আইজিআরকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে গাজীপুরে দলিল লেখকদের দৌরাত্ম্য

কালিয়াকৈর প্রতিনিধি: গাজীপুরের কালিয়াকৈর সাব-রেজিষ্ট্রি অফিসের নকল নবীশরা দলিল লেখকদের সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি হয়ে অর্থাভাবে মানবেতর জীবনযাবপন করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। নকল নবীশরা জানায়, কালিয়াকৈর সাব-রেজিষ্ট্রি অফিসে বর্তমানে নকল নবীশ রয়েছে ৪৭ জন।

এর মধ্যে ২০১৯ সালে নিয়োগ পায় ২৩ জন নকল নবীশ। তাদের সরকার নির্ধারিত কোন বেতন-ভাতা নেই। যত পাতা লেখবে সেই অনুযায়ী বিল পাবেন। একজন নকল নবীশ সারা মাসে প্রায় ৭/৮ হাজার টাকার কাজ করলেও সেই বিল পেতেও সময় লেগে যায় ৫/৬ মাস বা তারও বেশী। বিধায় করোনা কালে থাকা-খাওয়া , দৈনন্দিন খরচ চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন নকল নবীশরা। নিয়মানুযায়ী দলিল লেখকরা নকলের জন্য আবেদন করবে সাব-রেজিষ্ট্রি বরাবর, তিনি তার অধিনস্ত নকল নবীশদের মধ্যে সুষম বণ্টন করে নকল তৈরি করে তা অফিসিয়ালি সরবরাহ করবেন। কালিয়াকৈরের দলিল লেখকরা সরকারি নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে নিজেদের পছন্দের লোক দিয়ে নকল করিয়ে থাকেন।

কয়েকজন নকল নবীশের নিয়মিত যাতায়াত রয়েছে দলিল লেখকদের সেরেস্তায়। তাদের দাপটে কথা বলার সাহস পায় না বঞ্চিত নকল নবীশরা। প্রায় দুই বছর হয়ে গেলেও নতুন নকল নবীশ দোহাই দিয়ে তাদেরকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। এটা নিয়ে প্রায়ই বাক-বিতন্ডায় জড়িয়ে পড়ছেন নতুন-পুরাতন নকল নবীশরা। এ বিষয় নিয়ে গত ০৮/০১/২১ তারিখ গাজীপুর জেলা রেজিষ্ট্রার অহিদুল ইসলাম সরেজমিন পরিদর্শন করেন কালিয়াকৈর সাব-রেজিষ্ট্রি অফিস। তিনি আইজিআর এর নির্দেশ মোতাবেক সাব-রেজিষ্ট্রারকে নির্দেশ দেন। নকল প্রাপ্তির জন্য আবেদন করে দলিল লেখকরা নির্ধারিত ফি-সহ অফিসে জমা দিবেন এবং অফিস তা সবার মধ্যে সমবণ্টন করে নকল লিখে সরবরাহ করবেন আবেদনকারীকে । নকল নবীশদের দলিল লেখকদের সেরেস্তায় না যাওয়ার নির্দেশ দিয়ে বলেন, যে নকল নবীশ দলিল লেখকের সেরেস্তায় যাবেন তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবেন। গাজীপুর জেলার সকল সাব-রেজিষ্ট্রি অফিসে যে নিয়ম চালু আছে তা কালিয়াকৈরেও বাস্তবায়ন করার নির্দেশ দেন জেলা রেজিষ্ট্রার। তবে তা মানতে নারাজ দলিল লেখক সমিতির সভাপতি আব্দুল বারী , সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান এবং জনির নেতৃত্বে দলিল লেখকদের একাংশ।

তাদের দাবী তারা নিয়মিত সাব-রেজিষ্ট্রার এবং জেলা রেজিষ্ট্রারকে মোটা অংকের অর্থ দিয়ে থাকেন ,তাই তাদের এমন আদেশ মানতে নারাজ। এ নিয়ে দলিল লেখক আর নকল নবীশ দ্বন্দে একাধিকবার বন্ধ থাকে নকল সরবরাহের কাজ। এতে বিরম্বনায় পড়তে হচ্ছে দলিল সেবা প্রার্থীরা।

দলিল লেখক সমিতির সভাপতি আব্দুল বারী জানান, নকল নবীশদের দাবী বে-আইনী। আমাদের যাকে খুশি তাকে দিয়ে নকলের কাজ করাব। যদি অফিসের নিয়ম অনুযায়ী আবেদন করতে হয় তাহলে আমরা সরকার নির্ধারীত ফি“র বাইরে সাব-রেজিষ্ট্রারকে এক টাকাও দেবনা। এ বিষয়ে সাধারন সম্পাদক আব্দুল আজিজ জানান, জেলা রেজিষ্টারের নির্দেশনা মানা সম্ভব নয়। এ অফিস এতো দিনে যেভাবে চলে আসছে সেভাবেই চলবে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন দলিল লেখক জানান, সভাপতি সম্পাদকসহ কয়েকজন দলিল লেখক তাদের নিজস্ব নকল নবীশ দিয়ে অবিকল নকল করে থাকেন । কারণ কিছু দলিলে ক্রেতাকে না জানিয়ে জমির শ্রেণী পরিবর্তন এবং কম মুল্য নির্ধারণ করে দলিল রেজিষ্ট্রি করে সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দেয়ার পাশাপাশি ক্রেতার নিকট থেকেও নেয়া হয় অতিরিক্ত টাকা। এসব অপকর্ম ঢাকতেই নিজস্ব নকল নবীশ দিয়ে গোপনে নকল তৈরি করে তা ক্রেতাকে সরবরাহ করেন। এসব অনিয়ম থেকে কালিয়াকৈর সাব-রেজিষ্ট্রি অফিসকে মুক্ত করতে জোর দাবি জানিয়েছেন বঞ্চিত নকল নবীশ ও দলিল লেখকদের একাংশ।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাব-রেজিষ্ট্রার আমীর হামজা জানান, জেলা রেজিষ্ট্রার যে নির্দেশনা দিয়েছেন তা বাস্তবায়নের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। তবে কয়েকজন দলিল লেখক এবং পুরাতন কয়েকজন নকলনবীশের কারণে তা বাস্তবায়ন করা কঠিন হচ্ছে। বিষয়টি জেলা রেজিষ্ট্রারকে জানানো হবে।

নিউজনাউ/এসএ/২০২১

+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
আপনার মতামত জানান
%d bloggers like this: