রংপুর মেডিকেলে ডিবি’র অভিযান; আটক ১০ দালাল

রংপুর ব্যুরো: রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কর্মচারীরা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী দুইভাইকে মারধরের একদিন পরেই মেট্রোপলিটন ডিবি পুলিশ অভিযান চালিয়ে ১০ দালালকে আটক করেছে। আর দালালচক্রের সাথে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত হাসপাতালের এই কর্মচারীরা। তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা না নেওয়ায় সচেতন মহলে ক্ষোভ রয়েছে।

এদিকে দুই শিক্ষার্থীকে মারধর ও দুনীতিবাজ কর্মচারীদের শাস্তি ও হাসপাতাল রক্ষার দাবিতে আজ সোমবার হাসপাতাল অভিমূখে পদযাত্রা কর্মসূচি ঘোষণা করেছে প্রতিবাদী রংপুর বাঁচাও নামের একটি সংগঠন। গতকাল রবিবার কালের কণ্ঠে ‘প্রতিবাদী দুই ছাত্রকে পেটালেন কর্মচারীরা’ শিরোনামে একটি সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

মায়ের চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিক এসে কর্মচারী ও দালালদের হাতে মার খেয়ে দুই বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রের আহত হওয়ার ঘটনার পর নড়েচড়ে বসেছে পুলিশ। গতকাল রবিবার ডিবি পুলিশ সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে হাসপাতালের জরুরি বিভাগ থেকে ১০ দালালকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃতরা হল নগরীর পরশুরাম থানাধীন নিয়ামত কদমতলা এলাকার লাল মিয়ার ছেলে মোরশেদ আলম (২৪), মাহিগঞ্জ থানাধীন তালুক রঘু পাঠানপাড়া এলাকার রুহুল আমিনের ছেলে মিজানুর রহমান (৩৫), হাজিরহাট থানাধীন জগদিশপুর এলাকার মৃত আজিবর রহমানের ছেলে আশরাফুল ইসলাম (৩২), রংপুর সদর উপজেলার উত্তর খলেয়ার মনোরঞ্জনের ছেলে আপন কুমার (২৩), গঙ্গাচড়ার পূর্ব পাড়া এলাকার বিষ্ণু রায়ের ছেলে উজ্জ্বল রায় (২৪), দিনাজপুরের পার্বতীপুর থানার ধুপাকল ফকিরহাট পাড়ার রফির উদ্দিন শাহ’র ছেলে মাসুদ শাহ (২৭), পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ থানাধীন খুটামারা এলাকার মৃত আব্দুল কুদ্দুসের ছেলে মাহবুব আলম (৩৪), আটোয়ারী থানাধীন বালিয়া লক্ষিথান এলাকার রমেশ চন্দ্রের ছেলে উত্তম কুমার (২৩), নীলফামারীর জলঢাকার শোলমারী ডাকলিগঞ্জ এলাকার মঈনুল হাসান লিটুর ছেলে রিফাতুল ইসলাম (২১) ও জলঢাকার চেরেঙ্গা এলাকার দীনেশ রায়ের ছেলে কমল রায় (২৩)। এসময় গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে রোগীদের দেওয়া কাগজপত্র উদ্ধার করা হয়।

রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার (ডিবি এন্ড মিডিয়া) ফারুক আহমেদ জানিয়েছেন, রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দালালদের উৎপাত বেড়ে গেছে। হাসপাতালের জরুরি বিভাগ হতে সক্রিয় দালাল চক্রের সদস্যরা চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের সাথে ভয়ভীতি ও হুমকি দেখিয়ে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার জন্য টানাহেচড়া করাকালীন ১০ জন দালালকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা দীর্ঘদিন থেকে সাধারণ রোগীদের কাছ থেকে নানা প্রতারণার মাধ্যমে অতিরিক্ত ফি আদায়, হাসপাতালে রোগী পরিবহনের ট্রলি ব্যবহারের জন্য অবৈধভাবে ফি আদায়, অননুমোদিতভাবে হাসপাতালে প্রবেশ করে অবৈধভাবে বিভিন্ন পরীক্ষার নমুনা সংগ্রহের নামে প্রতারণা করাসহ নানা অভিনব কায়দায় প্রতারণা করে সাধারণ রোগীদের নিঃস্ব করে আসছে। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতয়ালি থানায় রংপুর মহানগরী আইন, ২০১৮ এর সংশ্লি¬ষ্ট ধারায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। দালাল নির্মুল না হওয়া পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান ওই কর্মকর্তা।

তবে শুধু দালাল ধরে হাসপাতালের অপরাধ নির্মূল করা যাবেনা বলে মনে করছেন ভূক্তভোগীসহ অনেকেই। বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মাহাফুজুল ইসলাম বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীকে মারপিটের ঘটনার সাথে সারসরি জড়িত মুলত হাসপাতালের কর্মচারী। তাদের না ধরে দালাল ধরে অপরাধ দমন করা সম্ভব নয়। হাসপাতালকে দুর্নীতিমুক্ত করতে আমরা আন্দোলনে যাবো।’
এদিকে প্রতিবাদী রংপুর বাঁচাও আন্দোলনের অন্যতম উদ্যোক্তা বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তুহিন ওয়াদুদ বলেন, দালাল ধরার পাশাপাশি হাসপাতালের দুর্নীতিবাজ কর্মচারীদেরও ধরতে হবে। তা না হলে অচিরেই হাসপাতালটির চিকিৎসাসেবা মুখ থুবরে পড়বে। দুই শিক্ষার্থীকে মারপিট ও রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল রক্ষার দাবিতে সোমবার বিকেলে রংপুর প্রেসক্লাবের সামনে থেকে হাসপাতাল অভিমূখে পদযাত্রা কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি জানিয়েছেন, দুই শিক্ষার্থীকে মারপিটের ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোন মামলা হয়নি। তারা এখনো হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
আপনার মতামত জানান
%d bloggers like this: