খুললো গজল ডোবা, ডুবলো উত্তরের তিন জেলা

রংপুর ব্যুরো: খুললো গজল ডোবার গেট। ডুবলো উত্তরের তিন জেলার নিম্নাঞ্চল। বৃহস্পতবিার রাত থেকে উত্তরের তিস্তা নদীতে বিপদ সীমার ৩০ সেন্টমিটিার ওপর দিয়ে বয়ে যায় পানি। আর এতইে ফেপে ফুলে উঠে নদী। পানিতে ডুবে যায় বসতবাড়িসহ ফসলি জমি। ভেসে যায় অসংখ্য পুকুররে মাছ। ভেঙে যায় বন্যা নিশন্ত্রণ বাঁধ।

রংপুর আহবাহাওয়া অধদিপ্তররে আবহাওয়াবিদ মোস্তাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, সাদা মেঘের মাঝে কালো মেঘের আনাগোনা ছিলো উত্তরাঞ্চলের আকাশে। কিন্ত তেমন বৃষ্টি হয়নি। গত ১০ দিনে পুরো বিভাগে গড় বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়ছে ১শ’ ৭১ মলিমিটার। আর কৃষি বিভাগের অতিরিক্তি পরিচালক বিধুভূষণ রায় জানিয়েছেন, আমন মৌসুমে চারা রোপনের জন্য কমপক্ষে বৃষ্টির দরকার ৫শ’ মলিমিটিার। যে গড় বৃষ্টি হয়েছে তাতে জমিতে চারা লাগানো অসম্ভব। কিন্ত এর পরেও বন্যা কেন তিস্তায়?

অনুসন্ধানে জানা গছে, গত এক সপ্তাহ ধরে ভারতের ১১ জেলার পাহাড়ে ভারি বৃষ্টি হয়েছে। পানি ধরে রাখতে না পেরে তিস্তার উৎস মুখে খুলে দেয়া হয় গজল ডোবা ব্যারেজের গেট। বুধবার দুপুরে তিস্তার অসংরক্ষিত ৪০ কিলোমটিার এলাকায় জারি করা হয় লাল সংকেত। তিস্তা নদীর দোমহনী থেকে এদেশীয় ভূখন্ড পর্যন্ত ৬০ কিলোমিটারে জারি থাকে হলুদ সংকেত। নদীতে পানি ছাড়া হয় এক লাখ ২৭ হাজার কিউসেক। এই পানি মাত্র ৬ ঘন্টা স্থায়ী হওয়ায় তিস্তা রূপ নেয় বন্যায়। যদিও শুক্রবার দুপুরে গজলডোবা ব্যারজে র্কতৃপক্ষ তাদের লাল ও হলুদ সংকেত তুলে নেয়। রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মাহবুবুল ইসলাম জানিয়েছেন, শুক্রবার দিনভর দু’কুল ছাপয়িে পানি বয়ে যায় রাক্ষুসি তিস্তায়। এতে নীলফামারী, লালমনিরহাট ও রংপুরের নিন্মাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা হাবুডুবু খায় বানের পানিতে। এতে কিছু মাটির তৈরি বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধ ভঙে যায়। সেগুলো জরুরি ভত্তিতে মেরামতের কাজ চলছে বলেও জানান তিনি।

এদিকে রংপুরের গঙ্গাচড়ায় মাত্র ৪ দিন আগে পানিবন্দি পরিবারের বাড়ির আঙ্গিনা শুকাতে না শুকাতে আবারও উপজলোর ৭ ইউনিয়নের চরাঞ্চলে বসবাসরত ৮ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। বিভিন্ন এলাকায় দেখা দিয়েছে ভাঙন। কোলকোন্দরে পূর্ব বিনবিনার চর হতে লক্ষীটারীর পশ্চমি ইচলী সংযোগ বড়িবাধটি ভঙে যাওয়ায় বাগরেহাট বাজার এলাকাসহ আশ্রয়নে পানি ঢুকে পানবিন্দি হয়ছেে মানুষজন।

ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড জিও ব্যাগে বালু ভরাট করে রাখলওে তা ভাঙন স্থানে না ফলোয় মানুষজনরে মাঝে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। কোলকোন্দ ইউপি চয়োরম্যান সোহরাব আলী রাজু জানান, তিস্তার পানি বৃদ্ধির ফলে ভাঙন ও বন্যার দেখা দেওয়ায় বিনবিনা চরে ৭ পরবিাররে বাড়ি বিলীন হয়ছেে এবং সাড়ে ৩ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়েছে।

নিউজনাউ/এসএ/২০২১

+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
আপনার মতামত জানান
%d bloggers like this: