২০ বছরেও হয়নি ই-বর্জ নীতিমালা

নিউজনাউ ডেস্ক: বিশ্বে প্রযুক্তির আগ্রগতির সাথে তাল মিলিয়ে বিকাশ ঘটেছে দেশে প্রযুক্তির ব্যবহার তথা প্রযুক্তির পণ্য ব্যবহার। সেই সাথে প্রযুক্তির আধুনিকায়নের ফলে পরিত্যাক্ত হয়েছে পুরানো প্রযুক্তির পণ্য ব্যবহার। আর সে সাথে অব্যবহৃত বা অকেজো পণ্যের ভাগাড়ে পরিণত হচ্ছে সমগ্র দেশ।

অথচ এসব বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণ বা ধ্বংসে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় তা পরিবেশের জন্য ভয়াবহ হুমকির কাণ হতে পারে। তাই নীতিমালা-আইন করার মাধ্যমে এখনই ইলেকট্রনিক্স বর্জ্যের (ই-বর্জ্য) লাগাম টানা প্রয়োজন। নয়তো অন্যান্য বর্জ্যের তুলনায় ই-বর্জ্য দেশের জন্য অপূরণীয় ক্ষতির কারণ হয়ে উঠবে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

মাইক বাজিয়ে ভ্যানগাড়িতে করে শহর কিংবা গ্রামে প্রতিনিয়ত অব্যবহৃত-অকেজো প্রযুক্তি পণ্য সংগ্রহ করেন হকাররা। এর মধ্য থেকে কিছু পণ্য মেরামত করে পুনরায় ব্যবহার উপযোগী করে বিক্রি করা হয়, আর কিছু পণ্য রিসাইক্লিং করা হয়ে থাকে। তবে এর বাইরে বড় অংশজুড়ে প্রযুক্তি পণ্য মাটির সঙ্গে মিশে উর্বরতা ধ্বংসের পাশাপাশি পরিবেশের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলছে।

দৈনন্দিন ব্যবহৃত পণ্যের মেয়াদ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সবচেয়ে বেশি বর্জ্য তৈরি হচ্ছে— মোবাইলফোন, কম্পিউটার, প্রিন্টার, টেলিভিশন, এয়ারকন্ডিশনার, বৈদ্যুতিক বাতি এবং বিভিন্ন রকমের ইলেকট্রনিক খেলনা থেকে। এসব বর্জ্য রয়েছে সিসা, পারদ, লিড অক্সাইড, ক্যাডমিয়াম জাতীয় ধাতব ও রাসায়নিক উপাদান। যা মানুষের ত্বক, ফুসফুস, মস্তিষ্ক. স্নায়ুতন্ত্রসহ বিভিন্ন ক্ষতির কারণ হতে পারে।

ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় এখনই কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে ভয়ানক ক্ষতিকর হবে বলে মনে করেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার। তিনি বলেন, ‘দেশে জ্যামিতিক হারে মোবাইলফোনসহ অন্যান্য প্রযুক্তি পণ্যের ব্যবহার বেড়েই চলেছে। সেই সঙ্গে এসব থেকে বিপুল সংখ্যক ই-বর্জ্য তৈরি হচ্ছে। দেশে সাধারণ ও মেডিক্যাল বর্জ্য সংগ্রহের জন্য বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। কিন্তু ই-বর্জ্য ধ্বংস বা সংগ্রহের জন্য কোনও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি। অথচ অন্যান্য বর্জ্যের তুলনায় ই-বর্জ্য সবচেয়ে বেশি ক্ষতিকর।’

ভয়াবহতা সত্ত্বেও এ বিষয়ে নীতিমালার খসড়া চূড়ান্ত করে প্রকাশ না করায় অসন্তোষ প্রকাশ করেন মোস্তাফা জব্বার। তিনি বলেন, ‘বিগত ২০ বছর ধরে ই-বর্জ্যের একটি নীতিমালা প্রণয়নের চেষ্টা করে যাচ্ছি। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের একটি নীতিমালার (ডিসপোজাল ম্যানেজমেন্ট রুল) খসড়া পরিবেশ অধিদফতরে পড়ে আছে।’

খসড়া নীতিমালার সর্বশেষ অবস্থান জানতে কথা হয় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিনের সঙ্গে। তিনি জানান, ভেটিংসহ অন্যান্য প্রক্রিয়া শেষে নীতিমালার খসড়াটি এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। খুব শিগগিরই খসড়াটি বিজি প্রেসে ছাপানোর জন্য পাঠানো হবে।’

সুত্র: বাংলা ট্রিবিউন

নিউজনাউ/টিএন/২০২১

+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
আপনার মতামত জানান
%d bloggers like this: