ম্যাক্রোঁর বিরুদ্ধে ফরাসিদের যে কারণে এতো ক্ষোভ

নিউজনাউ ডেস্ক: ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার ১৮ মাসের মাথায় ম্যাঁক্রোর বিরুদ্ধে প্রথম বড় আকারের বিক্ষোভ হয়। জীবনযাত্রার নিম্নমান, দৈনন্দিন ব্যবহারের জিনিসপত্রের লাগামছাড়া মূল্যবৃদ্ধি, ওভার টাইম ও পেনশনের উপর কর বসানোর সিদ্ধান্তে দেশটির মধ্যবিত্ত ফুঁসে উঠেছিলো। ওই পরিস্থিতির মধ্যেই ঘিতে আগুন দেওয়া হয় জ্বালানি তেলের ওপর পরিবেশ কর আরোপ করার সিদ্ধান্তে।

এর প্রতিবাদে ২০১৮ সালের অক্টোবর মাস থেকে ইয়েলো ভেস্ট বা ‘হলুদ জ্যাকেট’ আন্দোলন শুরু হয়। প্রতিবাদ–বিক্ষোভে ট্যাক্সিচালকদের ব্যবহৃত হলুদ জ্যাকেট পরে প্রতিবাদকারীরা অংশ নেওয়ায় এই আন্দোলনের নাম দেওয়া হয় ‘ইয়েলো ভেস্ট’ বা ‘হলুদ জ্যাকেট’ আন্দোলন। আন্দোলনে ব্যাপক ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও তীব্র প্রতিবাদ-বিক্ষোভের পর গেল ৪ ডিসেম্বর জ্বালানির ওপর বর্ধিত কর প্রত্যাহারের ঘোষণা দেওয়া হয়।

সম্প্রতি ম্যাক্রোঁকে জনসংযোগের সময় সজোরে থাপ্পড় মারেন এক ব্যক্তি। এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো জনসম্মুখে হামলার স্বীকার হলেন তিনি। ওই ব্যাক্তির সাথে সমর্থক ভেবে হাত মেলাতে যাওয়ার পর সোজা চড় বসিয়ে দেয় তার গালে। যেটা ম্যাঁক্রো কখনওই কল্পনাও করেননি । তারপর নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা যখন হামলাকারীকে চেপে ধরে তখনও সে স্লোগান দিচ্ছিল ‘ম্যাঁক্রোবাদ নিপাত যাক।’ ক্ষোভ আর বিদ্বেষের মাত্রা কতটুকু হলে এ ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে তা কিছুটা আন্দাজ করা যায়। কিন্তু ফরাসি প্রেসিডেন্টের ওপর দেশটির জনগণের এতো ক্ষোভের কারণ কি হতে পারে-

২০২০ সালে করোনা মহামারি শুরু হলে অর্থনীতি সামাল দেওয়ার ক্ষেত্রে চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন ম্যাঁক্রো। ভুল অর্থনৈতিক নীতির জন্য ফরাসি অর্থনীতিকে মন্দার দিকে ঠেলে দিয়েছেন তিনি। শুধু তাই নয়, সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে দুর্বল করে ধনিক শ্রেণির স্বার্থরক্ষার অভিযোগও ওঠে তার বিরুদ্ধে। গত বছর দেশে চালানো এক জরিপে দেখা যায়, ৭৮ ভাগ ফরাসি মনে করে প্রেসিডেন্ট ম্যাঁক্রোর আমলে ফ্রান্স পতনের দিকে ধাবিত হচ্ছে।

ধনী শ্রেণির স্বার্থরক্ষা করতে গিয়ে ম্যাঁক্রো যে অতিরিক্ত কর আরোপ ব্যবস্থা চালু করেছিলেন, ধনী ও দরিদ্রদের মধ্যকার ব্যবধানকে বাড়িয়ে তুলছেন বিরোধীরা সেটিকে বলছে ‘ম্যাঁক্রোইজম’। মূলত এই ম্যাক্রোইজমের বিরুদ্ধেই জনগণের যতো ক্ষোভ কাজ করছে। গতকাল মঙ্গলবার ফরাসি প্রেসিডেন্ট চড় মারার সময় হামলাকারী সেই ‘ম্যাঁক্রোবাদ নিপাত’ যাওয়ার স্লোগানই দিয়েছিল।

নিউজনাউ/এফএস/২০২১

+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
আপনার মতামত জানান
%d bloggers like this: