হবিগঞ্জে পিডিবির খামখেয়ালিপনায় বিপর্যস্ত জনজীবন

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি: এক দিকে প্রচণ্ড গরম অন্যদিকে লোডশেডিং ! এ যেন হবিগঞ্জ শহরের নিত্যদিনের চিত্র। অতিরিক্ত লোডশেডিংয়ের ফলে জনজীবন একবারে বিপর্যস্ত ও অতিষ্ঠ। হবিগঞ্জের প্রতিটি মানুষের মুখে মুখে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)’র সেবা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের শেষ নেই।

প্রচণ্ড গরমের তীব্র তাপমাত্রার এই সময়ে হবিগঞ্জ শহরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিং ও ঘনঘন বিদ্যুৎ নেয়ার কারণে ফুঁসে ওঠেছে নাগরিকরা।

অভিযোগের তালিকায় রয়েছে অতিরিক্ত লোডশেডিং, প্রতি শনিবারে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করে রাখা, বিদ্যুৎ এর ভোল্টেজ কম, মাসিক অতিরিক্ত বিল, প্রিপেইড মিটারে অনিয়ম ইত্যাদি। আর এইসব নিম্ন মানের সেবা দিয়ে যাচ্ছে বছরের পর বছর বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড হবিগঞ্জ।

আকাশে বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে হবিগঞ্জে বিদ্যুৎ নেই। সামান্য বৃষ্টি হচ্ছে; ঘণ্টার পর ঘণ্টা হবিগঞ্জ শহর অন্ধকার। এইভাবেই চলছে শহরের বিদ্যুৎ সেবা। আর নেই কোন এর সঠিক সমাধান, নেই অভিযোগ করার মতোও কোনও স্থান। এই বিষয়ে নীরব ভূমিকা পালন করছেন জেলা প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, হবিগঞ্জে কয়েকবছর আগেও এইরকম লোডশেডিং হতো না। এখন ব্যাপকভাবে লোডশেডিং হচ্ছে। এর পিছনে অন্যতম কারণ হল হবিগঞ্জে অতিরিক্ত শিল্পায়ন, শহরে অবৈধ টমটম ও অটোরিকশা বৃদ্ধি। আর প্রশাসনও ব্যর্থ এদের বিরুদ্ধে সঠিক ব্যবস্থা গ্রহণে।

এবিষয়ে বৃন্দাবন সরকারি কলেজর শিক্ষার্থী মাহমুদ নিউজনাউকে বলেন, “করোনা ভাইরাসের কারণে পড়াশোনা, ক্লাস, প্রায় সব কাজ অনলাইন নির্ভরশীল কিন্তু লোডশেডিংয়ের কারণে কোনো কিছুই করার উপায় নেই।”

হবিগঞ্জ পৌরসভার ৯ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা সাকিবুর রহমান নিউজনাউকে জানান, “গত কয়েক দিন যাবত ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিরতিহীন ভাবে লোডশেডিং হচ্ছে। বিদ্যুৎবিহীন গরমে মানুষ নাজেহাল। আর এইভাবে লোডশেডিংয়ের ফলে কোনো ইলেকট্রিক ডিভাইসই ঠিক থাকবে না।”

মুশাহিদ নামে একজন ব্যবসায়ী নিউজনাউকে জানান, “বিদ্যুৎ বিহীন চলা মুশকিল। বিশেষ করে আমরা যারা ব্যবসায়ী তাদের উপর প্রভাব টা বেশি পরে। ঠিক মত আমরা ব্যবসা করতে পারি না। বিদ্যুৎ এর উপর আমরা নির্ভরশীল।”

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ইমাম সাহেব নিউজনাউকে জানান, “আজানের সময়ও বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করে রাখে। যার কারণে মুসল্লিরা ঠিক মতো নামাজ আদায় করতে পারে না। আবার অতিরিক্ত লোডশেডিং এর কারণে মসজিদের এসিতেও সমস্যা হয়।”

হবিগঞ্জ জেলা সচেতন নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব ফরহাদ আহম্মেদ চৌধুরী নিউজনাউকে বলেন, “মাত্রাতিরিক্ত লোডশেডিংয়ে হবিগঞ্জ-বাসীর জনজীবন দূর্বিষহ হয়ে পড়েছে, ঘণ্টায় দুই,তিন বার বিদ্যুৎ আসা যাওয়া করে। তীব্র গরমে এই লকডাউনের মধ্যে আমরা অতিষ্ঠ৷ শীঘ্রই এই সুরাহা না হলে হবিগঞ্জ-বাসী রাস্তায় নামতে বাধ্য হবে।”

উল্লেখ্য, হবিগঞ্জে ৩৩ কেভি সহ কয়েকটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র থাকা সত্ত্বেও হবিগঞ্জ শহরের মানুষ পুরোপুরি ভাবে বিদ্যুৎ পাচ্ছেন না। যথেষ্ট পরিমাণের বিদ্যুৎ থাকা সত্ত্বেও কি কারণে এত লোডশেডিং আর নিম্ন মানের সেবা দিচ্ছে পিডিবি সেই প্রশ্ন হবিগঞ্জের জনসাধারণের ?

হবিগঞ্জ পিডিবির নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল মজিদ নিউজনাউকে বলেন, “শাহজীবাজার বিদ্যুৎ-কেন্দ্রের ৩৩ কেভি লাইনে সমস্যার জন্যে এই সমস্যা হচ্ছে। কেন্দ্রের কন্ট্রোল রুমের সার্কিট কখনো পুরে যায় তো কখনো জাম্পাট ছুটে যায়। আর এই কারণে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সংযোগ নিশ্চিত করতে আমরা আন্তরিক রয়েছি।

নিউজনাউ/আরবি/২০২১

+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
আপনার মতামত জানান
%d bloggers like this: