NewsNow24.Com
Leading Multimedia News Portal in Bangladesh

শৈত্য প্রবাহে মৌলভীবাজারে ৫ জনের মৃত্যু

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

এম.এ মোহিত, মৌলভীবাজার থেকে : মৌলভীবাজারের চা বাগানগুলোতে শীতের তীব্রতায় এ পর্যন্ত পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। ডায়রিয়া,হাঁপানী,শ্বাসকষ্ট, নিমোনিয়াসহ ঠান্ডাজনিত নানা রোগে আক্রান্তে সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। শীত নিবারণে খরকুটোয় আগুন জ্বালিয়ে নিজেদের গরম রাখার চেষ্টা করছেন মানুষ। কর্মস্থলে যেতে না পেরে বেশ অসুবিধায় পড়েছেন দিনমজুর ও খেটে খাওয়া মানুষ। এমনকি শীতবস্ত্রের অভাবে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে অনেককে।
মৌলভীবাজার জেলা জুড়ে শীতের প্রকোপ বেড়েছে। দুদিনে চা শ্রমিকসহ ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। শমসেরনগর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও কানিহাটি চা বাগানের শ্রমিক নেতা সীতারাম বীন ও কমলঞ্জের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশেকুল হক এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক বিশ্বজিৎ সিংহ বলেন, ‘ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে দুই শিশু ভর্তি রয়েছে। কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার আশেকুল হক বলেন, ‘দুই দিনে কমলগঞ্জে ৫ জনের মৃত্যুর খবর পেয়েছি। বিষয়টি মৌলভীবাজারের জেলা প্রশসাককে জানিয়ে আরো শীত বস্ত্র চাওয়া হয়েছে। বরাদ্দ এলে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শীতবস্ত্র বিতরণ অব্যাহত ভাবে নিম্ম আয়ের মানুষদের জন্য শীতবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রম জোরদার করা হবে।’
‘কানিহাটি চা বাগান ও ডবলছড়া চা বাগানে প্রচন্ড ঠান্ডায় বৃদ্ধ লোকের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (২১ ডিসেম্বর) সকাল ১০টায় কমলগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকা ডবলছড়া চা বাগানের রাজেন্দ্র তুলিয়ার স্ত্রী বুলেশ্বরী তুলিয়া (৬০) এবং কানিহাটি চা বাগানের মিরা বীনের ছেলে হরিয়া বীন (৬০), আলীনগর ইউনিয়নের কামুদপুর আশ্রয়ন প্রকল্পের বাসিন্দা আঞ্জব আলীর (৬৫), আগের দিন শুক্রবার (২০ ডিসেম্বর) দুপুরে শমশেরনগর ইউনিয়নের ফাঁড়ি ডবলছড়া চা বাগানের সুবল চাষার ছেলে রাখাল চাষা (৪৬) ও আপ্পালু কুর্মীর স্ত্রী দাঙ্গামা কুর্মী (৬০) সহ ৫জনের মৃত্যু হয়েছে।
শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের সিনিয়র আবহাওয়া পর্যক্ষেক মুজিবুর রহমান জানান, গত ৫দিন ধরে তাপমাত্রা ১০-১১-১২ ডিগ্রীতে উঠানামা করছে। আজ সকাল ৬টায় রেকর্ড করা হয়েছে ১১ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। মৌলভীবাজারে শীতের তীব্রতা একটু বেশি অনুভূত হচ্ছে তবে আগামীকাল মঙ্গলবার থেকে ঠান্ডা কমতে পারে বলে জানান ওই কর্মকর্তা।
মৌলভীবাজারের সিভিল সার্জন ডা: শাহাজাহান কবির চৌধুরী জানান, গত এক সপ্তাহে জরুরি বিভাগে প্রায় ৫ শতাধীক রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। বিশেষ করে হাঁপানি, জ্বর, সর্দি-কাশি ও ঠান্ডাজনিত কারণে আক্রান্ত রোগীরা চিকিৎসা নিয়েছেন। শিশু ও বৃদ্ধরা বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন।
মৌলভীবাজার জেলার দুর্যোগ, ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. আশরাফ আলী জানান, ‘ইতোমধ্যে জেলার সাতটি উপজেলায় শীতার্ত মানুষের মাঝে বিতরণের জন্য প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণভান্ডার থেকে পাওয়া ৪১ হাজার ২০০ কম্বল (শীতবস্ত্র) বিতরণ করা হয়েছে। আরও বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে।
নিউজ নাউ/বান্না/২০১৯

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

আপনার মতামত জানান

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More