সমালোচকরা কী করেছেন: প্রধানমন্ত্রী

নিউজনাউ ডেস্ক: মহামারিতে সরকারের সমালোচকরা মানুষের জন্য কী করছেন, জানতে চেয়েছেন প্রধামন্ত্রী শেখ হাসিনা। যদি তারা কিছু করে থাকেন তবে তা প্রকাশ করার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। রবিবার গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত দরিদ্র ও অসহায় মানুষকে মোবাইল ব্যাংকিং পরিষেবার মাধ্যমে আর্থিক সহায়তার দ্বিতীয় পর্যায়ের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

ভোলা, জয়পুরহাট ও চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক কার্যালয় থেকে স্থানীয় সংসদ, জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা ও উপকারভোগীরা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অনুষ্ঠানে যুক্ত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী তাদের সঙ্গেও মতবিনিময় করেন। প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস গণভবন থেকে অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন। অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, অর্থ বিভাগের সিনিয়র সচিব আবদুর রউফ তালুকদার, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের (পিএমও) সচিব তোফাজ্জল হোসেন মিয়া উপস্থিত ছিলেন।

এই কার্যক্রমের আওতায় প্রধানমন্ত্রী ঈদ উপহার হিসেবে সাড়ে ৩৬ লাখ নিম্ন আয়ের মানুষ আড়াই হাজার টাকা করে সহায়তা পাবেন। এজন্য ৯১২ দশমিক ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। উদ্বোধনের দিনই ২২ হাজার ৮৯৫ জনের কাছে সহায়তার টাকা পৌঁছানো হয়েছে।

বিএনপি নেতাদের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অনেকেই শক্তিশালী বিরোধী দল চায়। আমরাও তো বিরোধী দলে ছিলাম। বিরোধী দলে থাকতে যে কোনো দুর্যোগ, দুর্বিপাকে আমরা সবার আগে ছুটে গিয়েছি। এটাই বিরোধী দলের কাজ। কিন্তু আজকে যারা নিজেদের বিরোধী দল বা প্রতিদিন সরকার উৎখাতের জন্য বক্তৃতা-বিবৃতি, আন্দোলনের নামে পোড়াও-জ্বালাও করে যাচ্ছেন, দুর্যোগে মানুষের পাশে কোথায় তারা? কয়টা দুর্গত মানুষের মুখে তারা খাবার তুলে দিয়েছেন? কয়টা মানুষের পাশে তারা দাঁড়িয়েছেন? কয়জন মানুষের কাফনের কাপড় কিনে দিয়েছেন? কেউ নেই।’

যারা সমাজে ‘বুদ্ধিজীবী’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন, তাদের সমালোচনা করে সরকারপ্রধান বলেন, ‘তাদের বুদ্ধিটা যখন খোলে এবং তারা পরামর্শ দেন, তার আগেই কিন্তু আমাদের সরকার এ ব্যাপারে যথাযথ পদক্ষেপ নিয়ে নেয়।’ সরকার যখন মানুষের কল্যাণে সব পরিকল্পনা গুছিয়ে আনে বা বাজেটে কোন কোন খাতের ওপর বেশি গুরুত্ব দেবে, তা যখন চূড়ান্ত হয়ে যায়, তখন সেই বুদ্ধিজীবীদের ‘দুই একটা বুদ্ধি খোলে’।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর করোনা মহামারির কারণে নিুআয়ের যারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত এবং কর্মহীন হয়ে পড়েছিল তাদের সহায়তার জন্য ‘নগদ আর্থিক সহায়তা প্রদান’ কর্মসূচি চালু করা হয়েছিল। ২০২০ সালে করোনা মহামারিতে ক্ষতিগ্রস্ত ৩৫ লাখ পরিবারকে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে ৮৮০ কোটি টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টে বা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সরাসরি এই অর্থ দেওয়া হয়েছিল।

১০ কোটি টাকা ব্যক্তিগত অনুদান : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত ও গৃহহীনদের সহায়তায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্মৃতি ট্রাস্টের পক্ষ থেকে ১০ কোটি টাকা অনুদান দিয়েছেন। এর মধ্যে ৫ কোটি টাকা ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য। বাকি ৫ কোটি টাকা গৃহনির্মাণের জন্য।

নিউজনাউ/এসএ/২০২১

+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
এছাড়া, আরও পড়ুনঃ
মন্তব্য
Loading...
%d bloggers like this: