অবৈধপথে সাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপ যাওয়ায় শীর্ষে বাংলাদেশিরা

নিউজনাউ ডেস্ক: উত্তাল ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে অবৈধপথে আশ্চর্যজনকভাবে ইউরোপ যাওয়ায় শীর্ষে উঠে এসেছে বাংলাদেশিরা। এদেশে যুদ্ধ নেই, দারিদ্রের কষাঘাতও আফ্রিকার দেশগুলোর মতো তীব্র নয়, বরং অনেক ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রার রোলমডেল হয়ে উঠেছে বাংলাদেশ। তারপরও দলে দলে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাংলাদেশিদের ইউরোপ যাওয়ার প্রচেষ্টা অবাক করেছে সবাইকে।

চলতি বছরের ২৬ জুলাই পর্যন্ত ইতালি, গ্রিস, স্পেন, সাইপ্রাস ও মাল্টায় পৌঁছেছে অন্তত ৪৭ হাজার ৪২৫ জন শরণার্থী ও অভিবাসনপ্রত্যাশী। এদের মধ্যে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৩৩২ জনই বাংলাদেশি। অর্থাৎ, কপালজোরে জীবিত অবস্থায় ইউরোপের তীরে পৌঁছানো প্রতি সাতজনের একজন বাংলাদেশের নাগরিক।

এধরনের অভিবাসনপ্রত্যাশীদের মধ্যে অনেকেই পাচারের শিকার হয়ে লিবিয়া, তিউনিসিয়া, বসনিয়া-হার্জেগোভিনায় পৌঁছান। নিশ্চিতভাবে প্রাণ হারিয়েছেন অজ্ঞাত বহু লোক। ২০২১ সালের প্রথম ছয় মাসে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপ যাওয়ার পথে অন্তত ৯৩৭ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যুর খবর রেকর্ড করেছে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর, যাদের মধ্যে অনেকেই বাংলাদেশি।

আফ্রিকান উপকূল থেকে রওয়ানা দেয়া লোকদের মধ্যে বাংলাদেশিদের সংখ্যা এত বেশি কেন, তা জানার চেষ্টা করেছে ইউরোপীয় কর্তৃপক্ষগুলো। তবে কারণটি এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত নয়। তালিকার শীর্ষে থাকা ১০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের নাম কিছুটা বেমানানই বটে! শীর্ষ পাঁচ দেশের মধ্যে তিনটি হচ্ছে আফ্রিকার (তিউনিসিয়া, আইভরি কোস্ট ও মিসর), আরেকটি হলো যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়া। ভৌগলিকভাবেও এসব দেশ থেকে সবচেয়ে দূরের অবস্থান বাংলাদেশের।

ধারণা করা হয়, এসব বাংলাদেশির একটি বড় অংশই পাচারকারীদের হাতে পড়ে সাগরপথে ইউরোপ রওয়ানা দেয়। সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন জেলায় পাচারকারী চক্রের বেশ কয়েকজন সদস্যকে গ্রেফতারের পর জানা গেছে, কতটা ভয়ংকর এই যাত্রা। অবৈধপথে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে এভাবে ইউরোপ যেতে কখনো কখনো কয়েক বছর লেগে যায়। শুধু লিবিয়া উপকূল পর্যন্ত পৌঁছাতেই অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হয় ভুক্তভোগীদের।

তাছাড়া, করোনাভাইরাস মহামারির কারণে আর্থিক সংকট বেড়ে যাওয়াও মানুষকে ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রায় প্ররোচিত করছে বলে মনে করা হয়।

চলতি মাসেই তিউনিসিয়ান রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছিল, ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপ প্রবেশের চেষ্টাকালে নৌকা ডুবে অন্তত ১৭ বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। ৮ জুলাই তিউনিসিয়ান নৌবাহিনী মাঝসমুদ্র থেকে ৪৯ জন বাংলাদেশি অভিবাসনপ্রত্যাশীকে উদ্ধার করে। একই পথে গত ৩ জুলাই অন্তত ৪৩ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী নৌকাডুবির পর নিখোঁজ হন, যাদের মধ্যে বাংলাদেশিরাও ছিলেন।

নিউজনাউ/আরবি/২০২১

+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
আপনার মতামত জানান
%d bloggers like this: