বেজায় পবন চৌধুরীর স্বর্ণালী অধ্যায়

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পবন চৌধুরীর আনুষ্ঠানিক বিদায়

শিপন হালদার : স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়তে উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ আর বাস্তবায়ন করে দেখানোর মানুষের বড় অভাব। কথায় নয় কাজে বড় হয়ে এক অনন্য উদাহরণ তৈরি করেছেন বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ- বেজার সদ্য সাবেক নির্বাহী চেয়ারম্যান পবন চৌধুরী। দীর্ঘ ৬ বছর ৮ মাস সততা, দক্ষতা ও বিচক্ষণতার সাথে দায়িত্ব পালন শেষে অবসরে গেলেন নিপাট এই ভদ্রলোক। এই সময়টাতে বাংলাদেশকে দাঁড় করিয়ে গেছেন বিশাল এক স্বপ্নের সামনে! যা দেখে অভিভূত পুরো বিশ্ব! জীবদ্দশায় স্বপ্নগুলোর পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন দেখে যেতে পারলেই হয়তো পবন চৌধুরী শান্তি পাবেন। চোখের কোনে ঝরবে দু’ফোটা আনন্দঅশ্রু!

যুগে যুগে একজন পবন চৌধুরীর জন্ম হয় না। কালে-ভদ্রে হয়। শূণ্যকে থেকে পূর্ণ করেছেন পবন চৌধুরী। চট্টগ্রামের রাউজানের গর্বিত সন্তান। ২০১৪ সালের ১৬ অক্টোবর প্রথম বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান হিসেবে যোগ দেন তিনি। এরপর থেকে নিরলস ছুটে চলা। স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করার অক্লান্ত পরিশ্রম। এক অনন্য গতি পেয়েছে বাংলাদেশের উন্নয়ন যজ্ঞ। প্রশংসিত হয়েছে সারাবিশ্বে।

বাংলাদেশের ইতিহাসে বাঙালি বৌদ্ধদের মধ্যে ভারপ্রাপ্ত প্রথম সচিব হলেন পবন চৌধুরী। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক ছিলেন। বেজার প্রথম নির্বাহী চেয়ারম্যান। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হয়ে থাইল্যান্ডের বাংলাদেশ মিশনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। পবন চৌধুরী চট্টগ্রামের রাউজান পাঁচখাইন গ্রামের সন্তান। তিনি চট্টগ্রাম কলেজ হতে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ হতে কৃতিত্বের সাথে এমবিএ ডিগ্রি অর্জন করেন।

বাংলাদেশে বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধির জন্য জার আইনে প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের পাশাপাশি চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ে বাংলাদেশের সর্বপ্রথম এবং সর্ববৃহৎ শিল্পনগর গড়ে তোলার পরিকল্পনা করেন পবন চৌধুরী। বর্তমানে ত্রিশ হাজার একর জমিতে বঙ্গবন্ধু শিল্প নগর প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে চট্টগ্রামের মীরেরসরাই, সীতাকুন্ডু ও ফেনীর সোনাগাজী উপজেলাতে। ভবিষ্যতে এর সাথে যুক্ত হবে চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ এবং নোয়াখালির কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা। পবন চৌধুরীর দ্রুত সিদ্ধান্ত এবং বেজার কর্মকর্তাদের চেষ্টায় এ নগরের কাজ এগিয়ে চলেছে। দ্রুত শিল্প স্থাপনের কাজ চলছে এখন।

বঙ্গবন্ধু শিল্পনগরে পবন চৌধুরী

সারাদেশে ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে ইকোনমিক জোন। ৯৪টি ইকনোমিক জোন হবে। জায়গাও চূড়ান্ত। এর মধ্যে ২৮টি জোনে পুরোদমে কাজ চলছে। ১৩টি জোনে কারখানা নির্মাণ হচ্ছে। এর মধ্যে আটটা জোন কমপ্লিটলি অকুপাইড। এ জোনগুলোতে যাতায়াতের জন্য দরকার নদীপথ। তাই নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে সরকারের মহাপরিকল্পনায় ড্রেজিংয়ের উপরে জোর দেয়া হয়েছে। বড় বড় নদী, এমনকি যমুনা, পদ্মায়ও ক্যাপিটাল ড্রেজিং চলছে।

পবন চৌধুরীর সুদক্ষ নেতৃত্বে বেজা অত্যন্ত গতিশীল প্রতিষ্ঠান হিসাবে অল্প সময়ের মধ্যে মানুষের কাছে পরিচিতি লাভ করেছে। মুজিববর্ষে বিভিন্ন পটেনশিয়াল এরিয়াগুলোতে সফলভাবে অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনা ট্যুরিজম পার্ক স্থাপন ছাড়াও কাজের ক্ষেত্র তৈরির জন্যে বড় বড় উদ্যোগ ও তিনটি বিশেষ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন শুরু হয় তাঁর হাত ধরে।

দেশী বিদেশী বিনিয়োগের ব্যাপারে পবন চৌধুরী চ্যানেল আইতে এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ‘প্রথম পরিকল্পিতভাবে শিল্পায়নের পদক্ষেপ শুরু হয় তদানিন্তন পূর্ব পাকিস্তান আমলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যখন যুক্তফ্রন্টের আমলে শিল্প মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন। তিনি কিন্তু স্মল এন্ড কটেজ ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাক্ট করেন। এর ফলেই কিন্তু বিসিক প্রতিষ্ঠিত হয়। এরপরে উনিশো আশি সালে ইপিজেড অ্যাক্ট হয়। ১৯৯৬ সালে প্রাইভেট ইপিজেড অ্যাক্ট হয়। আর সবশেষ দুই হাজার দশ সালে এসে স্পেশাল ইকনোমিক জোন অ্যাক্ট হয়। এই ধারাবাহিকতা সামনে নিয়ে যেতে হলে আমাদের অনেক কাজ করার আছে। কন্টিনিউয়াস রিফর্ম, কন্টিনিউয়াস ডেভলপমেন্ট এবং কানেকটিভিটির ব্যাপার আছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনুপ্রেরণা, নির্দেশনায় একজন পবন চৌধুরী সমৃদ্ধ বাংলাদেশের ভিত্তি রচনা করে গেলেন। এখন ধারাবাহিকতা রক্ষার পাশাপাশি বেজার পরিধি বাড়ানোই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের এক ছাড়ার নিচে সব সুবিধা প্রদান। সর্বশেষ আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর কারখানা স্থাপন। উন্নত বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে স্মার্ট সিটি গড়ে তোলা; সে অনুযায়ী নাগরিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা। ইনভেস্টরস ব্যাংকের মতো আন্তর্জাতিকমানের ব্যাংকিং সুবিধা নিশ্চিত করা। হাজারো দায়িত্ব বেজার। একজন পবন চৌধুরীর যোগ্য উত্তরসুরী এখন শেখ ইউসুফ হারুন। বেজার নতুন নির্বাহী চেয়ারম্যান। আপনাকে স্বাগতম!

লেখক: নির্বাহী সম্পাদক, নিউজনাউ টোয়েন্টি ফোর ডট কম।

+1
0
+1
1
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
আপনার মতামত জানান
%d bloggers like this: