‘আত্মহত্যার চেয়ে করোনার সাথে যুদ্ধ কি অধিক উপযোগী নয়?’

চবি প্রতিনিধি: বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় আমাদের বাড়িতে থাকতে হচ্ছে। অসমাপ্ত শিক্ষাজীবন নিয়ে চাকরির কোন সুযোগ নেই। পরিবার থেকে প্রতিনিয়ত চাপের মুখে পড়তে হচ্ছে৷ মুখোমুখি হতে হচ্ছে সমাজের বিভিন্ন মানুষের বুলির। আর এসব আমাদের অপদার্থ হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছে চারপাশের মানুষের কাছে। যা একজন শিক্ষার্থীর জন্য খুবই মর্মান্তিক যন্ত্রণা। আর এর জন্য দায়ী আমাদের শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা ও সরকার। দেশের সব সচল রয়েছে কেবল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অচল। রাস্তা-ঘাট, বিনোদনকেন্দ্র, শপিংমল সব কিছু খোলা থাকতে পারে, কেবল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যতো সমস্যা। করোনার সাথে যুদ্ধ করেই আমাদের বাঁচতে হবে। এর জন্য থমকে গেলে চলবে না। আমরা সেটাই চাই। ডিপ্রেশনে পড়ে আত্মহত্যা করার চেয়ে করোনার সাথে যুদ্ধ কি অধিক উপযোগী নয়?

সোমবার (২৪ মে) চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধনে কথাগুলো বলছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাসরিন আক্তার।

করোনাভাইরাসের কারণে লাগাতার বন্ধ থাকা দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর হল-ক্যাম্পাস অবিলম্বে খোলার দাবি জানিয়েছে চট্টগ্রামের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। সেই সাথে বন্ধের এই সময়ে কলেজের বেতন মওকুফেরও দাবি জানান তারা।

সরকারি সিটি কলেজে থেকে সদ্য উচ্চমাধ্যমিক পাস করা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী প্রান্ত বড়ুয়া বলেন, আমরা উচ্চ মাধ্যমিক পাস করে ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছি। কিন্তু ভর্তি পরীক্ষার সময়সূচী পেছানোর ফলে মানসিক চাপ ও পরীক্ষার প্রস্তুতিতে ব্যাঘাত সৃষ্টি করছে।

দফায় দফায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধে দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে পঙ্গু করা হচ্ছে মন্তব্য করে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাইফুর রুদ্র বলেন, সেই ২০১৯ সাল থেকে বন্ধ আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এমন পরিস্থিতিতে আমাদের শিক্ষাজীবন প্রায় বিপন্নের পথে। এই বন্ধ আমাদের চরম দুর্ভোগের সৃষ্টি করছে। শিক্ষার্থীরা হতাশাগ্রস্ত হয়ে ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। অনেকে পড়াশোনা ছেড়ে দিয়ে প্রবাসে বা দিনমজুরের কাজে যেতে বাধ্য হচ্ছে। কি বেহাল দশা আমাদের শিক্ষার। আমাদের যদি এসবই করতে হয়ে তবে শিক্ষার দরকার কি। আমরা চাই অবিলম্বে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া হোক।

শিক্ষামন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে আগ্রবাবাদ মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী ফায়রোজা বলেন, আজকে অনলাইনে ক্লাস নেওয়া হচ্ছে পরীক্ষা নেওয়ার কথা চলছে৷ কিন্তু দেশের অধিকাংশ শিক্ষার্থী গ্রামে থাকে। যেখানে নেট কানেকশন পাওয়াই বড় দায়৷ শিক্ষার্থীরা ক্লাস পরীক্ষা করবে কিভাবে। আজকে অসংখ্য শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন ধ্বংসের পথে। আর এর জন্য দায়ী শিক্ষামন্ত্রী আপনিই।

এমবিবিএস পরীক্ষার্থী ইমন বলেন, মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী আপনি দেশের ৯৫ ভাগ অভিভাবকদের বিরুদ্ধে কথা বলছেন। অভিভাবকরা চায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা। আপনি ভয় পাচ্ছেন। ১৫% শিক্ষার্থী দারিদ্রতার কারণে পড়াশোনা ছাড়ছে। এর দায় কে নিবে? আপনার সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থীরা মানে না। আমরা চাই অবিলম্বে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া হোক। তা না হলে আমরা রাজপথে নামবো।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জহিরুল ইসলামের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে আরো বক্তব্য রাখেন, চবি শিক্ষার্থী ঋজু লক্ষী অবরোধ, ওসমান, সুধী কুমার তঞ্চঙ্গা, জিলানী, দোসর রহমান, দ্রুব ভাট্টাচার্য, সায়মন, চট্টগ্রাম সিটি কলেজে শিক্ষার্থী শাহেদুল ইসলাম,ফারুক হোসেন, প্রান্তসহ অন্যান্যরা। এতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন।

নিউজনাউ/পিপিএন/২০২১

+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
আপনার মতামত জানান
%d bloggers like this: