পাটুরিয়ায় অবাধে পার হচ্ছে যাত্রী ও ব্যক্তিগত গাড়ি

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি: করোনা সংক্রমণ বিস্তার রোধে গত ৯ জুলাই বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্পোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) ফেরিতে যাত্রীবাহী সকল গাড়ি ও যাত্রী পারাপার বন্ধ রাখা সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করে। কিন্তু নির্দেশনা অমান্য করেই দক্ষিণবঙ্গের ২১ জেলার মানুষের প্রবেশদ্বার হিসেবে খ্যাত মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌ-রুটের পাটুরিয়া ফেরিঘাটে অবাধে যাত্রী ও যাত্রীবাহী যানবাহন পারাপার হলেও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কোন নজরদারি নেই।

সোমবার(১২ জুলাই) ৩ নম্বর ও ৪ নম্বর ফেরিঘাট এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে ঘাটে যাত্রী ভাড়া কালেকশনে ব্যস্ত ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের কালেক্টর আর ফেরিতে যানবাহন উঠাতে ব্যস্ত বিআইডব্লিউটিসির দ্বায়িত্বরত কর্মকর্তারা। এছাড়াও ঘাটে অপেক্ষায় আছে শতাধিকের উপরে পণ্যবাহী ট্রাক।

ঢাকা থেকে নড়াইলগামী ফেরির যাত্রী আনোয়ার হোসেন জানান, লকডাউনে কাজ না থাকায় গ্রামের বাড়ি নড়াইলে যাচ্ছি।গাড়ি না থাকায় ঢাকা থেকে ভেঙ্গে ভেঙ্গে আটোরিকশা, মটর সাইকেল করে পৌঁছেছি ফেরিঘাটে। তবে ঘাটের প্রবেশ পথে কোন চেকপোস্ট পাইনি। কোন প্রকার বাধা ছাড়াই ফেরি ভাড়া দিয়ে পার হয়ে চলে যাচ্ছি গন্তব্যের উদ্দেশ্যে।

রাজবাড়ির দৌলতদিয়া প্রান্ত থেকে ফেরি পার হয়ে আসা ঢাকাগামী যাত্রী রাজু আহাম্মেদ জানান, আমি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকুরি করি জরুরী প্রয়োজনে গ্রামের বাড়ি কুষ্টিয়ার খোকশায় গিয়েছিলাম। আজকে ঢাকায় ফিরছি। তবে ফেরাপথে বা ফেরি পার হতে কোথাও কোন বাধা বা জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে হয়নি। গণপরিবহন বন্ধ থাকায় বাড়তি ভাড়া দিয়ে ভোগান্তি পোহাতে পোহাতে যেতে হচ্ছে বলে জানান তিনি।

ঢাকা-থেকে ফরিদপুরগামী মটর সাইকেল আরোহী সাজ্জাদ হোসেন বলেন, আমরা স্বামী-স্ত্রী দুজন মিলেই যাচ্ছি ফরিদপুরের সদরপুরে শশুর বাড়িতে বেড়াতে। ঢাকা থেকে আসতে কিংবা ঘাটের প্রবেশপথে কোন বাধার মুখে পড়তে হয়নি। তাছাড়া ফেরিতে উঠতেও কোন ঝামেলা হয় অনেকটা বাধা-বিঘ্নহীন ভাবেই ফেরিতে উঠতে পেরেছেন বলে জানান তিনি।

এদিকে বিআইডব্লিউটিসি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, এ নৌ- রুটে ৯ টি রোরো ও ৭ টি ইউটিলিসহ মোট ১৬ টি ফেরি দিয়ে যাত্রী ও যানবাহন পারাপার করা হলেও, লকডাউনের কারণে দূরপাল্লার যাত্রীবাহী বাস বন্ধ থাকায় যানবাহন পারাপারের চাপ কম থাকায় ১০ টি ফেরি দিয়ে যানবাহন পারাপার করা হচ্ছে।

অন্যদিকে বিআইডব্লিউটিসির আরিচা কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত (ডিজিএম) জিল্লুর রহমান জানান, আমি এ বিষয়ে কিছুই জানিনা। দুই-একটা যাত্রীবাহী গাড়ি রিকুয়েস্টে পার হচ্ছে। তাছাড়া এত চেকপোস্ট এত পুলিশ, বিজিবি সেনাবাহিনী থাকার পরেও মানুষ কিভাবে আসছে ফেরিঘাটে। তাদেরকে কেন জেল- জরিমানা করা হচ্ছেনা বা ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছেনা। ঘাটে মানুষ আসলে গাড়ি আসলে বাধ্য হয়েই পার করতে হয় আমাদের। এ বিষয়ে আপনি প্রশাসনের কর্মকর্তারা ভালো বলতে পারবেন উনাদের সাথে কথা বলেন বলে জানান তিনি।

এ বিষয়ে শিবালয় থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফিরোজ কবির জানান, যেহেতু যাত্রী গাড়ি ও যাত্রী পারাপার বন্ধে নির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরশন (বিআইডব্লিউটিসি)। নির্দেশ অমান্য করে যদি ফেরিতে যাত্রী ও যাত্রীবাহী গাড়ি পারাপার হয় তার দায়ভার ঘাটের বিআইডব্লিউটিসি কর্তৃপক্ষের। তবে ঘাট এলাকায় কঠোর নজরদারি মধ্যে আছে। জরুরী পণ্যবাহী যানবাহন ও এম্বুলেন্স ব্যতীত কাউকেই ঘাটে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছেনা।

নিউজনাউ/আরবি/২০২১

+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
আপনার মতামত জানান
%d bloggers like this: