পশুর চামড়া ও লবণের দাম নিয়ে অনিশ্চয়তা

নিউজনাউ ডেস্ক : প্রতিবারই নৈরাজ্য শুরু হয় কোরবানির পশুর চামড়া নিয়ে। পানির দামে বিক্রি হয় কাঁচা চামড়া। জেলায় জেলায় নষ্ট হয় চামড়া। অনেকে আবার বিক্রি করতে না পেরে মাটিতে পুঁতে ফেলে। নদীতে ভাসিয়ে দেওয়ার ঘটনাও ঘটে। ফলে ক্ষতি হয় শত শত কোটি টাকার সম্পদ।

এবারও করোনা বাস্তবতা। সারাদেশে ছড়িয়ে পড়েছে ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট। মৃতের সংখ্যা বাড়ছে লাফিয়ে লাফিয়ে। হাসপাতালগুলোতে তৈরি হয়েছে অক্সিজেন সংকট। পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে সরকার। মহামারির মধ্যেও চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের রফতানি বেড়েছে। তারপরও সামনে অনিশ্চয়তা দেখছেন ট্যানারির মালিকরা।

কাঁচা চামড়ার ব্যবসায়ী ও ট্যানারির মালিকরা বলছেন, মহামারির আঘাত এবং দেশে দেশে লকডাউনের কারণে রফতানির বাজার এখনও স্বাভাবিক হয়নি। এছাড়া বিশ্ববাজারে চামড়ার দামও বাড়েনি। সবমিলিয়ে রফতানির বাজার খুব একটা ভালো নয়। তাই গতবার যে দামে কাঁচা চামড়া কিনেছেন সেই দামে এবারও কিনতে চান ব্যবসায়ীরা।

ট্যানারির মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএ) সভাপতি শাহিন আহমেদ গণমাধ্যমকে বলেন, ‘যদিও এবার আগের চেয়ে রফতানি বেড়েছে। তবে করোনা ও টানা লকডাউনের কারণে এখনও ইউরোপের বাজার স্বাভাবিক হয়নি। চীনের বাজারে চামড়া রফতানির সম্ভাবনা আছে। এখন যদি চীনের নন-ট্যারিফ বাঁধাগুলো কমানো যায় তাহলে বাজার সম্প্রসারিত হবে।’

জানা যায়, সারা বছরে যে পরিমাণ কাঁচা চামড়া সংগ্রহ হয়, তার ৫০ শতাংশই আসে কোরবানিতে। এসময়টাতে লবণের সংকট তৈরি হয়। তাই চামড়ার পাশাপাশি লবণের দাম নিয়ন্ত্রণ করাটাও জরুরি।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, গত বছর (২০২০ সাল) কোরবানির পশুর চমড়ার দাম আগের বছরের চেয়ে প্রায় ৩০ শতাংশ কমিয়ে দেয় সরকার। ঢাকায় লবণযুক্ত গরুর চামড়ার দাম প্রতি বর্গফুট ৩৫ থেকে ৪০ টাকা এবং ঢাকার বাইরে ২৮ থেকে ৩২ টাকা নির্ধারণ করা হয়। যা এর আগের বছর (২০১৯ সাল) ঢাকায় ছিল ৪৫ থেকে ৫০ টাকা এবং ঢাকার বাইরে ছিল ৩৫ থেকে ৪০ টাকা। অন্যদিকে, খাসির চামড়া সারা দেশে প্রতি বর্গফুট ১৩ থেকে ১৫ টাকা এবং বকরির চামড়া ১০ থেকে ১২ টাকা নির্ধারণ করা হয়।

নিউজনাউ/এসএ/২০২১

+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
আপনার মতামত জানান
%d bloggers like this: