জয়পুরহাটে দেড়লাখ কুরবানির পশু নিয়ে শঙ্কায় প্রান্তিক খামারিরা

জয়পুরহাট প্রতিনিধি: উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোর মধ্যে সীমান্ত ঘেঁষা জেলা জয়পুরহাটে অধিক কোরবানির পশু উৎপাদন করে থাকে কৃষক ও খামারিরা। ভারতীয় গরু না আসায় দেশীয় গরুর উৎপাদন যেমন বেড়েছে তেমনি চাহিদাও বেড়েছে এ জেলায়, কিন্তু ক্রমাগত লকডাউনের কারণে দেশের বড় পশু সরবরাহকারী জেলার হাটগুলো বন্ধ রয়েছে আর এতে বেকায়দায় পড়েছে ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ই।

যদিও অনলাইনে পশু বিক্রির জোড় দেওয়া হচ্ছে, কিন্তু ছোট খামারী কিংবা সাধারণ কৃষকরা এতে সাড়া পাচ্ছেনা তেমন ফলে কুরবানীর পশু বিক্রি নিয়ে শঙ্কায় পড়েছে জেলার কৃষক ও খামারীরা।

জয়পুরহাটের সদর উপজেলার জামালপুর গ্রামের সৌখিন খামারী মঞ্জুরুল আলম জানান, একটি ফ্রিজিয়ন জাতের গরু লালন পালন করেছেন তিনি। যার ওজন ৩০মণ, লম্বায় ১০ফুট আর উচ্চতায় ৫ফুট ৬ ইঞ্চি । এবারের কুরবানির ঈদে এটিই জেলার বড় গরু,যার দাম হাঁকাচ্ছেন ১৫ লাখ টাকা। দেশীয় পদ্ধতিতে লালন পালন করা এই গরুটিকে বিক্রি করা নিয়ে তিনি পড়েছেন চরম দুচিন্তায়।

সদর উপজেলার আমদই চৌমুহুনী গ্রামের মেসার্স ফ্রেন্স এগ্রো ফার্মের খামারী হাসানুল বান্না জানান, তার খামারে ২২টি গরু রয়েছে, কিন্তু বর্তমানে এখনো একটি গরুও তিনি বিক্রি করতে পারেন নি। তিনি আরো বলেন এমনিতেই গরুর খাদ্যের দাম অনেকটাই বেশি এই অবস্থায় আমাদের কি হবে তা আমরা বুঝতে পারছি না। এ নিয়ে আমরা চরম দুশ্চিন্তার মধ্যে রয়েছি।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ রাশেদুল ইসলাম জানান, করোনা ভাইরাস ও লকডাউনের কারণে এবছর পশুর উৎপাদন খরচ বেশি তাই বেশি দামে পশু বিক্রি না হলে লোকসান গুনবে খামারীরা।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ মাহফুজার রহমান জানান, কোরবানি ঈদে জেলার চাহিদা মিটিয়ে দেশের অন্যত্র পশু সরবরাহের জন্য অনলাইনে পশু বিক্রির প্লাটফর্ম তৈরি করে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হয়েছে বলে জানান, জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা।

আসন্ন কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে জেলায় এবছর দেড় লাখ পশু প্রস্তুত করা হয়েছে এরমধ্যে ৫০ হাজারের বেশি পশু অন্য জেলায় বিক্রির কথা রয়েছে।

নিউজনাউ/আরবি/২০২১

+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
আপনার মতামত জানান
%d bloggers like this: