মানিকগঞ্জের ঘিওরে নৌকার হাটের বিক্রেতাদের হতাশা

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি: চারিদিকে নদনদী বেষ্টিত মানিকগঞ্জ জেলার ঘিওর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী নৌকার হাটে এবছর ও সাড়ি সাড়ি নৌকায় ভরে গেলোও বেচা-কেনা নিয়ে হতাশা দেখা দিয়েছে বিক্রেতাদের মাঝে।

প্রতিবছরই বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই উপজেলার কেন্দ্রীয় ঈদগাঁ মাঠে বসে এ নৌকার হাট। জেলার ব্যবসায়ীরা ছাড়াও বাইরের জেলা টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ, পাবনা ও ঢাকার সাভার থেকে নৌকা নিয়ে আসেন এ হাটে । কড়ই, আম, রোড চাম্বল, রেইনট্রি ও মেহেরগুনি কাঠের তৈরি ১০-১২ হাত নৌকা আকার ও মানভেদে বিক্রি হয় ৩ – ১২ হাজার টাকায়।

প্রতিবছর এসময় নৌকার হাটে ক্রেতা- বিক্রেতাদের হাক-ডাকে সরগরম থাকলেও এবার কাঙ্ক্ষিত ক্রেতার দেখা মিলছেনা। তাছাড়া এবছর নৌকা তৈরির কারিগর ও পরিবহন খরচ বেড়েছে তারপর হাটে নেই বেচাকেনা। লাভতো দূরের কথা মূলধন ফিরে পাওয়া নিয়েই শঙ্কিত ব্যবসায়ীরা। এছাড়া ব্যবসায়ীরা আরও জানিয়েছেন, জীবন-জীবিকার কথা বিবেচনায় নিয়ে সরকারের উচিত লকডাউন শিথিল করা। এভাবে চলতে থাকলে মূলধন হারিয়ে তাদের মতন অনেক নিম্ন ও মধ্যম শ্রেণীর ব্যবসায়ীরা পথে বসে যাবেন।

অন্যদিকে হাটে নৌকা কিনতে আসা আবুল হোসেন, রসুমিয়া, তমছের আলীসহ আরও কয়েকজন ক্রেতা জানিয়েছেন, এ বছর বর্ষার পানি অনেক ধীর গতিতে প্রবেশ করছে খাল, বিল, মাঠেঘাটে। তাছাড়া মহামারি করোনা ভাইরাসের কারনে লকডাউন চলায় বেশীর ভাগ মধ্যম ও নিম্ন আয়ের মানুষ কর্মহীন হয়ে তাদের আয় রোজগার বন্ধ হয়ে গেছে। তাই এ বছর অতীব জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ নৌকা কিনছেন। আর তাছাড়া এবার নৌকার দাম গতবারের তুলনায় বেশী বলে জানান, তারা।

এদিকে ঘিওর উপজেলা চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান জানান, পূর্ব- পুরুষদের মুখে শুনেছি এ নৌকার হাটের কথা। বর্ষার আগমন আসলে এ হাটে ক্রেতা-বিক্রেতার হাকডাকে সরগরম হয়। জেলায় এ হাটের যেমন সুনাম আছে তেমনি এ হাটটি মানিকগঞ্জের ইতিহাস-ঐতিহ্যের সাথে মিশে আছে।

নিউজনাউ/আরবি/২০২১

+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
আপনার মতামত জানান
%d bloggers like this: