দেশের বাইরে বসে গুজব-উসকানি, নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে সরকার

নিউজনাউ ডেস্ক: তথ্য-প্রযুক্তির ফায়দা নিয়ে আবেগপ্রবণ তরুণসমাজকে দিয়ে বিদেশে থেকে সরকারের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার ও গুজব রটনা করছে একটি সংঘবদ্ধ চক্র। বাংলাদেশ, বঙ্গবন্ধু এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করতেও দ্বিধা করছে না তারা। গুজবের গ্যাড়াকল থেকে রেহাই পাচ্ছে না সরকারের মন্ত্রী, শীর্ষ রাজনীতিকসহ দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশিষ্ট ব্যক্তিরাও।

দিনবদলের সনদ নিয়ে ২০০৮ সালে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। সরকারের প্রচেষ্টায় ডিজিটাল শব্দটির ব্যাপকতা ছড়িয়ে পড়েছে শহর থেকে গ্রামে। হাতে হাতে স্মার্টফোন, ইন্টারনেট সংযোগ। নানা ক্ষেত্রে এর সুফল মিলছে। তবে একই সঙ্গে বেড়েছে এই প্রযুক্তির অপব্যবহারও। বিশেষ করে অনলাইনের বিভিন্ন মাধ্যম ব্যবহার করে বাড়ছে অপরাধ কর্মকাণ্ড।

যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং অস্ট্রেলিয়ার কিছু শহর থেকে বাংলাদেশ সরকারের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করা হচ্ছে। এদের বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগের সুযোগ বর্তমানে নেই। তবে তাদের নিয়ন্ত্রণে আনার বিষয়ে কাজ করছে সরকার।

পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইউনিটের কর্মকর্তাদের থেকে জানা যায়, ফেসবুকে পেজ, গ্রুপ ও ইউটিউবে চ্যানেল খুলে নানা রকম ধর্মীয় উগ্র মতবাদ প্রচার করা হচ্ছে। এমনকি বিভিন্ন ইস্যুতে সরলমনা তরুণসমাজের আবেগকে পুঁজি করে জিহাদের ডাক পর্যন্ত দেওয়া হচ্ছে। মহান স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানানোর ইস্যুতে অনলাইনে ভয়ংকর মিথ্যাচার দেখা গেছে। ওই সময় তরুণ শ্রেণি ও মাদরাসার এতিম শিক্ষার্থীদের প্রলুব্ধ করতে মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে জিহাদের ডাক দেন হেফাজতে ইসলামের বেশ কিছু নেতা। এর জের ধরে দেশের একাধিক স্থানে সংঘর্ষ এবং প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন আইন হলে বিদেশে অবস্থান নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় দেশের বিরুদ্ধে যারা অপতৎপরতা চালাচ্ছে তাদের দেশে বিচারের আওতায় আনা যাবে।
এছাড়া ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ সম্প্রতি তাদের ওয়েবসাইটে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ আইনের খসড়া প্রকাশ করে আগামী ২৪ জুনের মধ্যে ই-মেইলে গণমত আহ্বান করেছে। খসড়ায় আইনটির প্রয়োগ অংশে নতুন একটি উপধারা সংযুক্ত করে তাতে এই মর্মে বলা হয়েছে—যদি কোনো ব্যক্তি বাংলাদেশের বাইরে থেকে এ দেশের কোনো টেলিযোগাযোগব্যবস্থা বা যন্ত্রপাতি বা বেতারব্যবস্থার সাহায্যে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড করে, তাহলে ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে এই আইন এমনভাবে প্রয়োগ করা যাবে যে অপরাধটি বাংলাদেশের ভেতরেই সংঘটিত হয়েছে।

অপরাধ বিজ্ঞান সংশ্লিষ্টদের মতে, দেশ যে ডিজিটাল হয়েছে বা হচ্ছে তা এক দিনের পরিবর্তন নয়। অনেক আগে থেকেই এটি পরিকল্পনামাফিক চলছে। একটি দেশ যখন আধুনিক সমাজব্যবস্থার প্রাথমিক স্তরে থাকে, সেখানে অপরাধের বিস্তারও সেভাবে ঘটতে থাকে। সেটি মাথায় রেখেই প্রাথমিক পদক্ষেপ নিতে হয়। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, অপরাধ ঘটে যাওয়ার পর প্রশাসনের টনক নড়ে।

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ রেগুলেটরি কমিশনের (বিটিআরসি) হিসাব মতে, গত মার্চ পর্যন্ত ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের সংযোগ সংখ্যা ছিল ৯৮ লাখ। অন্যদিকে মোবাইল অপারেটরদের তারহীন ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১০ কোটি ৫৬ লাখ। আর দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৯৫ শতাংশ ফোর-জি কাভারেজের আওতায় এসেছে। সব মিলিয়ে বিপুলসংখ্যক মানুষ এখন অনলাইনে সক্রিয়।

নিউজনাউ/আরবি/২০২১

+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
আপনার মতামত জানান
%d bloggers like this: