মাজারে কুমিরের চোখ নষ্ট করলো কারা?

নিউজনাউ ডেস্ক : বাগেরহাটে খানজাহান আলীর মাজারে দুটি কুমিরের একটির এক চোখ ‘আঘাতের কারণে’ নষ্ট হয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অন্যটিও। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। একপক্ষ অন্যপক্ষকে দায়ী করছে। পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করছে। কারা কুমিরের চোখ নষ্ট করেছে? দোষীদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

পুরুষ কুমিরটিকে দীঘি থেকে তুলে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। সুন্দরবনের করমজল কুমির প্রজনন কেন্দ্রে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আজাদ কবির এসে কুমিরটিকে ডাঙায় তুলে চিকিৎসা দেয়া শুরু হয়।

আজাদ কবির জানা্ন, “কুমিরটির ডান চোখ বেশ কিছুদিন আগেই নষ্ট হয়ে গেছে। বাম চোখটিও খুলতে পারছে না। এই চোখটি ভাল আছে কিনা এখনই বলা যাচ্ছে না। তবে তা যে ক্ষতিগ্রস্ত যে হয়েছে তা তার চলাফেরা ও আচরণে বোঝা যাচ্ছে।”
তিনি আরো জানান, কুমিরটিকে ডাঙ্গায় রেখে কয়েক দিন পর্যবেক্ষণ করা হবে। তাছাড়া সুচিকিৎসার জন্য যা যা করা দরকার তাও সব করবেন তারা।

অসুস্থতা স্বাভাবিক কী না, এ প্রসঙ্গে আজাদ কবির জানান, “অসুস্থতা স্বাভাবিকভাবে হয়নি। কুমির যদি কাউকে আক্রমণ করে তাহলে চোখে আঙুল দিলে সে দুর্বল হয়ে আক্রমণকারীকে ছেড়ে দেয়। এ ধরনের হস্তক্ষেপে কুমিরটি আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে থাকতে পারে। দীঘিতে পেতে রাখা জালে জড়িয়ে বা মানুষের আঘাতে কুমিরের চোখ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে ধারণা করছি।”

এদিকে, পুকুরে মাজারের খাদেমরা জাল পেতে রাখেন মাছ ধরার জন্য। তবে জাল পেতে রাখার কারণে কুমিরের ক্ষতি হয়নি বলে দাবি করেছেন মাজারের প্রধান খাদেম শের আলী ফকির। তিনি বলেন, “একটি পক্ষ কুমির একপাড়ে আটকে রেখে দর্শনার্থীদের দেখিয়ে টাকা আয় করে। তাদের মাধ্যমে এই ক্ষতি হয়েছে। কুমির যারা আটকে রাখে এবং যারা আঘাত করে, প্রশাসনের কাছে আমি তাদের বিচার দাবি করছি।”

বাগেরহাট প্রাণি সম্পদ বিভাগের জেলা কর্মকর্তা ডা. লুৎফর রহমান জানান, অসুস্থ পুরুষ কুমিরটি ছাড়া আরেকটি মেয়ে কুমির আছে বাগেরহাটে খানজাহান আলীর মাজারের দীঘিতে।

এ দীঘির বিখ্যাত দুই কুমিরের মধ্যে ধলা পাহাড় ২০১৩ সালে এবং কালা পাহাড় তারও বছর দশেক আগে মারা যায়।

নিউজনাউ/এসএ/২০২১

+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
আপনার মতামত জানান
%d bloggers like this: