মোশতাকরা আমাদের সাথেই রয়েছে

জাহাঙ্গীর কবির নানক: এক/এগারোর প্রেক্ষাপট তুলে ধরে আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেছেন, দল যখনি কোন পরিস্থিতির সংকটের মুখোমুখি হয় তখনি কিছু মোশতাক আহমেদ বেরিয়ে যায়। এই মোশতাকরা বর্ণচোরা। এরা আমাদের সাথেই থাকে। এরা আমাদের সাথেই রয়েছে। এদেরকে চিনতে হবে। এদেরকে সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। এদের মুখোশ উন্মোচন করতে হবে।

রোববার বিকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয় বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার কারা অন্তরীণ দিবসের আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

এক/এগারোর সময় নেত্রী গ্রেফতার হওয়ার পূর্বে দেয়া বার্তা দেয়ার প্রসঙ্গ তুলে ধরে জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, নেত্রীর শেষ বার্তাটি তিনি দিয়েছিলেন, আমার সাথে যে শেষ কথাটি হয়েছিল; সেই কথাটি ছিল-নানক আমি চলে যাচ্ছি বিশ্বাসঘাতকার কি দেখছ? দেখতে পাবে আমি গ্রেফতার হবার পরে? বিশ্বাসঘাতকতা দেখতে পাবে। আমি জিল্লুর চাচাকে দলের দায়িত্ব দিয়ে গেলাম অস্থায়ী সভাপতি হিসাবে।

তার নেতৃত্বে তার নির্দেশে কাজ করবে।
আর একটি কথা তিনি বলেছিলেন, সেই কথাটি হল-তোমাদের ছোট আপা লন্ডনে রয়েছে। তার সঙ্গে যোগাযোগ রাখবে। যোগাযোগ রেখে সমস্ত পরিস্থিতি মোকাবেলা করবে বলেও জানান তৎকালীন যুবলীগ চেয়ারম্যানের দায়িত্বে থাকা নানক।
শেখ হাসিনার গ্রেফতার হওয়ার পরে ছাত্রলীগ, যুবলীগ স্বেচ্ছাসেবক লীগ সংগঠনেগুলো প্রতিবাদ করার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, সেদিনের পরিস্থিতি কি ছিল? আমাদের প্রিয় নেত্রীকে গ্রেফতার করে যখন আদালতে করা হাজির করা হল? তখন সেই আদালতে আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনা ৪০ মিনিট বক্তব্য দিয়েছিলেন কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে।

আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার প্রতিবাদী বক্তব্যের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে সভাপতিমন্ডলীর সদস্য নানক বলেন, সেই বক্তব্য ছিল এক/এগারোর কুশীলবদের একটি চপেটাঘাত। সেদিনেই এক নবতর যাত্রা শুরু হল।
সেদিন দলের অভ্যন্তরে ছিল অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ। আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা ডাকা হয়েছিল ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে। সেই বর্ধিত সভায় ওরা ভেবেছিল ওই ষড়যন্ত্রকারীরা, ওই সংস্কারবাদীরা সেখানে তারা তাদের মনের মতো করে সিদ্ধান্ত নিবেন। কিন্তু সিদ্ধান্ত নিতে পারে নাই। ওই ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে সমস্ত জেলা থেকে আসা সভাপতি সাধারণ সম্পাদকরা পরিষ্কারভাবে বলেছিলেন, নো হাসিনা নো ইলেকশন, কোন অবস্থাতেই মানা হবে না। সেদিনের সেই প্রেক্ষাপট তুলে ধরে সংগঠনের নেতাকর্মীদের ইতিহাস জানার আহ্বান জানিয়ে নানক বলেন, আপনাদেরকে ঘটনা জানতে হবে। আপনাদের চিনতে হবে। আপনাদেরকে বুঝতে হবে। এদের সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। এদের মুখোশ উন্মোচন করতে হবে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ যখন এগিয়ে যাচ্ছে তখন চলার পথে উন্নয়নের যখন অনেক উপরে আমরা পৌঁছে গিয়েছিলাম তখনি সারা পৃথিবীতে করোনা কোভিড-১৯’ এর মতো একটি মহামারি আমাদের আক্রমণ করে। এর থেকে বাংলাদেশ বিচ্ছিন্ন হয়নি। বাংলাদেশ করোনা আক্রান্ত হয়েছে। করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর বাংলাদেশকে গত ১৬ মাস কোভিডের মধ্যে জীবন এবং জীবিকা উভয়কে একসাথে পরিচালনা করে দেশের অর্থনৈতিক প্রবাহ, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিকে বজায় রেখেছেন শেখ হাসিনা বলে দাবি করেন তিনি।

কিন্তু চোরে না শোনে ধর্মের কাহিনী। আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনা যখন ভ্যাকসিন নিয়ে আসেন, তখন মির্জা ফখরুল সাহেবরা বলেছিলেন ভ্যাকসিন ওনারা দেবেন না। এই ভ্যাকসিন নিয়ে অপপ্রচার চালিয়েছিল। এখন ভ্যাকসিন দন্ডপ্রাপ্ত খালেদা জিয়াও ভ্যাকসিন দিতে চায়।

মির্জা ফখরুল সাহেব আপনি বলতে চান যে সরকার অপরিল্পিত পদক্ষেপ নিয়েছিল। কিন্তু বাংলাদেশ দেখেছে শেখ হাসিনার পরিকল্পনাটা কি? আপনারা তো একটি বাকবাকুম পার্টিতে পরিণত হয়েছেন। আপনাদের নেতা কে? আপনারা গন্তব্যহীন পথে এগোচ্ছেন। আপনাদের নেতা কারা? আপনারা কোভিড-১৯’র মধ্যে যখন আমাদের ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, কৃষক লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, যুব মহিলা লীগ যখন শেখ হাসিনার নির্দেশে দুস্থ সেবায় এগিয়ে এসেছেন তখন আপনারা এক কড়া/ এক ছটাক চাল দিয়েও মানুষকে সহযোগিতা করেননি।

করোনা মহামারি চলাচলে দুঃস্থ অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর যে দৃষ্টান্ত ছাত্রলীগ স্থাপন করেছে, তা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানানোর পাশাপাশি যেকোন ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে যেকোন ষড়যন্ত্রের বিষদাঁত ভেঙ্গে দিয়ে শেখ হাসিনার বিচক্ষণ নেতৃত্বে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা করেন জাহাঙ্গীর কবির নানক।

ওয়ান-ইলেভেনের স্মৃতিচারণ করে তিনি আরও বলেন, সেদিন বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনাকে গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্য ছিল জনগণের কন্ঠরোধ করে দেওয়া। জনগণের অধিকার হরণের একটি কূটনৈতিক প্রক্রিয়া। এর শুরুটা হয় ২০০১ সালে। সে সময় তারা গণতন্ত্র রক্ষা কবজ শেখ হাসিনাকে হত্যার নীলনকশা করে। তারই অংশ হিসেবে বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে একুশে গ্রেনেড হামলায় ঘটনা ঘটায়। মৃত্যুকে আলিঙ্গন করে শেখ হাসিনা যে স্বপ্ন নিয়ে লড়াই করছেন তা হলো জনগণের ভোট এবং ভাতের অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াই। যখন তিনি জনগণ ধারপ্রান্তে, ঠিক সেই মুহূর্তে জাতীয়-আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রকারীরা এবং দলের অভ্যন্তরীণ সুবিধাবাদী উচ্চবিলাসী একটি সংস্কারপন্থী গোষ্ঠী ঐক্যবদ্ধভাবে আমাদের বিজয়কে ব্যাহত করেতে ওয়ান ইলেভেন ঘটায়।

সভায় আওয়ামী লীগের যুগ্মসাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, ওয়ান-ইলেভেনের সময় মাননীয় নেত্রী শেখ হাসিনাকে যারা কারাবন্দি করেছিল এবং এর পিছনে যারা নীল নকশা এঁকেছেন, তাদেরকে শাস্তির আওতায় আনা হোক। দেশ-বিদেশে তারা যেখানেই থাকুক না কেন দেশের শান্তি এবং গণতন্ত্রকে রক্ষার্থে তাদেরকে বিচারের আওতায় আনা প্রয়োজন। যারা শেখ হাসিনাকে, বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও দেশের গণতন্ত্রকে মাইনাস করতে চেয়েছিল তাদের বিরুদ্ধে একটা বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন গঠন করে সেই নীল নকশাকারীদের মুখোশ উন্মোচন করে দেওয়া হোক। ছাত্রলীগের উদ্দেশে তিনি বলেন, আজকের ছাত্রলীগের নেতৃত্ব কারীরা আগামী দিনের বাংলাদেশের নেতৃত্ব দিবেন। ছাত্রলীগই বিএনপি-জামাতসহ সকল অপশক্তি কে প্রতিহত করে শান্তির সমৃদ্ধ দেশ গঠনে কাজ করবে।

আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন। সভায় আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মাহমুদ হাসান রিপন, মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি শেখ সোহেল রানা টিপু, সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ সাকিব বাদশা, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য।

লেখক: আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য

নিউজনাউ/এসএ/২০২১

+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
আপনার মতামত জানান
%d bloggers like this: