নামে বায়িং হাউজ, আসলে মাদকের ল্যাব

নিউজনাউ ডেস্ক: রাজধানীতে ভয়ঙ্কর মাদক ক্রিস্টাল আইসসহ নানা ধরনের মাদক ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগে একটি চক্রের মূলহোতাসহ ৬ জনকে আটক করেছে র‌্যাব। আটকরা হলেন- মূলহোতা মো. তৌফিক হোসাইন (৩৫), মো. জামিরুল চৌধুরী ওরফে জুবেইন (৩৭), মো. আরাফাত আবেদীন ওরফে রুদ্র (৩৫), মো. রাকিব বাসার খান (৩০), মো. সাইফুল ইসলাম ওরফে সবুজ (২৭), মো. খালেদ ইকবাল (৩৫)।

র‌্যাব জানায়, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার রাতে উত্তরা পশ্চিম থানা এলাকা থেকে এই ছয়জনকে আটক করা হয়। তাদের কাছ থেকে আইস, ইয়াবা, বিদেশি মদ, গাঁজা এবং ১৩টি বিদেশি অস্ত্র, রেপলিকা অস্ত্র ও ইলেকট্রিক শক যন্ত্র, মাদক সেবনের সরঞ্জাম ও ল্যাবরেটরির সরঞ্জামাদি উদ্ধার করা হয়।

র‌্যাবের দাবি, তারা উত্তরা এলাকায় বায়িং হাউসের নামে অফিস ভাড়া নিয়ে ওই অফিসকে মাদক প্রক্রিয়াজাতকরণের ‘মেথ ল্যাব’ হিসেবে ব্যবহার করছিল। সেখানে মাদক আইসের সঙ্গে বিভিন্ন কেমিক্যাল মিশিয়ে পরিমাণ বাড়ানো, ইয়াবার রং পরিবর্তন কিংবা ইয়াবা-আইস-ঘুমের ওষুধের সমন্বয়ে ঝাক্কি বা ককটেল বানানো হতো। শুধু মাদক প্রক্রিয়াজাতকরণই নয়; কথিত ওই ল্যাবে নিয়মিত আনাগোনা ছিল মাদকসেবী তরুণ-তরুণীদের। তারা সেখানে মাদক সেবন এবং পরবর্তিতে বিভিন্ন অনৈতিক কাজে লিপ্ত হতো। চক্রটি কৌশলে সেসব কার্যকলাপ ভিডিও করে রাখত। যা দিয়ে পরবর্তিতে তাদের করা হতো ব্ল্যাকমেইলিং। এ চক্রে ১০ থেকে ১৫ জন সদস্য রয়েছে। তারা মাদক আইস ও ঝাক্কি সেবন-কেনাবেচায় জড়িত। এর বাইরেও ৪০ থেকে ৫০ জন রয়েছেন, যারা নিয়মিত এই চক্রের মাদকের ক্রেতা।

র‌্যাব জানিয়েছে, চক্রের মূলহোতা ও সমন্বয়কারী তৌফিক। অর্থ যোগানদাতা জুবেইন ও খালেদ। রুদ্র কেমিস্ট হিসেবে ‘মেথ ল্যাব’ পরিচালনা করতেন। আর সবুজ মাদক সংগ্রহ ও সরবরাহকারী এবং বাকিরা মাদক বিপণনের সঙ্গে জড়িত। রুদ্রের নামে তিনটি মাদক মামলা রয়েছে এবং জুবেইনের নামে একটি হত্যাচেষ্টা মামলা রয়েছে। এদের মধ্যে জুবেইন লন্ডন থেকে বিবিএ, তৌফিক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিবিএ, খালেদ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ এবং রুদ্র ও সাইফুল এইচএসসি পাস।

শুক্রবার বিকালে রাজধানীর কারওয়ানবাজারে র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, তাদের মেথ ল্যাবটি মূল কেমিস্ট এইচএসসি পাস রুদ্র ও তার কয়েকজন সহযোগীরা পরিচালনা করতেন। তারা আইস ও ইয়াবার পরীক্ষামূলক বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছিল। বাজার থেকে বিভিন্ন ওষুধ ও কেমিক্যাল আইসের সঙ্গে মিশিয়ে পরিমাণ বাড়িয়ে বিক্রি করতেন। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে ইয়াবার রং পরিবর্তন এবং ঝাক্কি তৈরি করতেন। ঝাক্কি তৈরিতে তারা তরল পানীয়র সঙ্গে ইয়াবা, ঘুমের ওষুধ ও অন্যান্য নেশাজাতীয় ওষুধ মেশাতেন। এই ঝাক্কি ইয়াবার চেয়েও শক্তিশালী।

র‌্যাব ককর্মকর্তা খন্দকার আল মঈন বলেন, তারা দীর্ঘদিন ধরে প্রতিনিয়ত ইয়াবা সেবনে চরম আসক্তির পর্যায়ে পৌঁছায়। পরবর্তীতে আসক্তির মাত্রা বাড়াতে বিগত কয়েক বছর ধরে তারা আইস গ্রহণ শুরু করে। তারা বিভিন্ন সময়ে উঠতি বয়সী তরুণ-তরুণীদের নেশায় উদ্বুদ্ধ করত। তিনি বলেন, ক্রিস্টাল আইস মাদকটি দামি হওয়ায় সাধারণত বেশিরভাগ ক্রেতাই উচ্চবিত্ত পরিবারের সন্তান এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।

নিউজনাউ/এসএ/২০২১

+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
আপনার মতামত জানান
%d bloggers like this: