অব্যবস্থাপনা ও অসতর্কতায় মহাসড়কে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি বাড়ছে

মোঃ সোহেল রানা,মানিকগঞ্জ থেকে : রাজধানী ঢাকা থেকে দক্ষিনাঞ্চলের ২১ জেলা মানুষের যাতায়াতের অন্যতম মাধ্যম ব্যস্ততম ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক। ৮৮ কিলোমিটার এ মহাসড়কের মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ফেরি ঘাট থেকে তরা ব্রীজ পর্যন্ত ২৩ কিলোমিটার এলাকায় সবচেয়ে বেশী দুর্ঘটনা ঘটে এমনকি দুর্ঘটনায় প্রাণহানির সংখ্যাও বেশী ঘটে।

সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ বাস্তবায়নের পর নভেম্বর থেকে ডিসেম্বরের ১০ তারিখ পর্যন্ত ৪০ দিনে ২৩ কিলোমিটার এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় প্রান গেছে ৮ জনের আহত হয়েছেন আরো ৮/১০ জন।

হাইওয়ে পুলিশ মহাসড়কের এ এরিয়ার ১৮/২০ টি পয়েন্ট ঝুঁকিপুর্ন হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। যার মধ্যে ৮/১০টি পয়েন্ট অতি ঝুঁকিপুর্ন। আর এ অতি ঝুঁকিপুর্ন এলাকাগুলোতেই দুর্ঘটনাগুলো বেশী ঘটছে।

যাত্রীবাহী বাস, ট্রাকের কয়েকজন চালক জানান, সরকার মহাসড়কে দুর্ঘটনা রোধে যে আইন করেছে সে আইনকে আমরা সাধুবাদ জানাই, কিন্তু এ আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে বা দুর্ঘটনা রোধে যে ধরনের সড়ক অবকাঠামো গড়ে তোলা দরকার সে ধরনের কোন সড়ক অবকাঠামো ব্যবস্থা এ মহাসড়কে এখনো করা হয়নি। ৮৮ কিলোমিটার মহাসড়কের প্রায় সবটুকু অংশই ত্রটিপূণ। একেতো অনেক সরু সড়ক আবার তারপর যানবাহনের প্রচুর চাপ, যেখানে সেখানে বাক এবং এই বাকগুলোতে নিয়মিত না মেনেই করা হয়েছে ডিভাইডার, তাছাড়া মহাসড়কে স্বল্পগতির যানবাহন, পথচারীদের হাটাচলা, স্ট্যান্ড গুলোতে যাত্রী ও জনসাধারণের পারাপারের জন্য নেই কোন ওভারব্রীজ বা আন্ডারপাস রাস্তা। আপনারাই বলুন একটা মহাসড়ক নির্মানে যদি এত ত্রুটি থাকে তাহলে সে সড়কে দুর্ঘটনায় প্রানহানির সংখ্যা কি করে কমবে?
আর বিশ্লেষকেরা জানান, সড়ক দুর্ঘটনা রোধে কঠোর আইনের বাস্তবায়ন যেমন সরকারের যুগান্তকারী প্রদক্ষেপ ঠিক তেমনি ভাবে ত্রটিমুক্ত মহাসড়ক ব্যবস্থা দ্রুত সময়ের মধ্যে গড়ে তুলতে পারলে নতুন এ আইন বাস্তবায়নের সফলতার মুখ দেখবে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই।
সড়ক-মহাসড়কের শৃঙ্খলা রক্ষা ও দুর্ঘটনা রোধে কঠোর আইনের প্রয়োগ যেমন জরুরী তার চেয়ে আরো জরুরী স্বল্প সময়ের মধ্যে ত্রুটিমুক্ত সড়ক অবকাঠামো গড়ে তোলা।

এখানকার সচেতন মহলের মতে, মহাসড়কে দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে চালকদের বেপরোয়া গতিতে চালানো, পথচারীদের রাস্তা পারাপারে অসতর্কতা, ঘাটের যানজট, স্ট্যান্ড ও স্কুল কলেজ, হাসপাতাল সমুহের সামনে গতিরোধক না থাকা, পথচারী ও ছাত্রছাত্রীদের মহাসড়ক পারাপারের ক্ষেত্রে ফুডওভার ব্রীজ ও আন্ডারপাস না থাকা , রাস্তার ধারন ক্ষমতা বাইরে নিত্য নতুন পরিবহনের ব্যানার চলাচলের জন্য অনুমতি দেওয়ার কারনে এ মহাসড়কের দুর্ঘটনায় প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে চলেছে।

এ বিষয়ে বরংগাইল হাইওয়ে পুলিশ ফাড়ির ইনচার্জ বাসুদেব সিনহা জানান, শুধু পুলিশের একার পক্ষে সড়ক দুর্ঘটনা রোধ করা সম্ভব নয়। দুর্ঘটনা রোধে যানবাহনের চালক ও পথচারীদের সর্তক হয়ে চলাচল করতে হবে। তাছাড়া এ মহাসড়ক ওয়ান ওয়ে হওয়াতে যানবাহনের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়ে প্রানহানির সংখ্যা ঘটছে বেশী। এখানে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রানহানির সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার অন্যতম কারন ত্রুটিপূর্ণ মহাসড়ক নির্মান ব্যবস্থা। মহাসড়কে চলাচলের ক্ষেত্রে চালক, পথচারী ও সড়কে শৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের যেমন ভুমিকা আছে ঠিক তেমনি মহাসড়কে দুর্ঘটনা রোধে ত্রুটিমুক্ত সড়ক অবকাঠামো।

+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
আপনার মতামত জানান