সড়কের ফিরেছে প্রাণ, দেহের থাকবে তো!

চট্টগ্রাম ব্যুরো : করোনা সংক্রমণ আর মৃত্যুতে রেকর্ড ভাঙা দিনগুলোয় শিথিল হয়েছে চলমান কঠোর লকডাউন। পহেলা জুলাই থেকে দেশব্যাপী চলেছে ১৪ দিনের বিধিনিষেধ। তবে কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে তুলে নেওয়া হয়েছে লকডাউনের কঠোরতা। এতেই পুরোনো রূপে ফিরেছে চট্টগ্রামের সড়কগুলো। চিরায়ত যানজটেই যেন ফিরে এসেছে সড়কের প্রাণ! তবে প্রয়োজন এবং অপ্রয়োজনে দেদারছে স্বাস্থ্যবিধি ছাড়াই সড়কে ঘুরছে গাড়ি, হাটছে আর মোড়ে মোড়ে আড্ডা দিচ্ছে মানুষ। তাই প্রশ্ন দেখা দিয়েছে সড়কের প্রাণ ফিরলেও ঊর্দ্ধমুখী করোনায় দেহের প্রাণ থাকবে তো?

কোরবানকে কেন্দ্র করে চলমান লকডাউন শিথিল করায় উদ্বেগ জানিয়ে কোরবানির পশুর হাট বন্ধসহ আরও ১৪ দিন কঠোর লকডাউনের সুপারিশ করেছে কোভিড-১৯ সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি। বিবৃতিতে বলা হয়, দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ আবারও আশঙ্কাজনকভাবে বাড়তে শুরু করেছে। এ অবস্থায় লকডাউন শিথিল করার সরকারি সিদ্ধান্ত গভীর উদ্বেগের।

এদিকে দেশের আর্থ সামাজিক অবস্থা এবং অর্থনৈতিক কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখার স্বার্থে বুধবার মধ্যরাত থেকে আটদিনের জন্য শিথিল করা হয়েছে কঠোর লকডাউন। তাতে সড়কে গণপরিবহন চলাচলের পাশাপাশি খুলেছে দোকানপাট, শপিংমলসহ প্রায় সকল অফিস আদালত।

বৃহস্পতিবার (১৫ জুলাই) সকালে চট্টগ্রামের অক্সিজেন, বহদ্দদারহাট, মুরাদপুর, জিইসি, নিউমার্কেট, আগ্রাবাদ, কোতোয়ালী, আন্দরকিল্লা, চকবাজারসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, সকাল থেকেই সড়কে অফিসগামী মানুষের ভিড়। গন্তব্যে যেতে বাস স্টপেজগুলোতে অপেক্ষা করছেন যাত্রীরা। সড়কে একসাথে গণপরিবহনে উঠতে গিয়ে হুড়োহুড়িতে মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি। এছাড়াও ব্যক্তিগত গাড়ি আর রিকশার দাফটে প্রায় সব সড়কে তৈরি হচ্ছে যানজটের।

দীর্ঘদিন পর সবাই একসাথে বের হওয়ায় সংকট ছিল গাড়ি পাওয়া নিয়েও। কারণ স্বাস্থ্যবিধি মেনে এক আসন ফাঁকা রেখে গণপরিবহন চলায় প্রায় সব বাসই একটি স্টপেজ থেকেই তুলছে সকল যাত্রী। এতে মাঝপথে অপেক্ষমাণ যাত্রীদের অপেক্ষা বাড়ছে বহুগুণ। সাথে আছে রোদের ক্ষিপ্রতা। সব মিলিয়ে সড়ক পরিণত হয়েছে হ-য-ব-র-ল অবস্থায়। তবে গণপরিবহন চলাচল করায় অর্থে সাশ্রয় হচ্ছে দেখে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন অফিসগামীরা।

কামরুল ইসলাম নামের এক গার্মেন্টসকর্মী বলছিলেন, এইমাসের বেতনের অর্ধেক তো চলে যাচ্ছে রিকশা ভাড়ায়। বোনাস পাব কিনা তাও ঠিক নেই। কতদিন হেটে অফিস গেছি ঠিক নেই। গণপরিবহন চলায় কিছুটা সাশ্রয় তো হলো।

তবে এই লকডাউন শিথিল করায় করোনা সংক্রমণ ব্যাপক হতে পারে বলে জানিয়েছেন হেলথ অ্যান্ড হোপ স্পেশালাইজড হাসপাতালের পরিচালক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী। তিনি নিউজনাউকে বলেন, আমরা মনে করছি দুইসপ্তাহের যে লকডাউন সেটাতে করোনা সংক্রমণের ঊর্দ্ধগতি সেটা রোধ করা যায়নি। এই অবস্থায় কোভিড-১৯ সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি আরও দুই সপ্তাহ লকডাউনের প্রস্তাব করেছে। আমাদের মনে হচ্ছে কোরবানির ঈদে পশুর হাটকে কেন্দ্র করে গাধাগাধি করে যাওয়া ইত্যাদি বেড়ে যাবে। ফলে সংক্রমণের হার এবং মৃত্যুর হারও বেড়ে যাবে। যার মধ্যে দিয়ে চিকিৎসা ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে। এই লকডাউন শিথিল করার পিছনে বিজ্ঞান সম্মত কোন ভিত্তি নেই।

জনস্বাস্থ্য অধিকার রক্ষা কমিটি, চট্টগ্রামের সদস্য সচিব ডা. সুশান্ত বড়ুয়া নিউজনাউকে বলেন, যেকোন রকমের স্বাস্থ্যবিধির শিথিলতায় অবশ্যই সংক্রমণ বাড়বে। জনগণের নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য নিশ্চিত করে লকডাউন আরো বাড়লে সেটা ভালো হত। এটা না করে লকডাউন দিলে করোনার চেয়ে অনাহারে থেকেও অনেকের মৃত্যু হতে পারে। করোনা সংক্রমণ যদি সত্যিই লাগাম টানতে হয় তাহলে গরীব মানুষের খাদ্যদ্রব্য নিশ্চিত করে এবং কোরবানির পশুর হাটে আরো কড়াকড়ি আরোপ করায় ছিল সমীচীন।

নিউজনাউ/পিপিএন/২০২

+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
আপনার মতামত জানান
%d bloggers like this: