দুদকের জালে ধরা পড়ছেন শতাধিক ভিআইপি

নিউজনাউ ডেস্ক : দীর্ঘদিনেও অনুসন্ধান ও তদন্ত শেষ হয়নি। তাহলে কি ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছেন অভিযুক্ত শতাধিক ভিআইপি? উত্তর, এক কথায় না। অবশেষে শতাধিক ভিআইপিদের নামে অবৈধ সম্পদ, ঋণ জালিয়াতি ও অর্থ পাচারে জড়িতদের নতুন করে তালিকা তৈরি করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন। গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগের ফাইলগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য সংস্থাটির বিশেষ অনুসন্ধান ও তদন্ত শাখার মহাপরিচালক, পরিচালক ও তদন্ত কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে খবরটি জানিয়েছে যুগান্তর।

দৈনিকটির প্রতিবেদন বলা হয়, দুদক সূত্র তাদের জানিয়েছে, গত মার্চে বর্তমান কমিশনের নতুন চেয়ারম্যান ও একজন কমিশনার নিয়োগ পান। এরপর তিন কমিশনারের নেতৃত্বে গঠিত কমিশন দফায় দফায় বৈঠকে বসেন। কমিশন সভা ছাড়া মহাপরিচালক থেকে উপপরিচালক পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নিয়ে পৃথক বৈঠক হয়। এতে ভিআইপিদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান ও তদন্ত ছাড়াও অন্যদের যেসব ফাইল চলমান তা দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশনা দেওয়া হয়। দুদকের প্রধান কার্যালয় ছাড়াও বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালকদের কাছেও একই বার্তা দেওয়া হয়েছে ।

নতুন তালিকায় রাজনীতিবিদদের মধ্যে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সাঈদ খোকন, বিএনপি নেতা শিমুল বিশ্বাস, ঢাকা উত্তরের সিটি করপোরেশনের বিএনপির মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়াল, সাবেক মন্ত্রী ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা ও গোল্ডেন মনিরসহ এক ডজন নেতার নাম আছে। এদের নাম অগ্রাধিকার তালিকায় রাখা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং দেশের বাইরে অর্থ পাচারের অভিযোগে অনুসন্ধান শেষ করে পরবর্তী ব্যবস্থা নিতে চায় দুদক।

এছাড়া আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মাফিয়া শাহেদ, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. ইকবালসহ তিন পরিচালক ও অপর ৭০ কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শেষ পর্যায়ে রয়েছে। নারী নেত্রী পাপিয়া ও শাহেদের অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধান ও তদন্ত রিপোর্ট তৈরির কাজ চলছে।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং বিভাগের পরিচালক আশরাফুল আলম, কার্গো বিভাগের জিএম আরিফ উল্লাহ, সাবেক জিএম আলী আহসান, শামসুল করিমসহ শীর্ষ পর্যায়ে ১০ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিমানের কার্গো শাখা থেকে ১১৮ কোটি টাকা লোপাটের একটি অনুসন্ধান শেষ পর্যায়ে রয়েছে। বিমানের সাবেক এমডি আবদুল মুনীম মুসাদ্দিক আহমেদের বিরুদ্ধেও ক্ষমতার অপব্যবহার, বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি ও অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধান চলছে। তার বিদেশ গমনের ওপরও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

এদিকে, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ছাড়াও সিভিল এভিয়েশন, রাজউক, সড়ক ও জনপথ, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরসহ সরকারের বিভিন্ন বিভাগের ৩৫ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট তথ্য নিয়ে দুদকের গোয়েন্দা বিভাগ থেকে গোপন অনুসন্ধান শুরু হয়েছে।

এছাড়া পিকে হালদারের নেতৃত্বে ৪০ সিন্ডিকেটের মধ্যে পিপলস লিজিংয়ের সাবেক চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেনসহ বেশ কয়েকজনের অর্থ আত্মসাতের দায়ের ২০টি মামলা হচ্ছে। পাসপোর্ট অফিসের ১৫০০ কোটি টাকার কেনাকাটায় নিুমানের মালামাল সরবরাহের অভিযোগে সংস্থার শীর্ষ কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে চলমান অনুসন্ধান শেষ করার ওপর জোর দিয়েছে কমিশন। সারা দেশে ই-পোস্ট অফিস নির্মাণের নামে ১০০০ কোটি টাকা দুর্নীতির অভিযোগে ডাক অধিদফতরের সাবেক মহাপরিচালক সুধাংশ শেখর ভদ্রসহ ১০ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শিগগিরই অনুসন্ধান প্রতিবেদন দেওয়া হচ্ছে।

ব্যাংকিং সেক্টরের মধ্যে একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের সাবেক এমডি ও এনসিসি ব্যাংকের সাবেক এমডি মোসলমের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ ও এবি ব্যাংকে সাবেক চেয়ারম্যান এম. মোর্শেদ খান ও তার ছেলে ফয়সাল মোর্শেদ খানের বিরুদ্ধে অর্থ পাচারসহ মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগের অনুসন্ধান প্রতিবেদন তৈরি হচ্ছে। অনুসন্ধান চলমান। এবি ব্যাংকের ঋণ গ্রহীতা এরশাদ ট্রেডার্সের বিরুদ্ধে ৩০০ কোটি টাকা ঋণ জালিয়াতির অভিযোগে অনুসন্ধান শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

অপরদিকে, হেফাজতের আমির বাবুনগরী ও মুফতি মামুনুল হকসহ ৪০ জন হেফাজত নেতার বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাত, দুর্নীতি ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে অনুসন্ধান অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শেষ করতে চায় দুদক।

সূত্র জানায়, অগ্রাধিকারের তালিকায় বেসিক ব্যাংকের ৬১ মামলাও রয়েছে। যার তদন্তের অংশ হিসাবে ব্যাংকটির সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল হাই বাচ্চু ও পরিচালনা পর্ষদের ১০ সদস্যকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুদক।

দুদকের মহাপরিচালক সাঈদ মাহবুব খান বলেন, কমিশন প্যান্ডিং অনুসন্ধান, তদন্ত শেষ করে নতুন কাজ শুরু করতে চাচ্ছে। এজন্য আমরা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বসছি। করোনা ও লকডাউনের কারণে কাজে কিছুটা বিঘ্ন ঘটলেও আশা করি আগামী এক মাসের মধ্যে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ফাইল নিষ্পত্তি হবে। অনুসন্ধানের পর যেটা মামলা হওয়ার হবে। তাতে কে আসামি হবেন কে হবেন না তা বিবেচ্য নয়। তিনি জানান, ক্যাসিনোকাণ্ডে এ পর্যন্ত ২৫টি মামলা হয়েছে। এসব মামলার চার্জশিট আগামী এক মাসের মধ্যে দেওয়ার কাজ চলছে। একইভাবে ক্যাসিনো তালিকাভুক্ত অন্যদের বিরুদ্ধে আরও অন্তত ২০-২৫টি মামলার প্রস্তুতি চলছে।

নিউজনাউ/আরবি/২০২১

+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
আপনার মতামত জানান
%d bloggers like this: