বরিশালে চাঁদাবাজি মামলার আসামীকে ছাড়াতে আ’লীগ নেতাকর্মীদের থানা ঘেরাও

বরিশাল ব্যুরো : বরিশালে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় চাঁদাবাজি মামলার এজাহারভুক্ত আসামীকে গ্রেপ্তার করায় তার মুক্তির দাবিতে থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছেন মহানগর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।

সোমবার (১৭ মে) বেলা ১২টা থেকে দুপুর সোয়া একটা পর্যন্ত বরিশাল এয়ারপোর্ট থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছেন তারা। এসময় বিক্ষোভকারীরা গ্রেপ্তারকৃতের মুক্তির জন্য আল্টিমেটামও দিয়েছেন।

এর আগে রবিবার রাতে চাঁদবাজির মামলার প্রধান আসামী রিপন বিশ্বাসকে (৩৫) কাশিপুর ভূঁইয়া বাড়ি সড়ক থেকে গ্রেপ্তার করেছে এয়ারপোর্ট থানা পুলিশ। রিপন বিশ্বাস ওই এলাকার আব্দুর রহিম বিশ্বাসের পুত্র এবং মহানগর আওয়ামী লীগের ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য।

থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নগরের কাশিপুর বাজারে ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক থেকে রিপন বিশ্বাসের নেতৃত্বে বিট তুলতো তার (রিপন) সহযোগিরা। বিট আদায় বন্ধ করতে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল- বাসদ এর জেলা কমিটির নেতৃত্বে ইজিবাইক সংগ্রাম কমিটি গঠন করা হয়।

কমিটির উপদেষ্টা বাসদ জেলার সদস্য সচিব ডাঃ মনীষা চক্রবর্তী বলেন, রিপন বিশ্বাসের নেতৃত্বে বিট বা চাঁদা দাবি করা হলে আমাদের সংগ্রাম কমিটির নেতৃত্ব তাদিতে অস্বীকৃতি জানানো হয়। এজন্য আমাদের সদস্যদের ওপর হামলা এবং ইজিবাইক ভাংচুর করা হয়। এ ঘটনায় গত ৩০ মার্চ ইজিবাইক সংগ্রাম কমিটির নেতা গোলাম রসুল বাদি হয়ে রিপন বিশ্বাসকে প্রধান আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলার প্রধান আসামি রিপন বিশ্বাসকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে।

এদিকে রিপনকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে সদর রোডের দলীয় কার্যালয়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা সমাবেশ করেন। মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসান মাহমুদ বাবু’র নেতৃত্বে দলীয় কার্যালয়ের সামনে প্রতিবাদ সমাবেশে বিকেলে পাঁচটার মধ্যে আওয়ামী লীগ নেতা রিপন বিশ্বাসকে ছেড়ে না দিলে কঠোর আন্দোলনের হুশিয়ারী দেয়া হয়।

এসময় মহানগর আওয়ামী লীগের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসান মাহমুদ বাবু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট গোলাম সরোয়ার রাজিব, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক জিয়াউর রহমান জিয়া, সাংস্কৃতিক সম্পাদক মিজানুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

এয়ারপোর্ট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কমলেশ চন্দ্র হালদার বলেন, চাঁদাবাজি এবং হামলার অভিযোগে দায়ের করা মামলার আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। তবে থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভের বিষয়টি অস্বীকার করে ওসি বলেন, দলীয় কিছু লোকজন এসেছিলেন। তারা আমার সাথে কথা বলে চলে গেছেন। রিপন বিশ্বাসকে ছাড়া না ছাড়া আদালতের ব্যাপার।

নিউজনাউ/পিপিএন/২০২১

+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
আপনার মতামত জানান
%d bloggers like this: