২০ লাখ টাকার নিচে ডাকাতি করেন না গ্রামের সমাজসেবক!

চট্টগ্রাম ব্যুরো: ২০ থেকে ২৫ জনের আন্তঃজেলা ডাকাত দলের প্রধান নুর নবী (৩০)। ডাকাতির আগে একদল জায়গা রেকি করে। তারা ডাকাতি করে শুধুমাত্র সিগারেট! আবার তারা টার্গেট করে ২০ লক্ষ টাকার মালামাল। কারণ এর নীচে ডাকাতি করলে তাদের পোষায় না!

আবার ডাকাত প্রধান নুর নবী নিজ এলাকায় সংগঠক ও সমাজ সেবক হিসেবেও পরিচিত। সে মোট তিনটি বিয়ে করেছে। এখন সিগারেট ডাকাতি করলেও চুরির শুরু হয়েছিল তার গরু চুরির মাধ্যমে!

গত ২৭ মে চট্টগ্রামে কদমতলী এলাকায় এক গুদাম থেকে লুট হওয়া আবুল খায়ের টোব্যাকো কোম্পানি লিমিটেড এর মালামাল উদ্ধার ও ডাকাত দলের প্রধান সহ ৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে তারা পুলিশকে এইসব তথ্য জানান।

সোমবার (৩১ মে) নগরের ডবলমুরিং থানায় ডাকাত দলের গ্রেপ্তার প্রসঙ্গে সংবাদ সম্মেলনে এইসব তথ্য জানান চট্টগ্রাম মেট্রোপলিন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (পশ্চিম) আব্দুল ওয়ারিশ।

তিনি বলেন, মাত্র ৯ মিনিটেই আবুল খায়ের গ্রুপের ৩৩ লাখ টাকার সিগারেট ডাকাতি করে এই চক্রটি। পরে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় ৪ দিনে চক্রটিকে ধরতে সমর্থ হয় নগর গোয়েন্দা বিভাগের একটি দলসহ ডবলমুরিং থানা পুলিশ।

তিনি বলেন, এই ডাকাত দল শুধু সিগারেট ডাকাতি করে। সিগারেট সব এক জায়গাতেই মজুদ থাকে আবার এগুলো বিক্রিও খুব সহজেই করা যায়। তাই তারা শুধু সিগারেটই লুট করে।

তিনি আরো বলেন, গত ২৭ মে নগরের ডবলমুরিং মডেল থানাধীন পোস্তারপাড় এলাকায় আবুল খায়ের গ্রুপের ডিলার খাজা ট্রেডার্সের গোডাউনে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ১০ থেকে ১২ জনরে একটি ডাকাত দল একটি ট্রাকে করে এসে অস্ত্র-সস্ত্রের ভয় দেখিয়ে দারোয়ান সহ ৩ জনকে মেরে ডাকাতি করে তারা। ডাকাতির ঘটনার লুন্ঠিত ৯২ কার্টন সিগারেট এবং দুই কার্টন বিক্রিলব্ধ ৬৮ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার করা হয়েছে ডাকাতির মূলহোতা নোয়াখালী জেলার হাতিয়া থানার পশ্চিম বড়ডেল গ্রামের মোঃ নুর নবী (৩০)। ডাকাতির মালামাল কেনা কুমিল্লা সদরের পশ্চিম বাগিছাগাঁও গ্রামের মোঃ শাহজাহান (৬০) এবং তার ছেলে মোঃ এনায়েত উল্লাহ শান্তকে।শান্ত কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্সের শিক্ষার্থী।

ডবলমুরিং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ মহসিন বলেন, তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড থানা এলাকার বাড়বকুণ্ড থেকে ডাকাত দলের প্রধান নূর নবীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্য কুমিল্লা থেকে এই ঘটনায় জড়িত আরো ২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তিনি বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে নুর নবী জানায় তারা চট্টগ্রামের চান্দগাঁও কামাল বাজার এলাকার রফিক স্টোরে ২৫ লাখ টাকা মূল্যের ৭৩ কার্টন, সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারি আফজাল হোসেনের ২২ লাখ টাকা মূল্যের ৬৩ কার্টন ও নগদ প্রায় দেড় লাখ টাকা, চাঁদপুর কচুয়ার সাইফুল স্টোর ২২ কার্টন ও নগদ সাড়ে ৪ লাখ, ডবলমুরিংয়ের খাজা ট্রেডার্সের ৩২ লাখ ৯০ হাজার টাকা মূল্যমানের ৯৪ কার্টন, টেকনাফে ২২ লাখ টাকার সিগারেট লুট করে।

তিনি আরো বলেন, এছাড়াও পতেঙ্গা থানা এলাকার আকিজ বিড়ি গোডাউন, লক্ষ্মীপুর, কুমিল্লা, কুড়িগ্রাম, সিলেট, সাভার, ঢাকা, রাউজান, মুন্সীগঞ্জ জেলাসহ মোট ৭ বছরে ১০ জেলায় ৩০ টি ঘটনায় ১০ কোটি টাকার সিগারেট লুট করেছে। শুধু এই বছরেই ৬ ঘটনায় কোটি টাকার উপরে সিগারেট লুট করেছে নুর নবীর বাহিনী।

উপ-পুলিশ কমিশনার (পশ্চিম) আব্দুল ওয়ারিশ বলেন, এই চক্র খুবই ভয়ংকর। তাদের ডাকাতিতে বাধা দিলেই গুলি ছোঁড়ে, ছুরিকাঘাত করে, ক্ষেত্রবিশেষে হত্যাও করে! এ পর্যন্ত তাদের হাতে খুন হয়েছে ২ জন।

নিউজনাউ/পিপিএন/২০২১

+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
আপনার মতামত জানান
%d bloggers like this: