ফেসবুকে ‘সমকামিতা গ্রুপ’ থেকে ডেকে এনে প্রতারণা, গ্রেপ্তার ২

চট্টগ্রাম ব্যুরো: চট্টগ্রাম গে (সমকামী) গ্রুপ থেকে বিভিন্ন কৌশলে কথা বলে ডেকে এনে প্রতারণা করে সর্বস্ব লুটে নিতো একটি চক্র। এমন ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে কোতোয়ালি থানা পুলিশ।

ফেসবুকের সমকামী গ্রুপ থেকে পরিচিত হয়ে রবিবার (২৩ মে) বিকালে নগরের কাজীর দেউড়ি শিশু পার্ক সংলগ্ন এলাকায় দেখা করতে আসেন ভুক্তভোগী নিজাম উদ্দিন। পরে তাকে সেই গ্রুপের কয়েকজন মিলে শিশু বলৎকারের কথা বলে মেরে তার মোবাইল সহ টাকা নিয়ে নেন। নিজাম তা টহল পুলিশকে জানালে সাথে সাথেই অভিযুক্তদের আটক করা হয়।

এ ঘটনায় গ্রেপ্তার হলো বোয়ালখালী উপজেলার কানুনগো বাড়ির সৌমেন বড়ুয়ার পুত্র অর্পণ বড়ুয়া (১৭) ও পটিয়া উপজেলার শোভনদন্ডী ইউনিয়নের বলির বাড়ির জাহাঙ্গীর আলমের পুত্র রাকিবুল ইসলাম আলিফ (১৬)।

সোমবার রাতে তাদের গ্রেপ্তারের কথা গণমাধ্যমে জানায় কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি নেজাম উদ্দিন।

পুলিশ জানায়, প্রায় এক সপ্তাহ আগে ভুক্তভোগী নিজাম উদ্দিন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকের মাধ্যমে CHITTAGONG GAY COMMUNICATION (সমকামিতা) নামক গ্রুপে যুক্ত হয়। গ্রুপে মেসেঞ্জার চ্যাটিংয়ের মাধ্যমে অর্পণ বড়ুয়ার সাথে যোগাযোগ হয়। এভাবে কয়েকদিন মেসেঞ্জারে কথা বলার পর ১নং আসামী গত শনিবার মোবাইলে কল দিয়ে সমকামিতা বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। আলোচনার একপর্যায়ে কাজীর দেউরী শিশু পার্কের সামনে সরাসরি দেখা করার কথা হয়। কথা মতো নিজাম গত রোববার বিকেল সাড়ে চারটার সময় কাজীর দেউরী মোড়ে গিয়ে অর্পণ বড়ুয়ার সাথে দেখা করেন। এসময় আগে থেকে সেখানে থাকা গ্রুপের অন্য সদস্যরা জড়ো হয়। কথা বলার এক পর্যায়ে আসামীরা নিজাম উদ্দিনকে অবরুদ্ধ করে এবং তাকে ছেলেদের সাথে বলৎকার করার জন্য এসেছে বলে মেরে তার পকেটে থাকা SAMSUNG J2 মডেলের মোবাইল ফোনটি নিয়ে নেয় এবং সব পকেট চেক করার পর টাকা পয়সা না পেয়ে তার স্ত্রীকে ফোন করে ১০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। দাবিকৃত চাঁদা তাদের বিকাশ নাম্বারে না পাঠালে না নিজাম উদ্দিনকে মেরে ফেলা হবে বলে তার স্ত্রীকে ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদান করে। কিন্তু তার স্ত্রী তাদের কথামতে টাকা পাঠাতে দেরি করায় আসামীরা মিলে নিজাম উদ্দিনকে এলোপাতাড়ি কিল ঘুষি মেরে ছেড়ে দেয়। আর ঘটনাটি কাউকে জানালে প্রাণে মেরে লাশ গুম করে ফেলার হুমকি তারা চলে যায়।

পরবর্তীতে নিজাম কাজির দেউরী মোড়ে এসে সেখানে থাকা টহল পুলিশের এসআই মেহেদী হাসানকে ঘটনার বিষয়টি জানালে তাকে সঙ্গে নিয়ে কাজির দেউরী ও এর আশপাশ এলাকায় খোঁজাখুঁজি দুইজনকে গ্রেপ্তার করে। একই সাথে নিজাম উদ্দিনের মোবাইলটি জব্দ করে। গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পলাতক গ্রুপের সদস্যদের নিয়ে ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে বলে জানান ওসি নেজাম উদ্দিন।

তিনি বলেম, আসামীরা একটি সংঘবদ্ধ চক্র। তারা পরস্পর যোগসাজশে অনলাইনে একটি গ্রুপ করে উক্ত গ্রুপের মাধ্যমে চ্যাটিং করে। চ্যাটিং করতে করতে তারা একটি প্রতারণার ফাঁদ তৈরি করে। কোন ব্যক্তি যদি তাদের কথার ছলে চলে আসে তাহলে তারা দেখা করার নামে উক্ত ব্যক্তিকে একটি নির্দিষ্ট স্থানে নিয়ে কথাবার্তা বলার আড়ালে তাদের গ্রুপের অন্যান্য সদস্যরা উক্ত স্থানে এসে হাজির হয় এবং যে ব্যক্তি দেখা করতে আসে তাকে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে তার কাছে যা পায় সর্বস্ব লুটে নেয়। তারা আটকে রেখে টাকা দাবী করে এবং দাবীকৃত টাকা না পেলে বা দিতে দেরী করলে মারধর করে চলে যায়।

তিনি আরো বলেন, রবিবারের ঘটনায় ভুক্তভোগী নিজাম উদ্দিন মামলা দায়ের করেছেন। বাকি আসামীদের গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়া চলছে।

নিউজনাউ/আরবি/২০২১

+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
আপনার মতামত জানান
%d bloggers like this: