নগরে কেউ ঢুকছে কেউ বেরুচ্ছে, আসার যাওয়ার ভীড়ে করোনা থাকছে

চট্টগ্রাম ব্যুরো : গত কয়েকদিনের গুজব শেষে সবাই নিশ্চিত হয়েছে আগামীকাল থেকেই শুরু হচ্ছে নিশ্চিদ্র ১৪ দিনের কঠোর লকডাউন। তাই হুড়মুড়িয়ে নগর ছেড়ে ঢাকায় যাচ্ছে একদল। আবার গ্রাম থেকে নগরে ঢুকছে আরেকদল। সব মিলিয়ে চট্টগ্রাম শহরের পাঁচ প্রবেশ পথে লেগে আছে মানুষ আর গাড়ির ভীড়। আর স্বাস্থ্যবিধি লঙ্গন হওয়া এই ভীড়েই নিশ্চিত লুকিয়ে আছে মহামারি করোনা।

কোরবানির ঈদ উৎসব শেষে কর্মজীবীরা ছুটছে অফিস এলাকায়। যদিও আসন্ন কঠোর লকডাউনে বন্ধ থাকবে প্রায় সব কিছুই। তারপরও এক অদ্ভুত অনিশ্চিয়তায় এখনো ভুগছে গার্মেন্টস শিল্পের সাথে যুক্ত সকল শ্রমিকরা। তারা এখনও নিশ্চিত নয় কঠোর লকডাউনে তাদের কর্মস্থল খুলবে কিনা। এমন অনিশ্চিয়তায় যে ভাবে পারছেন শহরে ঢুকছেন আর বেরুচ্ছেন।

সরেজমিনে চট্টগ্রাম নগরের চার প্রবেশপথে দেখা মিলেছে মানুষের স্রোত। এই প্রথম তড়িঘড়ি কোরবান শেষ করে এতো অল্পদিনের ছুটি শেষে বাড়ি থেকে নগরে ফিরছেন মানুষ।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. বিদ্যুৎ বড়ুয়া নিউজনাউকে বলেন, আগামীকাল থেকে যে লকডাউন সেটি সর্বাত্মক ভাবেই কঠোর থাকবে বলেই জেনেছি। সুতরাং সকল ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, অফিস, কারখানা বন্ধ থাকছে। সেক্ষেত্রে যেখানকার মানুষ সেখানেই থেকে যাবে। এমন অবস্থা চলতে থাকলে সংক্রমণ বাড়ার কথা না।

আবার অনেকেই আছেন কঠোর লকডাউনে অফিস ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখতে হবে তাই ছাড়ছেন নগর। সবমিলিয়ে নগরের পাঁচ প্রবেশপথ সিটি গেইট, নতুনব্রিজ, অক্সিজেন মোড়, কাপ্তাই রাস্তার মাথা ও চট্টগ্রাম রেল স্টেশনে নেমেছে মানুষের স্রোত। একদল শহর ছাড়ছে তো আরেকদল শহরে ডুকছেন।

বৃহস্পতিবার (২২ জুলাই) সকাল থেকে নগরের একে খান গেইট, অক্সিজেন মোড়, চট্টগ্রাম রেল স্টেশন ও শাহ আমানত ব্রিজ এলাকায় বেশি ছিল ফিরতি মানুষের চাপ। তবে দিনযত গড়িয়েছে শহর ছাড়ার মানুষের চাপ ততই বাড়ছে। বিশেষ করে রেল স্টেশনে আর একে খান এলাকায় ছিল প্রচুর মানুষের ভীড়। সেখানে দেখা গেছে বেশিরভাগই মুখে নেই মাস্ক। সাথে থাকা শিশুদের অবস্থা আরো নাজুক। স্টেশন এলাকার পথের খাবারই অনেকের প্রথম পছন্দ।

ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা সোনার বাংলা ট্রেন বৃহস্পতিবার (২২ জুলাই) দুপুর ১টায় চট্টগ্রাম রেলস্টেশন এসে থামে। বাংলাদেশ রেলওয়ে ঘোষিত নির্দেশনা মেনে আন্তঃনগর ট্রেনটি চট্টগ্রাম পৌঁছে। এ সময় যাত্রীদের নেমে গন্তব্যে চলে যেতে দেখা যায়। পরিবার-পরিজন নিয়ে ফিরে আসা মানুষের সংখ্যাই ছিল বেশি।

সরকারি ব্যাংকের এক কর্মকর্তা দুপুর থেকে একে খান এলাকায় গিয়ে পান নি কোন বাসের টিকিট। শেষ পর্যন্ত বাড়তি ভাড়া গুণে তিনি বেঁচে নিয়েছে এসি বাস! ব্যাংক কর্মকর্তা সাদিয়া নিউজনাউকে বলেন, ‘উপায় নেই। ব্যাংকে সরকারি চাকরি করছি। আমাদের তো অফিসে যেতে হবেই। তাই দুইদিনের জন্যে হলেও নিজ শহরে এসে এখন আবার ফিরতে হচ্ছে।

নগরের অক্সিজেন মোড়, একে খান গেইট, শাহ আমানত ব্রিজ ও কাপ্তাই রাস্তার মাথায় ছিল মানুষের স্রোত। অনেকে গ্রাম থেকে শহরে ফিরছেন। আবার অনেকে শহর ছেড়ে গ্রামে যাচ্ছেন। এসব এলাকার বাসের টিকিট কাউন্টারগুলোর সামনে ছিল মানুষের জটলা।

অক্সিজেন এলাকায় কথা হয় নিউমার্কেটের একটি দোকানের বিক্রয়কর্মী আশরাফুলের সাথে। তিনি নিউজনাউকে বলেন, ‘লকডাউনে নাকি আবারও মার্কেট বন্ধ থাকবে। শহরে থেকে আর কি হবে। তাই গ্রামের বাড়ি চলে যাচ্ছি।’

নিউজনাউ/পিপিএন/২০২১

+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
আপনার মতামত জানান
%d bloggers like this: