লকডাউনে গার্মেন্টস খোলা রাখার আবেদন নওফেলের

চট্টগ্রাম ব্যুরো: আগামী ২৩ তারিখের পর যে লকডাউন হবে তখন শিল্প কারখানা খোলা রাখতে সরকারের কাছে আবেদন জানাবেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল । তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের কথা ভাবতে হবে। আমরা জানি সবকিছু বন্ধ হয়ে গেলে নিন্ম আয়ের মানুষের থাকার জায়গাও থাকে না। রপ্তানিমুখী কারখানা গুলো যদি খোলা থাকে, আমাদের সাথে কোন ব্যবসায়ীর সেই সম্পর্ক না। বাস্তবতার নিরিখেই আমাদের ভাবতে হবে।

শনিবার (১৭ই জুলাই) নগরের লালখান বাজারে শহীদ নগর উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শ্রমিক অধ্যুষিত এলাকায় প্রধানমন্ত্রী’র উপহার বিতরণে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এইসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, আমাদের কারখানার কর্মীরা কারখানা বন্ধ থাকলে ঘরেই থাকবেন। তখন তারা একসাথে সবাই ঘরে থাকলে আরো বেশি মাখামাখি হয়। অনেক মানুষ এইখানে আছেন যারা গার্মেন্টসে চাকরি করেন। যেই শিফটে তারা চাকরি করতে যান তখন ঘরে একজন লোক ঘুমাতে পারে, রান্না করতে পারে। এখন সবাই যদি ঘরে থাকেন তাহলে আরো বেশি অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের সৃষ্টি হবে।

চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য নওফেল বলেন, তাই আমরা সরকারি পর্যায়ে আহবান রাখব যারা স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে এবং শ্রমিকদের নিয়ে গিয়ে কারখানা চালান সেগুলা যাতে খোলা রাখা হয়। আমরা আশা করছি সবাই দ্রুত ভ্যাকসিন দিতে পারবে। আমাদের প্রধানমন্ত্রী কোটি কোটি ভ্যাকসিন আনছেন। আপনারা তার জন্য দোয়া করবেন।

তিনি আরো বলেন, আপনারা আজকে যে সাহায্য পাচ্ছেন তা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা’র উপহার। উনি রাষ্ট্রের সকল দরজা খুলে দিয়েছেন, সাধারণ মানুষ-কে খাবার ও অর্থ দেওয়ার জন্য, সহযোগিতা করার জন্য। কারণ তিনি চান এই সময়ে আমরা যতটুকু সম্ভব লকডাউন মেনে চলি, ঘরে থাকি। তারপরেও আমরা-আপনারা যদি লকডাউন মেনে না চলি, তাতে যদি করোনায় আক্রান্ত হয়ে আপনার পরিবারের কর্মক্ষম লোকটা মারা যান তাহলে আপনাদের সারাজীবন আপসোস করা ছাড়া আর কিছুই করার থাকবে না। তখন কিন্তু পুরো পরিবারই পথে বসে যাবে। এইটা ভেবেই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী খাবারের দরজা উন্মুক্ত করে দিয়েছেন।তিনি শুধু দিয়েই যাচ্ছেন, তার প্রতিদানে হিসেবে আমাদেরও তাকে কিছু দিতে হবে।

নওফেল বলেন, আমরা তাকে একটা জিনিসই দিতে পারি তা হচ্ছে আমরা যেখানেই যায় না কেন সবসময় যাতে করে মাস্ক টা পরে থাকি। এই জিনিস টা আমরা উনাকে দিতে পারি। এইটা যদি আমরা শতভাগ নিশ্চিত করতে পারি তাহলে করোনা বাংলাদেশে অনেকাংশে কমে যাবে। তখন আর কোন লকডাউনের প্রয়োজন হবে।

শিক্ষা উপমন্ত্রী আরো বলেন, এই লকডাউনে গরীবের কষ্ট হচ্ছে আর সেই কষ্টে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা’র হৃদয়ের রক্তক্ষরণ হচ্ছে। তাই এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে সবাই কে সচেতন হতে হবে।

১৪নং লালখান বাজার ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবুল হাসনাত মোহাম্মদ বেলাল এর সভাপতিত্বে চলমান লকডাউনে কর্মহীন মানুষের মাঝে প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা’র উপহার (নগদ অর্থ ও চাউল) বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ও শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক শফিকুল ইসলাম ফারুক, ১৪নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব সিদ্দিকী আহমেদ, পেশাজীবি নেতা আমজাদ হাজারী, নগর ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সালাউদ্দিন, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি শেখ দেলোয়ার হোসেন, সংরক্ষিত আসনের মহিলা কাউন্সিলর আঞ্জুমান আরা, অতিথি হিসেবে আরো উপস্থিত ছিলেন নগর যুবলীগের সদস্য সুরুত কুমার চৌধুরী ইউনিট আওয়ামী লীগে সভাপতি আলী আহমেদ, ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি ইকবাল হোসেন হিরণ, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতা হাবিবুর রহমানসহ অনেকে।

নিউজনাউ/আরবি/২০২১

+1
0
+1
1
+1
0
+1
0
+1
0
+1
1
+1
0
আপনার মতামত জানান
%d bloggers like this: