নৌকার মেয়রপ্রার্থীর ওপর হামলা, দলীয় পদ হারালেন এমপি জাফর

চট্টগ্রাম ব্যুরো: চকরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির পদ হারিয়েছেন কক্সবাজার ১ আসনের (চকরিয়া ও পেকুয়া) সংসদ সদস্য জাফর আলম। তার বদলে উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি সরওয়ার উদ্দিনকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

কক্সবাজারের চকরিয়া পৌরসভার বর্তমান মেয়র ও নৌকার মনোনীত প্রার্থী আলমগীর চৌধুরীসহ তার কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় দলীয় শৃঙ্খলা ভঙের অভিযোগে তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। সেই সাথে দল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের জন্য কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে সুপারিশের সিদ্ধান্তও নিয়েছে কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের কার্য নির্বাহী কমিটি।

বৃহস্পতিবার (১০ জুন) রাতে জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। যদিও এ সিদ্ধান্তকে প্রত্যাখ্যান করে রাজপথে থাকার ঘোষণা দিয়েছেন জাফর আলম।
একই ঘটনায় সম্পৃক্ততা পাওয়ায় উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা জাহেদুল ইসলাম লিটু ও ডুলহাজারা ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক হাসানুল ইসলাম আদরকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে।

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র মুজিবুর রহমান সাংবাদিকদের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘নৌকার মনোনীত প্রার্থীর ওপর হামলা মানে আওয়ামী লীগের ওপর হামলা। আজকে জরুরি সভায় তাদের সাময়িক বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দল থেকে বহিষ্কারের জন্য কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের কাছে চিঠি দেবে জেলা আওয়ামী লীগ।’

দলীয় সূত্র জানায়, চকরিয়া পৌরসভা নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর বিরোধিতা করা ও নির্বাচনী সফরের সময় জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি-সম্পাদকের সভায় উপস্থিত না হওয়ার অভিযোগে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের নির্দেশে মঙ্গলবার জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ফরিদুল ইসলাম চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমানের স্বাক্ষরে চকরিয়া পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি জাহেদুল ইসলামকে সভাপতির পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এ খবর সামাজিক যোগাযোগ-মাধ্যমে ছড়িলে পড়লে লিটুর সমর্থকদের মাঝে উত্তেজনা দেখা দেয়। মঙ্গলবার রাতে পৌরসভা এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণা শেষে পৌর ভবনের পাশে চিংড়ি চত্বর এলাকায় বসেন চকরিয়া পৌরসভার বর্তমান মেয়র ও পৌর নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী আলমগীর চৌধুরী, পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতিক উদ্দিন চৌধুরী, যুবলীগের নেতা রেফায়েত সিকদারসহ ৪০-৫০ জন নেতা–কর্মী।

ওই সময় বেতুয়া বাজার এলাকায় এক বীর মুক্তিযোদ্ধার জানাজা শেষে পৌরসভার চিংড়ি চত্বর এলাকা দিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন কক্সবাজার-১ আসনের (চকরিয়া-পেকুয়া) সাংসদ জাফর আলম। ওই এলাকায় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের দেখে প্লাস্টিকের লাঠি হাতে গাড়ি থেকে নামেন সাংসদ। এ সময় কয়েকজন কর্মী–সমর্থককে পিটুনি দেন তিনি। তাঁর সঙ্গে থাকা ডুলাহাজারা ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক হাসানুল ইসলাম আওয়ামী লীগের নেতা আতিক ও যুবলীগের নেতা রেফায়েত সিকদারকে ধাক্কা দেন। এতে তাঁরা আহত হন। ওই সময় চকরিয়া পৌরসভা আওয়ামী লীগের সদ্য অব্যাহতিপ্রাপ্ত সভাপতি জাহেদুল ইসলামও সাংসদের গাড়ি থেকে নেমে কয়েকটি চেয়ার ভাঙচুর করেন। পরে ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা মেয়র আলমগীর চৌধুরী সাংসদকে গাড়িতে তুলে দিলে সাংসদ বাড়ি ফিরে যান। যদিও হামলার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন সাংসদ জাফর আলম।

এদিকে বৃহস্পতিবার (১০ জুন) রাত দশটার দিকে পৌর শহরের প্রধান সড়কে বিক্ষোভ করেন এমপি জাফর আলমের অনুসারীরা। এ অব্যাহতি আদেশকে প্রত্যাখ্যান করে এমপি জাফর আলম বলেন, ‘দলীয় সংবিধানকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে আমাকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। গঠনতন্ত্র-পরিপন্থী সিদ্ধান্ত আমরা মানি না। গাদ্দারি এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আমরা লড়ে যাব। দলের জন্য আমি জেল জুলমের শিকার। প্রধানমন্ত্রী আমাকে যে সিদ্ধান্ত দিবেন, তা মেনে নেব। কিন্তু গায়ের জোরে চাপিয়ে দেয়া সিদ্ধান্ত আমরা প্রত্যাখ্যান করলাম।’

এই প্রসঙ্গে ফেসবুকে চট্টগ্রাম মহানগরের কোতোয়ালী থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাসান মনসুর লিখেছেন, বারবার দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করাটাকে বাহাদুরি মনে করে – চকরিয়ার এমপি জাফর। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে বাসদ, পরে জাতীয় পার্টি হয়ে আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশকারী এই জাফর। কপাল জোরে “নৌকা” পেয়ে আজ আওয়ামীলীগের এমপি। তবে মনেপ্রাণে সে কখনো জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর আদর্শ মেনে নেয়নি — যদি আদর্শ তার থাকতো সে কোনোদিন তার এলাকায় মেয়র পদে নৌকার প্রার্থী আলমগীর চৌধুরী ও চকরিয়া পৌরসভা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতিক উদ্দিন চৌধুরীকে মারধর করতেন না। অভিযোগ আছে সে কথায় কথায় ছাত্রলীগের সভাপতিকে সহ মুজিব আদর্শের তৃণমূল কর্মীদের হেনস্তা করে। এই “জাফররা” আওয়ামী লীগের এমপি হয়ে পুরো এলাকাকে নিজের তালুক মনে করে। সুযোগ পেয়ে – জননেত্রী শেখ হাসিনা র সিদ্ধান্তকে অবজ্ঞা করে। দাম্ভিক আর অহংকারী চকরিয়ার এমপি জাফরকে আজ দল থেকে অব্যাহতির দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জেলা আওয়ামী লীগের এই সাহসী সিদ্ধান্তকে অভিনন্দন জানাই — আশা করি কেন্দ্র থেকে তাকে বহিষ্কারের ঘোষণাও আসবে। আসন্ন চকরিয়া পৌরসভা মেয়র নির্বাচনে নৌকা প্রতীক এর প্রার্থী প্রিয় আলমগীর চৌধুরীর জন্য শুভ কামনাও জানান তিনি।

নিউজনাউ/আরবি/২০২১

 

+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
আপনার মতামত জানান
%d bloggers like this: