়েছে। দুই হাঁটুতে বেদম মেরেছে। মামলা করব কাদের নামে। এরা দেশ চালায়। মামলা করে টিকে থাকতে পারব না। আর পুলিশ তাদের কেনা। আমি মামলা করলেও কোনো লাভ হবে না।’

অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে মিরপুর উপজেলা চেয়ারম্যান কামারুল আরেফিন বলেন, ‘দরপত্রে বাধা দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। ওই দরপত্রে ৬ থেকে ৭ জন অংশ নেয়। অভিযোগকারী ঠিকাদার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে সোয়া ৩ শতাংশ কমে দরপত্র জমা দেয়। এর চেয়ে আরও কমে আরেক ঠিকাদার কার্যাদেশ পায়। এ ছাড়া আমার বাড়ি মিরপুর উপজেলার সদরপুর গ্রামে। ঘটনা ঘটেছে কুষ্টিয়া শহরের মজমপুর এলাকায়। সম্পূর্ণ উদ্দেশ্য প্রণোদিত ভাবে আমার নাম বলছে। যত দূর জানি, ওই ঠিকাদারের সঙ্গে অনেক ঠিকাদারের টাকা নিয়ে বিরোধ আছে।

নিউজনাউ/আরবি/২০২১

+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
আপনার মতামত জানান
%d bloggers like this: