খরগোশের দ্বীপ!

নিউজনাউ ডেস্ক: পৃথিবীতে অনেক দ্বীপের কথাই শুনেছেন তবে কখনও কি খরগোশের দ্বীপ বলে যে একটা দ্বীপ আছে সেটা কি কেউ শুনেছেন। জাপানে ওকুনোশিমা নামে একটি দ্বীপ আছে যা খরগোশের জন্য বিখ্যাত। সমুদ্রবেষ্টিত দ্বীপটিতে যেদিকেই চোখ যাবে শুধু খরগোশ আর খরগোশ। মনে হবে ভুল করে কোনো খরগোশের দেশে চলে এসেছেন।

যেভাবে হলো খরগোশের দ্বীপ: জানা যায় দ্বীপের গ্যাস কারখানার গবেষণা কাজে ব্যবহৃত হত খরগোশ। গবেষণামূলক কাজে তখনকার সময়ে ইঁদুর এবং খরগোশের উপর বিষাক্ত গ্যাসের প্রয়োগ করা হতো। আবার অনেক সময় ঘোড়ার উপরও প্রয়োগ হতো। যখন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় মিত্রবাহিনী দ্বীপের দখল নেয় তখন খরগোশগুলোকে দ্বীপে ছেড়ে দেয়।

আবার অনেকে বলে, খরগোশগুলো কারখানা বন্ধ হওয়ার পর দ্বীপের ভেতরে পালিয়ে যায়। সেই পালিয়ে যাওয়া খরগোশ থেকেই আজ দ্বীপভর্তি খরগোশ। আরেকটি মতবাদ হলো, ১৯৭১ সালে দ্বীপটিতে ঘুরতে আসা কিছু স্কুলের বাচ্চা কয়েকটি খরগোশ ছেড়ে দেয় দ্বীপে। সেখান থেকেই এত খরগোশের জন্ম।

যে কারণেই দ্বীপটিতে খরগোশ আসুক না কেনো, বর্তমানে তাদের সংখ্যা প্রায় এক হাজার। টুরিস্টরা প্রচুর পরিমাণে খাবার সরবরাহ করে, তাই খরগোশ এই দ্বীপে নির্দ্বিধায় ঘুরে বেড়ায়। খরগোশের যেহেতু প্রজনন ক্ষমতা বেশি এবং দ্বীপে কোনো শিকারি প্রাণী নেই, তাই তারা অনিয়ন্ত্রিত হারে বংশবিস্তার করতে পারছে।

সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো এই দ্বীপে ঘুরতে যাওয়া সকল টুরিস্টদরাই প্যাকেটজাত খাবার বা গাজর নিয়ে যায় খরগোশের জন্য। বছরের পর বছর এভাবে চলতে থাকায় খরগোশও বুঝে গেছে কার কাছে গেলে খাবার পাওয়া যাবে। কেউ একটা পেকেট হাতে নিয়ে ওখানে গেলেই কিছুক্ষণের মধ্যেই চলে আসবে ৩০-৪০টি খরগোশ।

নিউজনাউ/এফএস/২০২১

+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
আপনার মতামত জানান
%d bloggers like this: